ইউক্রেনকে ফের গোয়েন্দা তথ্য দিতে শুরু করেছে যুক্তরাষ্ট্র

রাশিয়ার ক্ষেপণাস্ত্র হামলা মোকাবিলায় ইউক্রেনকে আবারও গুরুত্বপূর্ণ গোয়েন্দা তথ্য দিতে শুরু করেছে যুক্তরাষ্ট্র। কয়েক দিনের বিরতির পর মার্কিন গোয়েন্দা তথ্যের প্রবাহ পুনরায় চালু হয়েছে বলে জানিয়েছেন ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি। তার দাবি, এই তথ্য রুশ ক্ষেপণাস্ত্র হামলার আগাম সতর্কতা পেতে ইউক্রেনের জন্য গুরুত্বপূর্ণ।
রোববার (১৮ অক্টোবর) এনবিসি নিউজের ‘মিট দ্য প্রেস’ অনুষ্ঠানে জেলেনস্কি বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের গোয়েন্দা তথ্য সরবরাহে সাময়িকভাবে বাধা তৈরি হয়েছিল। পরে সেই বাধা দূর হয়েছে এবং এখন তথ্য আদান-প্রদান আবার কাজ করছে। তিনি এ সহায়তার জন্য যুক্তরাষ্ট্রকে ধন্যবাদও জানান।
ইউক্রেন দীর্ঘদিন ধরে রাশিয়ার ক্ষেপণাস্ত্র হামলা শনাক্ত ও প্রতিরোধে মার্কিন গোয়েন্দা তথ্যের ওপর নির্ভর করে আসছে। বিশেষ করে দ্রুতগতির ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্রের গতিপথ ও সম্ভাব্য লক্ষ্য সম্পর্কে আগাম তথ্য পাওয়ায় ইউক্রেনের বিমান প্রতিরক্ষাব্যবস্থা প্রস্তুত করার সুযোগ তৈরি হয়। ফলে তথ্য সরবরাহে সাময়িক বিরতিও কিয়েভের জন্য বড় উদ্বেগের কারণ হয়ে উঠেছিল।
গত সপ্তাহে জেলেনস্কি জানিয়েছিলেন, রাশিয়ার পাঁচটি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র কিয়েভের বেসামরিক স্থাপনায় আঘাত হানার আগে ইউক্রেন তার মিত্রদের কাছ থেকে কোনো আগাম সতর্কতা পায়নি। যদিও প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প তখন দাবি করেছিলেন, যুক্তরাষ্ট্র ইউক্রেনকে গোয়েন্দা তথ্য দেওয়া বন্ধ করেনি। এ নিয়ে ওয়াশিংটন ও কিয়েভের বক্তব্যে অসঙ্গতি দেখা দেয়।
রয়টার্সের খবরে বলা হয়েছে, এর মধ্যেই সোমবার কিয়েভে রুশ বিমান হামলায় এক নারী নিহত ও তিনজন আহত হয়েছেন। হামলায় একটি মেট্রো স্টেশন, ২৫ তলা একটি আবাসিক ভবন, একটি চিকিৎসাকেন্দ্রসহ কয়েকটি স্থাপনা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
গত এক সপ্তাহে ইউক্রেনের জ্বালানি, তেল ও গ্যাস অবকাঠামোয় রাশিয়া ৭৬ বার হামলা চালিয়েছে বলে জেলেনস্কি জানিয়েছেন। এসব হামলা এমন সময় হচ্ছে, যখন ট্রাম্প গত সপ্তাহে দুই দেশের জ্বালানি অবকাঠামোয় হামলা বন্ধের কথা জানিয়েছিলেন। তবে মস্কো বা কিয়েভ কেউই আনুষ্ঠানিকভাবে এমন কোনো যুদ্ধবিরতি চুক্তি নিশ্চিত করেনি।
গোয়েন্দা সহায়তা ফের চালুর খবরটি এসেছে ওয়াশিংটন ও কিয়েভের সম্পর্কে নতুন টানাপোড়েনের মধ্যেই। রাশিয়ার সঙ্গে জ্বালানি বাণিজ্য এবং মস্কোর ওপর কিছু নিষেধাজ্ঞা শিথিল করার মার্কিন সিদ্ধান্তের সমালোচনা করেছেন জেলেনস্কি। একই সময়ে যুদ্ধ বন্ধে ট্রাম্প রাশিয়া ও ইউক্রেন— দুপক্ষের ওপরই চাপ বাড়াচ্ছেন।
জেলেনস্কি বলেছেন, তিনি ট্রাম্পের সঙ্গে সম্পর্ক বজায় রাখতে চান এবং আশা করেন, ইউক্রেনের প্রতি মার্কিন নীতিতে আবার পরিবর্তন আসবে। এ অবস্থায় গোয়েন্দা তথ্য সরবরাহ পুনরায় শুরু হওয়াকে কিয়েভের জন্য গুরুত্বপূর্ণ সামরিক সহায়তা ফিরে আসার একটি ইঙ্গিত হিসেবে দেখা হচ্ছে। তবে ওয়াশিংটনের সামগ্রিক ইউক্রেন নীতি কোন দিকে যাচ্ছে, তা এখনো স্পষ্ট নয়।
source: Rajneete







