ইরান-সুইডেনের পালটাপালটি কূটনীতিক বহিষ্কার

ইরান ও সুইডেনের মধ্যে পালটাপালটি কূটনীতিক বহিষ্কারের ঘটনা ঘটেছে। সুইডেনের পক্ষ থেকে ইরানি দূতাবাসের এক কর্মকর্তাকে বহিষ্কারের পরদিন ইরানও এক সুইডিশ কূটনীতিককে ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে দেশ ছাড়ার নির্দেশ দিয়েছে।
আল-জাজিরা ও বার্তা সংস্থা রয়টার্সের খবরে বলা হয়, বুধবার সুইডেন থেকে বহিষ্কার করা হয় ইরানের এক কূটনীতিককে। এর জবাবে বৃহস্পতিবার ইরানও সুইডেনের এক কূটনীতিককে বহিষ্কার করেছে।
বুধবার সুইডিশ পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানায়, ইরানি দূতাবাসের এক কর্মকর্তাকে এমন কর্মকাণ্ডের অভিযোগে দেশ ছাড়তে বলা হয়েছে, যা কূটনৈতিক সম্পর্কবিষয়ক ভিয়েনা কনভেনশনের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়। তবে ওই কর্মকাণ্ডের বিস্তারিত জানায়নি স্টকহোম।
সুইডিশ কর্মকর্তারা অবশ্য অভিযোগ করেছেন, ইরান দীর্ঘদিন ধরে সুইডেনে নিরাপত্তার জন্য হুমকি তৈরি করে— এমন কর্মকাণ্ড চালিয়ে আসছে এবং ইরানবিরোধী ব্যক্তি, ইহুদি ও ইসরায়েলি স্বার্থকে লক্ষ্যবস্তু করার ক্ষেত্রে অপরাধী নেটওয়ার্ক ব্যবহার করছে।
বৃহস্পতিবার ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সুইডিশ রাষ্ট্রদূতকে তলব করে এ সিদ্ধান্তের প্রতিবাদ জানায়। তেহরান সুইডেনের অভিযোগকে ‘ভিত্তিহীন’ ও দেশটির ইরানি কূটনীতিক বহিষ্কারের সিদ্ধান্তকে ‘অন্যায্য’ বলে প্রত্যাখ্যান করেছে। এ সিদ্ধান্তকে ‘ইসরায়েলি প্রভাবের ফল’ হিসেবে অভিহিত করেছে তেহরান।
একই সঙ্গে সুইডেনের ‘ইরানবিরোধী’ নীতি, ইরানের বিরুদ্ধে বক্তব্য এবং তেহরানে নিষিদ্ধ বা বিরোধী হিসেবে বিবেচিত গোষ্ঠীগুলোকে আশ্রয় দেওয়ার অভিযোগ তোলে ইরান।
ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, পারস্পরিকতার নীতি অনুসরণ করেই সুইডিশ কূটনীতিককে বহিষ্কারের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
ইরান ও সুইডেনের সম্পর্ক বেশ কয়েক বছর ধরেই টানাপোড়েনের মধ্যে রয়েছে। সুইডেনে ইরানের কথিত নিরাপত্তা তৎপরতা, ইরান-সুইডিশ নাগরিকদের আটক ও গুপ্তচরবৃত্তির অভিযোগ এবং দুই দেশের নাগরিকদের নিয়ে আগের বিরোধও সেই উত্তেজনা বাড়িয়েছে।
source: Rajneete







