News

পরমাণু কেন্দ্রের দিকে ছুটছিল হাইজ্যাক হওয়া বিমান, অতঃপর..

হাঙ্গেরির কালোচসা এয়ারফিল্ড থেকে একটি চেসনা ১৭২ বিমান হাইজ্যাক করে পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের দিকে অগ্রসর হচ্ছিলেন এক পাইলট। সামরিক রাডারে বিষয়টি শনাক্ত হওয়ার পরপরই বিমানটিকে ঠেকাতে জরুরি ভিত্তিতে গ্রিপেন যুদ্ধবিমান উড্ডয়ন করায় হাঙ্গেরীয় বিমানবাহিনী। এ তথ্য নিশ্চিত করেছে দেশটির প্রতিরক্ষামন্ত্রী রোমুলাস রুসিন-সেন্ডি।

তিনি জানান, কালোচসা থেকে বিমানটি হাইজ্যাক ও উড্ডয়নের পরপরই হাঙ্গেরীয় সামরিক রাডারে তা শনাক্ত হয়। প্যাকস পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রটি একটি বিশেষ সুরক্ষিত স্থাপনা। কেন্দ্রটির চারপাশে ৩ কিলোমিটার ব্যাসার্ধের মধ্যে ৬ হাজার মিটারের কম উচ্চতায় সব ধরনের বেসামরিক বিমান চলাচল কঠোরভাবে নিষিদ্ধ। ফলে সন্দেহভাজন বিমানটির গতিবিধি টের পেয়েই অনতিবিলম্বে একজোড়া গ্রিপেন যুদ্ধবিমানকে তাড়াহুড়ো করে আকাশে পাঠানো হয়।

হাঙ্গেরীয় সংবাদমাধ্যম এইচভিজির প্রতিবেদন অনুযায়ী, হাইজ্যাক হওয়া বিমানটি ছিল একটি ‘চেসনা ১৭২’ মডেলের বিমান। ২০০২ সালে জন্ম নেওয়া মানসিক ভারসাম্যহীন এক তরুণ কালোচসা বিমানবন্দর থেকে বিমানটি হাইজ্যাক করে ওড়ান বলে জানা গেছে। তবে তিনি পারমাণবিক স্থাপনার নিষিদ্ধ সীমানায় ঢোকার আগেই বিমানটিকে গেরিয়েন গ্রামের কাছে একটি সূর্যমুখী বা ভুট্টার ক্ষেতে জরুরি অবতরণ করাতে বাধ্য হন।

অবতরণকালে বিমানটির ল্যান্ডিং গিয়ার ভেঙে যায় এবং ডানার ওপর ভর দিয়ে সেটি আংশিক বিধ্বস্ত হয়ে থেমে পড়ে। হাঙ্গেরীয় প্রতিরক্ষামন্ত্রী জানান, বিমানটি গেরিয়েনে অবতরণের মাত্র কয়েক মিনিট পরেই গ্রিপেন যুদ্ধবিমান দুটি ঘটনাস্থলের ওপর টহল দেওয়া শুরু করে। এরপর উদ্ধারকারী হেলিকপ্টার, ফায়ার সার্ভিস, পুলিশ ও স্থল জরুরি উদ্ধারকারী দল না পৌঁছানো পর্যন্ত যুদ্ধবিমানগুলো আকাশে অবস্থান নেয়।

এ দুর্ঘটনায় কেউ আহত হননি ও সন্দেহভাজন ওই পাইলটকে পুলিশি হেফাজতে নেওয়া হয়েছে। প্রতিরক্ষামন্ত্রী রোমুলাস রুসিন-সেন্ডি ঘটনাটিকে একটি অস্বাভাবিক সতর্কতা উল্লেখ করে বলেন, আকাশে বা স্থলে যে কোনো হুমকি মোকাবিলায় দেশের প্রতিরক্ষা বাহিনী সর্বদা প্রস্তুত রয়েছে। পুলিশ ও সংশ্লিষ্ট সামরিক কর্তৃপক্ষ বিমান হাইজ্যাক ও বিপজ্জনক উড্ডয়নের এই ঘটনার পূর্ণাঙ্গ তদন্ত শুরু করেছে।

source: Asia Post

Back to top button