News

হরমুজে মাইন বিস্ফোরণে ট্যাংকারে আগুন, অল্পের জন্য বাঁচলেন নাবিকরা

হরমুজ প্রণালি অতিক্রমের সময় মাইন বিস্ফোরণ ও আগুনের ঘটনায় নতুন করে বিপজ্জনক হয়ে উঠেছে বিশ্বের গুরুত্বপূর্ণ এ জ্বালানি পরিবহনপথটি। বৃহস্পতিবার পানামার পতাকাবাহী একটি তেলবাহী ট্যাংকারে মাইন বিস্ফোরণে আগুন ধরে যায়। তবে অল্পের জন্য প্রাণে বেঁচে গেছেন জাহাজটির নাবিকরা।

সামুদ্রিক নিরাপত্তা সূত্রের বরাতে রয়টার্সের খবরে বলা হয়, ওমানের খাসাব উপকূল থেকে প্রায় ২৫ নটিক্যাল মাইল উত্তর-পূর্বে এ ঘটনা ঘটে। ‘লুইস ১’ নামের ট্যাংকারটিতে দুটি লিমপেট মাইন লাগিয়ে হামলা চালানো হয়। বিস্ফোরণে জাহাজটির ইঞ্জিনকক্ষে আগুন ধরে যায়।

এতে কিছু সময়ের জন্য অচল হয়ে পড়ে ট্যাংকারটি। পরে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনা হয়। জাহাজের সব নাবিক নিরাপদে রয়েছেন। সাগরে তেল ছড়িয়ে পড়ারও কোনো খবর পাওয়া যায়নি। ক্ষতিগ্রস্ত ট্যাংকারটি পরে গন্তব্যের দিকে যাত্রা শুরু করেছে।

নিরাপত্তা সূত্রের তথ্য অনুযায়ী, ছোট একটি নৌযান থেকে জাহাজটির গায়ে মাইন দুটি লাগানো হয়েছিল। লিমপেট মাইন একধরনের বিস্ফোরক, যা লক্ষ্যবস্তুর গায়ে আটকে দেওয়া হয় এবং নির্দিষ্ট সময় বা সংকেতে বিস্ফোরিত হয়। তবে হামলাকারীদের পরিচয় এখনো জানা যায়নি। কোনো পক্ষও এ হামলার দায় স্বীকার করেনি।

সামুদ্রিক ঝুঁকি পর্যবেক্ষণকারী প্রতিষ্ঠান মারিস্কস বলেছে, ছোট নৌযান ব্যবহার করে তুলনামূলক কম খরচে ব্যস্ত নৌপথে এ ধরনের মাইন বসানো সম্ভব। এতে বড় যুদ্ধজাহাজের পাশাপাশি বাণিজ্যিক জাহাজও ঝুঁকির মুখে পড়ছে।

এদিকে, ইরানের ইসলামি বিপ্লবী গার্ড বাহিনী (আইআরজিসি) বৃহস্পতিবার রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যমে দেওয়া এক বিবৃতিতে দাবি করেছে, আগের ২৪ ঘণ্টায় অনুমোদনহীন দক্ষিণের পথ দিয়ে হরমুজ ছাড়ার সময় তিনটি তেলবাহী ট্যাংকার সমুদ্র-মাইনে আঘাত পেয়ে বিস্ফোরিত ও অগ্নিগ্রস্ত হয়েছে। জাহাজগুলো রাডার ও নেভিগেশন ব্যবস্থা বন্ধ রেখেছিল এবং গার্ড বাহিনীর নৌবাহিনীর সতর্কতা অমান্য করেছিল বলে দাবি করেছে তারা।

অন্যদিকে, যুক্তরাজ্যের সামুদ্রিক বাণিজ্য পরিচালনা সংস্থা ইউকেএমটিও বৃহস্পতিবার খাসাবের উত্তরে একটি জাহাজে আগুন লাগার খবর পেয়েছিল। তবে তখন আগুন লাগার কারণ বা হতাহতের বিষয়ে কিছু জানা যায়নি। ওই ঘটনা এবং মাইন বিস্ফোরণে ট্যাংকারে আগুন লাগার ঘটনাটি একই কি না, তা নিশ্চিত হওয়ার তথ্য নেই। আইআরজিসির দাবি, মাইন বিস্ফোরণের পর ট্যাংকারগুলো প্রণালির দক্ষিণ তীরে পরিত্যক্ত অবস্থায় পড়ে ছিল।

ফেব্রুয়ারিতে ইরান-যুক্তরাষ্ট্র যুদ্ধ শুরুর পর থেকে হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচল নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা করছে তেহরান। বিশ্বের মোট তেল ও তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাসের (এলএনজি) বড় একটি অংশ এই সরু জলপথ দিয়ে পরিবাহিত হয়। ফলে এখানে হামলা বা জাহাজ চলাচলে বাধা আন্তর্জাতিক জ্বালানি সরবরাহ ও পরিবহন ব্যয় বাড়ানোর পাশাপাশি তেলের বাজারেও তাৎক্ষণিক প্রভাব ফেলতে পারে।

রয়টার্সের হিসাবে, যুদ্ধ শুরুর পর হরমুজ প্রণালিতে লিমপেট মাইন দিয়ে সফল হামলার এটিই প্রথম জানা ঘটনা। এর আগে সেপ্টেম্বরে এ ধরনের হামলার একটি চেষ্টা ব্যর্থ হয়েছিল।

source: Rajneete

Back to top button