News

নিউজিল্যান্ডে নির্বাচনে হাড্ডাহাড্ডি লড়াই, সরকার গঠনে অপেক্ষা ২৭ নভেম্বর পর্যন্ত

নিউজিল্যান্ডের সাধারণ নির্বাচনে হাড্ডাহাড্ডি লড়াইয়ের পরও নতুন সরকার কারা গঠন করবে, তা নিশ্চিত হতে আরও তিন সপ্তাহ অপেক্ষা করতে হবে। শনিবারের নির্বাচনে প্রধানমন্ত্রী ক্রিস্টোফার লাকসনের নেতৃত্বাধীন মধ্য-ডানপন্থি জোট সামান্য ব্যবধানে এগিয়ে থাকলেও প্রায় ১৪ শতাংশ ভোট এখনো গণনা বাকি। এসব ভোটের ফল আগামী ২৭ নভেম্বর প্রকাশ করবে দেশটির নির্বাচন কমিশন। ফলে তত দিন পর্যন্ত সরকার গঠন নিয়ে অনিশ্চয়তা কাটছে না।

বার্তা সংস্থা রয়টার্সের খবরে বলা হয়েছে, নির্বাচন কমিশনের প্রাথমিক ফল অনুযায়ী, লাকসনের ন্যাশনাল পার্টি এবং তাদের দুই শরিক অ্যাক্ট ও নিউজিল্যান্ড ফার্স্ট মিলে ১৩১ আসনের পার্লামেন্টে ৬৭টি আসন পাওয়ার পথে রয়েছে। সরকার গঠনের জন্য প্রয়োজন ৬৬টি আসন। অর্থাৎ, বর্তমান হিসাব অনুযায়ী ক্ষমতাসীন জোট সংখ্যাগরিষ্ঠতা পেলেও ব্যবধান মাত্র একটি আসন।

তবে এখনো বিশেষ ভোট গণনা বাকি। এর মধ্যে বিদেশে অবস্থানরত নিউজিল্যান্ডের নাগরিকদের ভোট এবং নিজ নির্বাচনি এলাকার বাইরে দেওয়া ভোট রয়েছে। অতীতের নির্বাচনে এসব ভোটের বড় অংশ বামপন্থি দলগুলোর পক্ষে গেছে। ফলে চূড়ান্ত ফল প্রকাশের পর বর্তমান জোট সংখ্যাগরিষ্ঠতা হারাতে পারে। নতুন সরকার গঠিত না হওয়া পর্যন্ত লাকসনের নেতৃত্বে তত্ত্বাবধায়ক সরকার দায়িত্ব পালন করবে।

সরকার গঠনে নির্ধারক হতে পারে নতুন দল

বর্তমান জোট সংখ্যাগরিষ্ঠতা হারালে সরকার গঠনের সমীকরণে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে মধ্যপন্থি অপরচুনিটি পার্টি। দলটি এবার প্রথমবারের মতো পার্লামেন্টে প্রবেশ করতে পারে বলে প্রাথমিক ফলাফলে ইঙ্গিত পাওয়া যাচ্ছে। সে ক্ষেত্রে ন্যাশনাল নেতৃত্বাধীন জোট কিংবা বিরোধী লেবার পার্টির নেতৃত্বাধীন বামপন্থি জোট— উভয় পক্ষেরই সরকার গঠনে দলটির সমর্থন প্রয়োজন হতে পারে।

আরো পড়ুন

নির্বাচনের আগে অপরচুনিটি পার্টির সঙ্গে জোট করার সম্ভাবনা বারবার নাকচ করেছিলেন লাকসন। তবে রোববার (৮ নভেম্বর) সংবাদ সম্মেলনে তিনি আগের অবস্থান থেকে কিছুটা সরে আসেন। দলটির সঙ্গে সম্পর্ক গড়ে তোলা যথাযথ হবে বলে মন্তব্য করেন তিনি।

ভিক্টোরিয়া ইউনিভার্সিটি অব ওয়েলিংটনের রাষ্ট্রবিজ্ঞানের জ্যেষ্ঠ প্রভাষক মোনা ক্রুয়েল মনে করেন, ন্যাশনাল ও অপরচুনিটি পার্টির মধ্যে সমঝোতা সম্ভব। তার মতে, অপরচুনিটি একটি মধ্যপন্থি ও বাস্তববাদী দল।

অন্যদিকে নির্বাচনের পর কোনো পক্ষই বিজয় দাবি করেনি। লাকসন বলেছেন, নির্বাচন যে এত প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ হবে, তা আগেই ধারণা করেছিলেন। বর্তমান ফলাফলে শরিকদের নিয়ে সরকার গঠন করা সম্ভব বলেও মন্তব্য করেছেন তিনি। বিরোধী লেবার পার্টির নেতা ক্রিস হিপকিনসও নির্বাচনের ফল নিয়ে অপেক্ষার অবস্থান নিয়েছেন।

ভোটের রাতে দলের এক অনুষ্ঠানে নিউজিল্যান্ডের লেবার পার্টির নেতা ক্রিস হিপকিনস। ছবি: সংগৃহীত
ভোটের রাতে দলের এক অনুষ্ঠানে নিউজিল্যান্ডের লেবার পার্টির নেতা ক্রিস হিপকিনস। ছবি: সংগৃহীত

২ প্রধান দলের জনপ্রিয়তায় ভাটা

এবারের নির্বাচনে ন্যাশনাল ও লেবার— দুই দলেরই জনপ্রিয় ভোট ৩০ শতাংশের নিচে নেমে এসেছে। ১৯৯৬ সালে মিশ্র সদস্য আনুপাতিক প্রতিনিধিত্ব পদ্ধতি চালুর পর এটি দুই দলের জন্যই সর্বনিম্ন। জীবনযাত্রার ব্যয় বৃদ্ধি, অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির ধীরগতি এবং সরকারের প্রতি অসন্তোষ নির্বাচনে গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব ফেলেছে।

নিউজিল্যান্ডের নির্বাচনি ব্যবস্থায় ভোটাররা একটি ভোট দেন রাজনৈতিক দলকে এবং অন্যটি নিজ এলাকার প্রার্থীকে। পার্লামেন্টের আসনসংখ্যা সাধারণত দলগুলোর প্রাপ্ত জনপ্রিয় ভোটের অনুপাতে নির্ধারিত হলেও নির্বাচনি এলাকার আসনের ফলাফলে এবার ভিন্ন সমীকরণ তৈরি হয়েছে।

ন্যাশনাল ও ছোট দল তে পাতি মাওরি জনপ্রিয় ভোটের তুলনায় বেশি নির্বাচনি এলাকার আসন পেয়েছে। রাজনৈতিক বিশ্লেষক বেন থমাসের মতে, এতে নির্বাচনি ব্যবস্থার ইতিহাসে সবচেয়ে কম আনুপাতিক প্রতিনিধিত্বের পার্লামেন্ট গঠিত হওয়ার পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে।

নিউজিল্যান্ডের নতুন রাজনৈতিক দল অপরচুনিটি পার্টি কেবল প্রথমবারের মতো সংসদে প্রবেশ করতেই যাচ্ছে না, বরং এখন পর্যন্ত প্রাপ্ত ফলাফলে ধারণা করা হচ্ছে— সরকার গঠনেও তারা বড় ভূমিকা রাখতে পারে। ছবি: সংগৃহীত
নিউজিল্যান্ডের নতুন রাজনৈতিক দল অপরচুনিটি পার্টি কেবল প্রথমবারের মতো সংসদে প্রবেশ করতেই যাচ্ছে না, বরং এখন পর্যন্ত প্রাপ্ত ফলাফলে ধারণা করা হচ্ছে— সরকার গঠনেও তারা বড় ভূমিকা রাখতে পারে। ছবি: সংগৃহীত

নির্বাচনে ন্যাশনালের তুলনামূলক কম জনপ্রিয় ভোটের কারণে দলটির কয়েকজন জ্যেষ্ঠ নেতাও পরবর্তী পার্লামেন্টে জায়গা হারাতে পারেন। তাদের মধ্যে রয়েছেন অর্থমন্ত্রী নিকোলা উইলিস। তবে পরবর্তী চার সপ্তাহ তিনি দায়িত্বে থাকবেন। ন্যাশনালের সংসদ সদস্য সিমিওন ব্রাউন ফলাফলকে ‘মিশ্র অনুভূতির’ বলে বর্ণনা করেছেন।

সব মিলিয়ে, নির্বাচনে বর্তমান জোট প্রাথমিকভাবে এগিয়ে থাকলেও বিশেষ ভোটের গণনা এবং অপরচুনিটি পার্টির সম্ভাব্য ভূমিকার ওপর নির্ভর করছে নিউজিল্যান্ডের পরবর্তী সরকারের চূড়ান্ত রূপ। আগামী ২৭ নভেম্বরের আগে সেই অনিশ্চয়তা কাটার সম্ভাবনা নেই।

source: Rajneete

Back to top button