নেত্রকোনায় ভয়াবহ আগুন, দোকান ও বাসাবাড়ি পুড়ে ছাই

নেত্রকোনা শহরের বড়বাজার এলাকায় ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে দোকান ও বাসাবাড়িসহ অন্তত সাতটি স্থাপনা পুড়ে গেছে। শুক্রবার (৭ আগস্ট) রাতের এ ঘটনায় আগুন নেভাতে গিয়ে ফায়ার সার্ভিসের দুই কর্মী ও রেড ক্রিসেন্টের দুই স্বেচ্ছাসেবক আহত হয়েছেন। প্রায় তিন ঘণ্টার চেষ্টায় আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে ফায়ার সার্ভিস।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, শুক্রবার রাতে বড়বাজারের একটি ক্রোকারিজের দোকান থেকে হঠাৎ ধোঁয়া বের হতে দেখা যায়। কিছুক্ষণের মধ্যেই সেখান থেকে আগুনের লেলিহান শিখা ছড়িয়ে পড়ে। মুহূর্তের মধ্যে আগুন আশপাশের দোকান ও বাসাবাড়িতে ছড়িয়ে পড়লে পুরো এলাকায় আতঙ্ক দেখা দেয়। অগ্নিকাণ্ডের ফলে বাজারের ব্যবসায়ী ও স্থানীয় বাসিন্দারা দ্রুত নিরাপদ স্থানে সরে যান।
খবর পেয়ে ফায়ার সার্ভিসের চারটি ইউনিট ঘটনাস্থলে গিয়ে আগুন নিয়ন্ত্রণে কাজ শুরু করে। তাদের সঙ্গে রেড ক্রিসেন্টের স্বেচ্ছাসেবক, বিভিন্ন স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনের সদস্য ও স্থানীয় বাসিন্দারাও আগুন নেভানোর কাজে অংশ নেন। প্রায় তিন ঘণ্টা চেষ্টার পর আগুন নিয়ন্ত্রণে আসে।
অগ্নিকাণ্ডে ভূঁইয়া প্লাজা, মজুমদার ইলেকট্রনিক্স ও ক্রোকারিজ, হ্যালো ফুচকাসহ অন্তত সাতটি দোকান ও বাসাবাড়ি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। আগুনে দোকানগুলোর সব মালামাল পুড়ে ছাই হয়ে যায়। তবে তাৎক্ষণিকভাবে ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ নির্ধারণ করা সম্ভব হয়নি।
আগুন নেভানোর সময় ফায়ার সার্ভিসের দুই কর্মী ও রেড ক্রিসেন্টের দুই স্বেচ্ছাসেবক আহত হন। পরে তাঁদের নেত্রকোনা আধুনিক সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।
নেত্রকোনা সদর সার্কেলের সহকারী পুলিশ সুপার সজল কুমার সরকার বলেন, প্রায় তিন ঘণ্টা ধরে ফায়ার সার্ভিসের ইউনিটগুলো আগুন নিয়ন্ত্রণে কাজ করেছে। উৎসুক জনতার ভিড়ের কারণে কাজ করতে কিছুটা সমস্যা হয়েছে। পানির পাইপ সুরক্ষিত রাখাও কঠিন হয়ে পড়েছিল। তবে সবার সম্মিলিত প্রচেষ্টায় আগুন নিয়ন্ত্রণে আসে।
অগ্নিকাণ্ডের খবর পেয়ে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন নেত্রকোনার জেলা প্রশাসক খন্দকার মুশফিকুর রহমান ও সহকারী পুলিশ সুপার সজল কুমার সরকার। এ সময় আগুন নিয়ন্ত্রণের পাশাপাশি বাজারের পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে পুলিশ, স্বেচ্ছাসেবক ও স্থানীয় বাসিন্দারা কাজ করেন।
জেলা প্রশাসক খন্দকার মুশফিকুর রহমান বলেন, বড় কোনো প্রাণহানি বা দুর্ঘটনা না ঘটায় আল্লাহর কাছে শুকরিয়া। ফায়ার সার্ভিস ও পুলিশসহ সংশ্লিষ্ট সবাই পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আন্তরিকভাবে কাজ করেছে। হাসপাতালসহ প্রয়োজনীয় বিভাগগুলো প্রস্তুত রাখা হয়েছিল। আগুনের সূত্রপাত কীভাবে হয়েছে, তা খতিয়ে দেখা হবে। পাশাপাশি ক্ষতিগ্রস্তদের সহায়তার বিষয়টিও বিবেচনা করা হবে।
প্রাথমিকভাবে একটি ক্রোকারিজের দোকান থেকে সূত্রপাত হয়েছে বলে জানা গেলেও কীভাবে আগুন লেগেছে, তা এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি। বিষয়টি তদন্ত করে দেখছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।
source: Asia Post







