ইরানের হয়ে কাজের অভিযোগে গ্রেপ্তার মার্কিন-ফিলিস্তিনি সাংবাদিক জামিনে মুক্ত

ইরানের হয়ে কাজ করার অভিযোগে প্রায় দুই সপ্তাহ কারাবন্দি থাকার পর জামিনে মুক্তি পেয়েছেন মার্কিন-ফিলিস্তিনি সাংবাদিক নাকা হামেদ। উত্তর ইসরায়েলের হাইফার ডেমন কারাগারে বন্দি ছিলেম তিনি। কারামুক্ত হওয়ার পর অধিকৃত পশ্চিম তীরের জেনিনের কাছে একটি চেকপয়েন্ট দিয়ে বেরিয়ে আসেন তিনি।
হামেদের আইনজীবী খালেদ মাহাজনেহ জানিয়েছেন, সোমবার (২৮ সেপ্টেম্বর) ইসরায়েলের একটি সামরিক আদালত তাকে জামিনে মুক্তির আদেশ দেন।
আইনজীবী মাহাজনেহ জানান, আট হাজার ইসরায়েলি শেকেল (প্রায় দুই হাজার ৬০০ ডলার) জামিনে মুক্তি পেয়েছেন হামেদ। ভবিষ্যতে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য ইসরায়েলি কর্তৃপক্ষ ডাকলে তাকে হাজির হওয়ার শর্ত দেওয়া হয়েছে।
এর আগে গত ১৫ সেপ্টেম্বর বেথলেহেমের কাছে একটি চেকপয়েন্ট থেকে হামেদকে আটক করে ইসরায়েলি সামরিক বাহিনী। পরিবারের সদস্য ও তার সঙ্গে থাকা এক সাংবাদিকের বরাত দিয়ে বার্তা সংস্থা এএফপি জানায়, তুরস্কের সম্প্রচারমাধ্যম টিআরটির হয়ে একটি প্রতিবেদন তৈরির কাজ শেষে ফেরার সময় তাকে আটক করা হয়।
ইরানের রাষ্ট্রীয় সম্প্রচারমাধ্যম প্রেস টিভিও তার গ্রেপ্তার ও মুক্তির খবর প্রকাশ করেছে। গণমাধ্যমটি হামেদকে তাদের পশ্চিম তীরের নিজস্ব সংবাদদাতা হিসেবে পরিচয় দিয়েছে। তবে হামেদের সহকর্মীরা বলেছেন, গ্রেপ্তারের প্রায় এক মাস আগে তিনি প্রেস টিভির সঙ্গে কাজ বন্ধ করে ফ্রিল্যান্স সাংবাদিক হিসেবে কাজ শুরু করেছিলেন।
ইসরায়েলি কর্তৃপক্ষ প্রেস টিভিকে ইরানের ধর্মীয় নেতৃত্বাধীন সরকারের ‘প্রচারযন্ত্র’ হিসেবে বিবেচনা করে। ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্র গত ফেব্রুয়ারির শেষ দিকে ইরানের বিরুদ্ধে সামরিক অভিযান শুরু করার পর দুই দেশের মধ্যে উত্তেজনা আরও বেড়েছে।
আইনজীবী মাহাজনেহ জানান, হামেদের বিরুদ্ধে তদন্তে মূলত তিন ধরনের অভিযোগ খতিয়ে দেখা হয়েছে— ইসরায়েলি বসতি স্থাপনকারী ও সেনাবাহিনীর বিরুদ্ধে উসকানি, ‘বিদেশি এজেন্টের’ সঙ্গে যোগাযোগ এবং ইসরায়েলি মানদণ্ডে ‘শত্রুভাবাপন্ন’ হিসেবে বিবেচিত সংবাদমাধ্যমকে সংবাদ ও তথ্য সরবরাহ।
তবে আদালতে চারটি শুনানিতে এসব অভিযোগ খণ্ডন করা হয়েছে বলে দাবি করেন মাহাজনেহ। তিনি বলেন, তার কাজ ছিল সম্পূর্ণ সাংবাদিকতাসুলভ, স্বচ্ছ ও বৈধ— হামেদের পক্ষে আদালতে এমন যুক্তি দেওয়া হয়েছে।
বসতি স্থাপনকারীদের সহিংসতা নিয়ে প্রতিবেদন
সাম্প্রতিক মাসগুলোতে পশ্চিম তীরে ইসরায়েলি বসতি স্থাপনকারীদের সহিংসতা নিয়ে নিয়মিত প্রতিবেদন করছিলেন হামেদ। বিশেষ করে নাবলুসের কাছে কুসরা শহরে ফিলিস্তিনি বাড়িঘর ঘিরে বসতি স্থাপনকারীদের তৎপরতা নিয়ে তিনি প্রতিবেদন করেন। এর মধ্যে এমন একটি বাড়িও ছিল, যার মালিক একজন মার্কিন নাগরিক ফিলিস্তিনি।
হামেদের বোন ফাতিমা এর আগে অভিযোগ করেছিলেন, কুসরার সহিংসতা নিয়ে প্রতিবেদন প্রকাশের কারণে বসতি স্থাপনকারীদের একটি পক্ষ হামেদকে লক্ষ্য করে প্রচার চালাচ্ছিল এবং তাকে গ্রেপ্তারের জন্য ইসরায়েলি কর্তৃপক্ষের ওপর চাপ তৈরি করছিল।
হামেদের বিরুদ্ধে অভিযোগগুলো শেষ পর্যন্ত আদালতে কীভাবে নিষ্পত্তি হবে, তা এখনো স্পষ্ট নয়। জামিনে মুক্ত হলেও তাকে ভবিষ্যতে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য হাজির হতে হবে।
এদিকে ফিলিস্তিনি বন্দিদের অধিকার নিয়ে কাজ করা বেসরকারি সংগঠন ‘প্যালেস্টিনিয়ান প্রিজনার্স ক্লাবে’র তথ্য অনুযায়ী, ইসরায়েলের কারাগারগুলোতে বর্তমানে ৩৬ জন সাংবাদিক আটক রয়েছেন।
হামেদের মুক্তির ঘটনা এমন একসময়ে ঘটল, যখন পশ্চিম তীরে সাংবাদিকদের কাজের স্বাধীনতা এবং ইসরায়েলি নিরাপত্তা আইনের প্রয়োগ নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন উঠছে।
source: Rajneete







