নিজের ও বাবার নাম পাল্টে ফেললেন হাদি হত্যা মামলার আসামি তাজুল

ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র শরীফ ওসমান হাদিকে হত্যার ‘নির্দেশদাতা ও পরিকল্পনাকারী’ হিসেবে অভিযুক্ত কাউন্সিলর তাজুল ইসলাম চৌধুরী বাপ্পী নিজের নাম পাল্টে রেখেছেন মহিউদ্দিন চৌধুরী। এ ছাড়া বাবার নাম, এমনকি জন্মতারিখও বদলে ফেলেছেন পল্লবী থানা যুবলীগের সভাপতি ও ৬ নম্বর ওয়ার্ডের সাবেক কাউন্সিলর তাজুল ইসলাম।
মঙ্গলবার (১১ আগস্ট) বেসরকারি টেলিভিশন স্টার নিউজের এক প্রতিবেদনে এসব তথ্য জানানো হয়েছে।
প্রতিবেদনে বলা হয়, তাজুল ইসলাম বর্তমানে ভারতে অবস্থান করছেন। তিনি দেশটির নাগরিকত্ব পাওয়ার জন্য চেষ্টা করছেন। বাংলাদেশি পাসপোর্টে তাজুল ইসলাম চৌধুরী বাপ্পী নাম থাকলেও ভারতে মহিউদ্দীন চৌধুরী নামে আধারকার্ড নিয়েছেন। পাসপোর্টে বাবার নাম নজরুল ইসলাম চৌধুরী থাকলেও আধারকার্ডে নাম দিয়েছেন নজরুল উদ্দিন চৌধুরী।
শুধু নামই নয়, জন্মতারিখও বদলে ফেলেছেন তাজুল। বাংলাদেশি পাসপোর্টে তার জন্মতারিখ ৫ জুলাই ১৯৮৩ হলেও ৫ বছর বয়স কমিয়ে ভারতের কাগজপত্রে নতুন জন্মতারিখ দেখিয়েছেন ১৯৮৮ সাল। আর ঠিকানা দেওয়া হয়েছে পশ্চিমবঙ্গের কলকাতার খিদিরপুরের বুখলেস রোডের একটি অ্যাপার্টমেন্টের।
তাজুল ইসলাম বর্তমানে কলকাতার দসদ্রমে পূরতী একুয়া, এফ৩ এর খ নম্বর ফ্ল্যাটে থাকলেও মাঝেমধ্যেই তার অবস্থান পরিবর্তন করছেন।
নথি বিশ্লেষণে জানা যায়, ভারতের আকরাম আলী ওরফে ভিকি নামে এক ব্যক্তির সঙ্গে ব্যবসা করছেন তাজুল ইসলাম। মূলত ভিকি তাকে ভারতীয় নাগরিকত্ব পাইয়ে দেওয়ার ব্যাপারে সাহযোগিতা করছেন।
হাদি হত্যা মামলায় ডিবি চার্জশিট দিলেও বাদীপক্ষের নারাজির কারণে বর্তমানে মামলাটি তদন্ত করছে সিআইডি। এ হত্যা মামলায় এ পর্যন্ত ১৩ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। ভারতে আটক আসামিদের দেশে ফিরিয়ে আনতে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।
সিআইডির বিশেষ পুলিশ সুপার ড. জসীম উদ্দীন খান বলেন, আগের তদন্তের অনেক কিছুই এখানে সম্পর্কিত থাকবে। ফৌজদারি মামলার তদন্তের একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হচ্ছে তাদের বিরুদ্ধে চার্জশিট দেওয়া হলে লোকটার আইডেন্টিফিকেশন অবশ্যই দরকার। সে অন্য জায়গায় গিয়ে যে নামই ধারণ করুক না কেন, এ লোকটা প্রপারলি তিনি কি না, এটা প্রথমে যাচাই করে নেব।
উল্লেখ্য, ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে শরীফ ওসমান হাদিকে গুলি করে হত্যা করা হয়। এরই মধ্যে ছাত্রলীগ নেতা শুটার ফয়সাল ও মোটরসাইকেল চালক যুবলীগ নেতা আলমগীরকে ভারতে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
এ মামলায় ১৭ জনকে আসামি করে আদালতে চার্জশিট জমা দেয় ডিবি। তদন্তে উঠে আসে, পল্লবী থানা যুবলীগের সভাপতি ও ৬ নম্বর ওয়ার্ডের সাবেক কাউন্সিলর তাজুল ইসলাম চৌধুরী বাপ্পীর নির্দেশে হাদিকে হত্যা করা হয়। ঘটনার পর থেকে বাপ্পী পলাতক।
source: Asia Post







