মার্কিন কংগ্রেসের নিয়ন্ত্রণ যাবে কার হাতে, সমীকরণের মুখে রিপাবলিকান-ডেমোক্র্যাট

যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচনের বাকি আর মাত্র তিন দিন দিন। আগামী ৩ নভেম্বরের এই ভোটে শুধু কংগ্রেসের আসনগুলোই নির্ধারিত হবে না, প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের শেষ দুই বছরের শাসন ও নীতির অনেকটাই নির্ভর করবে এর ওপর।
কারণ হোয়াইট হাউজে তো ট্রাম্প রয়েছেনই, পাশাপাশি কংগ্রেসের দুই কক্ষ হাউজ অব রিপ্রেজেন্টেটিভস ও সিনেট— দুটিই এখন রিপাবলিকানদের নিয়ন্ত্রণ। তবে দুই কক্ষেই সংখ্যাগরিষ্ঠতা খুবই সামান্য। ফলে এবারের ভোটে ডেমোক্র্যাটরা মাত্র কয়েকটি আসন ঘুরিয়ে দিতে পারলেই কংগ্রেসের নিয়ন্ত্রণ বদলে যেতে পারে।
হাউজ অব রিপ্রেজেন্টেটিভের হিসাব
হাউজ অব রিপ্রেজেন্টেটিভসের মোট আসন ৪৩৫টি। হাউজে সংখ্যাগরিষ্ঠতার জন্য প্রয়োজন ২১৮টি আসন। এবার ভোট হচ্ছে সবগুলো আসনেই। প্রতিটি আসনের মেয়াদ দুই বছর। বর্তমানে রিপাবলিকানদের হাতে রয়েছে ২১৮টি আসন, ডেমোক্র্যাটদের ২১৪টি। এ ছাড়া একজন স্বতন্ত্র সদস্য কেভিন কিলি সাধারণত রিপাবলিকান স্পিকার মাইক জনসনের পক্ষে ভোট দেন।
দুটি আসন এখন খালি— এপ্রিল মাসে নৈতিকতা-সংক্রান্ত বিতর্কের মধ্যে টেক্সাসের রিপাবলিকান টনি গনজালেস ও ফ্লোরিডার ডেমোক্র্যাট শিলা শেরফিলাস-ম্যাককরমিক পদত্যাগ করেন। শিলা পরে আগস্টের প্রাইমারিতে ফিরে আসার চেষ্টা করেও দলীয় মনোনয়ন পাননি।
তাই নির্বাচনের ঠিক আগের হিসাবটি এমন— কিলির সমর্থনসহ রিপাবলিকানদের দখলে ২২০টি আসন, ডেমোক্র্যাটদের ২১৫টি। সে হিসাবে হাউজে নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতার জন্য প্রয়োজনীয় ২১৮টি আসন থেকে এখনো অন্তত চারটি আসন দূরে রয়েছে ডেমোক্র্যাটরা।
২১৮টি আসন পেলে ডেমোক্র্যাটদের নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা হবে হাউজ অব রিপ্রেজেন্টেটিভে। একই সঙ্গে স্পিকার হওয়ার সুযোগ পাবেন ডেমোক্র্যাট হাকিম জেফরিস। তিনি যুক্তরাষ্ট্রের ইতিহাসে প্রথম কৃষ্ণাঙ্গ স্পিকার হতে চাইছেন।
এ নির্বাচন সামনে রেখে রিপাবলিকানরা গত দুই বছরের রেকর্ড তুলে ধরছে। এর মধ্যে ট্রাম্পের ‘ওয়ান, বিগ বিউটিফুল বিল’ নামে পরিচিত ‘ওয়ার্কিং ফ্যামিলিস ট্যাক্স কাট অ্যাক্টে’র কথাও বলা হচ্ছে।
বর্তমান স্পিকার মাইক জনসনের ভাষায়, তারা জীবনযাত্রার ব্যয় কমাচ্ছেন এবং কর্মসংস্থান ও সুযোগ বাড়াচ্ছেন। পাশাপাশি ডেমোক্র্যাটদের বিরুদ্ধে ‘মামদানি ম্যাডনেস’ প্রচারণা চালাচ্ছে রিপাবলিকানরা, যেখানে নিউইয়র্কে জোহরান মামদানিসহ ডেমোক্র্যাট প্রাইমারিতে তার মতো মতাদর্শের প্রার্থীদের সাফল্যকে নেতিবাচকভাবে তুলে ধরা হচ্ছে।
অন্যদিকে জেফরিসের প্রচারণার মূল বিষয় জীবনযাত্রার ব্যয় কমানো ও দুর্নীতিবিরোধী অবস্থান। তার দাবি, ভোটাররা ট্রাম্প সরকারের ওপর বিরক্ত এবং ডেমোক্র্যাটরা হাউজের সংখ্যাগরিষ্ঠতা পুনরুদ্ধারের পথে রয়েছে।
সিনেটে আরও কঠিন লড়াই
সিনেটের ১০০ আসনের মধ্যে এবার ৩৫টি আসনে ভোট হচ্ছে— ৩৩টি নিয়মিত নির্বাচনের পাশাপাশি ফ্লোরিডা ও ওহাইওতে আরও দুটি বিশেষ নির্বাচন। এর মধ্যে ১৩টি ডেমোক্র্যাটদের ও ২২টি রিপাবলিকানদের দখলে রয়েছে।
বর্তমানে সিনেটে রিপাবলিকানদের আসন ৫৩টি। এর বিপরীতে ডেমোক্র্যাটদের আসন ৪৫টি, ককাস করা দুই স্বতন্ত্র সদস্য মিলিয়ে তাদের মোট আসন ৪৭।
সিনেটে একক সংখ্যাগরিষ্ঠতার জন্য আসন প্রয়োজন ৫১টি। তবে রিপাবলিকানদের জন্য ৫০টি আসন হলেও সিনেটের নিয়ন্ত্রণ ধরে রাখা সম্ভব হবে। কারণ কোনো ইস্যুতে ৫০-৫০ ভোটে সমতা হলে ভাইস প্রেসিডেন্ট জে ডি ভ্যান্স ভোট দিয়ে সমতা ভেঙে দিতে পারেন। তার ভোটটি যেহেতু রিপাবলিকানদের বাক্সেই যাবে, ফলে রিপাবলিকানদের জন্য ৫০টি আসনও পর্যাপ্ত। বর্তমান পরিস্থিতিতে তাই তিনটি আসন হারিয়েও সিনেটে রিপাবলিকানরা নিয়ন্ত্রণ বজায় রাখতে পারবেন।
তবে ডেমোক্র্যাটদের জন্য সংখ্যাগরিষ্ঠতার জন্য ৫১টি আসনের বিকল্প নেই। ফলে তাদের ব্লকের মোট ৪৭টি আসনের সঙ্গে সঙ্গে আরও অন্তত চারটি আসনের ফলাফলকে নিজেদের দিকে নিয়ে আসতে হবে।
এবারের ভোটে প্রাথমিক পর্যায়ে ডেমোক্র্যাটদের হাউজ দখলের সম্ভাবনা তুলনামূলকভাবে বেশি বলে পূর্বাভাস থাকলেও সিনেটের লড়াই অনেক বেশি অনিশ্চিত। বিভিন্ন জরিপের তথ্য বলছে, কংগ্রেসের দুই কক্ষেই হাড্ডাহাড্ডি লড়াই হবে দুই দলের মধ্যে। শেষ পর্যন্ত সেই লড়াইয়ে রিপাবলিকানরা শেষ হাসি হাসলে ট্রাম্পের মেয়াদের বাকি দুই বছর অনেকটাই নির্বিঘ্ন থাকবে। তবে অন্তত একটি কক্ষও ডেমোক্র্যাটরা নিয়ন্ত্রণে নিতে পারলে কঠোর নজরদারির মধ্যে পড়তে হবে ট্রাম্প ও তার প্রশাসনকে।
এবিসি নিউজ অবলম্বনে
source: Rajneete







