মধ্যবর্তী নির্বাচনে ‘নীল ঢেউ’, ঐক্যের বার্তা ডেমোক্র্যাট নেতৃত্বের

যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচনে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ও রিপাবলিকান পার্টির বিরুদ্ধে বড় ধরনের রাজনৈতিক প্রত্যাখ্যানের পর উচ্ছ্বাসে ভাসছেন ডেমোক্র্যাটদের প্রগতিশীল অংশের নেতারা। একের পর এক গুরুত্বপূর্ণ আসনে জয় ও কংগ্রেসের উভয় কক্ষের নিয়ন্ত্রণ ফিরে পাওয়াকে তারা শুধু ট্রাম্প প্রশাসনের বিরুদ্ধে জনরায় হিসেবে দেখছেন না, বরং ডেমোক্র্যাট পার্টির প্রচলিত মধ্যপন্থি নেতৃত্বের প্রতিও ভোটারদের অসন্তোষের প্রকাশ হিসেবে তুলে ধরছেন।
অন্যদিকে দলের শীর্ষ নেতারা বিজয়ের পর বিভাজন ভুলে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করার আহ্বান জানিয়েছেন। তারা বলছেন, তাদের অগ্রাধিকার হবে জীবনযাত্রার ব্যয় কমানো, দুর্নীতির বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া এবং ট্রাম্প প্রশাসনের কর্মকাণ্ডের জবাবদিহি নিশ্চিত করা।
মঙ্গলবার অনুষ্ঠিত নির্বাচনে ডেমোক্র্যাটরা এমন কিছু রাজ্য ও আসনে জয় পেয়েছে, যেগুলো দীর্ঘদিন রিপাবলিকানদের শক্ত ঘাঁটি হিসেবে পরিচিত ছিল। টেক্সাস থেকে মিশিগান পর্যন্ত বিভিন্ন নির্বাচনে বামঘেঁষা প্রার্থীদের জয় প্রগতিশীল শিবিরকে বিশেষভাবে আত্মবিশ্বাসী করে তুলেছে। হাউজ অব রিপ্রেজেন্টেটিভসের পাশাপাশি সিনেটের নিয়ন্ত্রণও ফিরে পেয়েছে দলটি। নিউইয়র্ক টাইমসের বিশ্লেষণ, হাউজ নির্বাচনে ডেমোক্র্যাটদের পাওয়া জনপ্রিয় ভোটের হার ১৯৭৬ সালের পর যেকোনো নির্বাচনের তুলনায় সর্বোচ্চ।
প্রগতিশীল সংগঠনগুলোর দাবি, এ বিজয়ের পেছনে তাদের দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক প্রচার ও নীতিগত অবস্থানের বড় ভূমিকা রয়েছে। জাস্টিস ডেমোক্র্যাটসের মুখপাত্র উসামা আন্দ্রাবি বলেছেন, এবারের ফলাফল করপোরেট স্বার্থনির্ভর ও ধীরগতির সংস্কারনীতির প্রতি সমর্থন নয়। বরং ভোটাররা সাহসী ও সুদূরপ্রসারী রাজনৈতিক কর্মসূচির পক্ষে অবস্থান নিয়েছেন।
প্রগতিশীলদের এই আত্মবিশ্বাসের বড় উদাহরণ মিশিগানে আবদুল এল-সাইয়েদের জয়। ডেমোক্র্যাটদের দলীয় প্রাথমিক নির্বাচনে তিনি ইসরায়েলপন্থি মধ্যপন্থি কংগ্রেস সদস্য হ্যালি স্টিভেন্সকে পরাজিত করেন। পরে স্টিভেন্স নির্বাচনের শেষ পর্যায়ে এল-সাইয়েদের রিপাবলিকান প্রতিদ্বন্দ্বী মাইক রজার্সকে সমর্থন করেছিলেন। তা সত্ত্বেও এল-সাইয়েদের জয়কে প্রগতিশীলরা নিজেদের রাজনৈতিক অবস্থানের গ্রহণযোগ্যতা বৃদ্ধির প্রমাণ হিসেবে দেখছেন।
মধ্যপন্থি ও প্রগতিশীলদের ঐক্যের পরীক্ষা
তবে এবারের নির্বাচনে শুধু বামঘেঁষা প্রার্থীরাই সফল হননি। মধ্যপন্থি ডেমোক্র্যাটরাও গুরুত্বপূর্ণ জয় পেয়েছেন। কানসাসে অ্যাডাম হ্যামিল্টন ও আইওয়ায় জশ টুরেক রিপাবলিকানদের কাছ থেকে সিনেট আসন ছিনিয়ে নিয়েছেন। ফলে দলের দুই ধারার নেতারাই এখন নিজেদের রাজনৈতিক কৌশলের সাফল্যের দাবি করছেন।
সিনেটে ডেমোক্র্যাটদের নেতা চাক শুমার বুধবার সাংবাদিকদের বলেন, প্রগতিশীল ও মধ্যপন্থি— দুই ধারার প্রার্থীরাই গত কয়েক মাসে একই বিষয় সামনে রেখে প্রচার চালিয়েছেন। জীবনযাত্রার ব্যয় কমানো ও দুর্নীতির বিরুদ্ধে অবস্থান নেওয়াই ছিল তাদের অভিন্ন বার্তা। নতুন কংগ্রেসেও এই ঐক্য বজায় থাকবে বলে তিনি আশাবাদী।
তবে দলের নেতৃত্ব নিয়ে প্রগতিশীলদের অসন্তোষ দীর্ঘদিনের। বিশেষ করে শুমারকে সিনেটে সংখ্যাগরিষ্ঠ দলের নেতা করার পরিকল্পনার বিরোধিতা করছেন তাদের একাংশ। ইন্ডিভিজিবল আন্দোলনের নেতারাও এ বিষয়ে আপত্তি জানিয়েছেন। অন্যদিকে প্রগ্রেসিভ ডেমোক্র্যাটস অব আমেরিকার নির্বাহী পরিচালক অ্যালান মিনস্কি মনে করেন, দলের ভেতরে মতপার্থক্য থাকলেও তা আলোচনার মাধ্যমে সমাধান করা সম্ভব।

২০২৮ সালের নির্বাচনের প্রস্তুতিও শুরু
এবারের বিজয়কে সামনে রেখে ২০২৮ সালের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের সম্ভাব্য প্রার্থী নিয়েও আলোচনা শুরু হয়েছে। প্রগতিশীল শিবির থেকে আলেকজান্দ্রিয়া ওকাসিও-কর্টেজ ও রো খান্নার নাম সম্ভাব্য প্রার্থী হিসেবে সামনে আসছে। ফলে কংগ্রেসে ট্রাম্পবিরোধী অবস্থান জোরদার করার পাশাপাশি আগামী প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে দলের নেতৃত্ব ও রাজনৈতিক দিকনির্দেশনা নিয়েও দুই ধারার মধ্যে প্রতিযোগিতা বাড়তে পারে।
ডেমোক্র্যাটদের জন্য এখন সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হবে নির্বাচনি জোটের ঐক্য ধরে রাখা। ট্রাম্প প্রশাসনের বিরুদ্ধে তদন্ত ও জবাবদিহি নিশ্চিত করার পাশাপাশি মূল্যস্ফীতি ও জীবনযাত্রার ব্যয়ের মতো সাধারণ মানুষের উদ্বেগের বিষয়গুলোতে কার্যকর ভূমিকা রাখতে না পারলে এই বিজয়ের রাজনৈতিক সুফল ধরে রাখা কঠিন হতে পারে।
source: Rajneete







