নারায়ণগঞ্জের পার্কে বন্দুক হাতে দুই তরুণ, ভিডিও ভাইরাল

নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনের নগর পার্কে (সাবেক শেখ রাসেল পার্ক) দুই তরুণের বন্দুক হাতে ঘোরাঘুরি এবং দর্শনার্থীদের দিকে অস্ত্র তাক করে প্রতিক্রিয়া ধারণের একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে। ভিডিওটি নিয়ে নগরজুড়ে শুরু হয়েছে আলোচনা-সমালোচনা। অনেকেই এটিকে সাধারণ মানুষকে ভয় দেখানোর পাশাপাশি প্রকাশ্যে অস্ত্র প্রদর্শনের ঘটনা হিসেবে উল্লেখ করে প্রশাসনের ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন। তবে ভিডিওটি এক সপ্তাহ আগের বলে এশিয়া পোস্টকে নিশ্চিত করেছেন নারায়ণগঞ্জ সদর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সাজেদুর রহমান।
ভাইরাল ভিডিওতে দেখা যায়, কালো রঙের লম্বা কুর্তা-পায়জামা ও মাথায় টুপি পরা দুই তরুণ বড় আকৃতির দুটি বন্দুক হাতে পার্কে প্রবেশ করেন। এরপর পথচারী, রিকশাচালক থেকে শুরু করে শিশুর দিকেও হঠাৎ বন্দুক তাক করতে দেখা যায় তাদের। এতে কেউ থমকে দাঁড়ান, কেউ আতঙ্কে সরে যান, আবার কেউ অবাক হয়ে তাকিয়ে থাকেন। পেছন থেকে ক্যামেরাম্যান এসব প্রতিক্রিয়া ধারণ করেন।
একটি দৃশ্যে একটি শিশুকেও বন্দুক দেখে চমকে উঠতে দেখা যায়। তাদের হাতে থাকা অস্ত্রগুলো দেখতে অনেকটা আসল অস্ত্রের মতো হলেও সেগুলো আসল নাকি খেলনা, তা নিশ্চিত হওয়া যায়নি।
ভিডিওটি ছড়িয়ে পড়ার পর নেটিজেনদের অনেকে সমালোচনা করেছেন। কেউ বলছেন, ভাইরাল হওয়ার জন্য সাধারণ মানুষকে ভয় দেখানো ঠিক নয়। আবার কেউ আশঙ্কা করছেন, এমন ভিডিও দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে দেশ-বিদেশে বিভ্রান্তিকর বার্তা দিতে পারে।
খোঁজ নিয়ে জানা যায়, ভিডিওটি তৈরি করেছেন নারায়ণগঞ্জের বন্দর উপজেলার বাসিন্দা লিমন তোহা ও ইয়াসিন। লিমন তোহা শহরের দিগুবাবুর বাজার এলাকায় পৈতৃক দোকানে ব্যবসার পাশাপাশি ভিডিও তৈরি করেন। আর ইয়াসিন তাকে ভিডিও ধারণে সহযোগিতা করেন। পরে টিকটক, ফেসবুক ও ইনস্টাগ্রামসহ বিভিন্ন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভিডিওটি ছড়িয়ে পড়ে।
এ বিষয়ে সদর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সাজেদুর রহমানের কাছে জানতে চাইলে তিনি এশিয়া পোস্টকে বলেন, ওই ভিডিওতে যারা অস্ত্র নিয়ে টিকটক করছিল, তারা মূলত টিকটকার। প্রাথমিকভাবে জানা গেছে, তারা খেলনা পিস্তল নিয়ে ওই ভিডিও ধারণ করেছে। ঘটনাটি প্রায় এক সপ্তাহ আগের। বিষয়টি আজ বিভিন্ন মাধ্যমে জানতে পেরে আমরা খোঁজখবর শুরু করেছি। তাদের বাড়ি বন্দর এলাকায় বলে জানতে পেরেছি।
ইতিমধ্যে বিষয়টি যাচাই-বাছাই ও তদন্ত করা হচ্ছে। অস্ত্রগুলো আসল নাকি খেলনা, সেটিও পরীক্ষা করে দেখা হবে। এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাকে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। এই রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত তিনি বলেছেন, তারা শিগগিরই সেই অস্ত্রসহ তাদের থানায় নিয়ে আসবেন। এরপর বিষয়টি নিশ্চিত হয়ে পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
ওসি আরও বলেন, এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত থানায় কোনো লিখিত অভিযোগ করা হয়নি। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভিডিওটি প্রকাশের পর পুলিশ বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে তদন্ত শুরু করেছে। তদন্ত শেষে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
source: Asia Post







