গাজায় ইসরায়েলি হামলায় অন্তঃসত্ত্বা নারীর মৃত্যু, বিস্ফোরণে তীব্রতায় বেরিয়ে গেল ভ্রূণ

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ঘোষিত নতুন যুদ্ধবিরতি পরিকল্পনা নিয়ে গাজাবাসীর মধ্যে আশা তৈরি হলেও বাস্তবে ইসরায়েলি হামলা অব্যাহত রয়েছে। প্রতিদিনের মতো রোববারও গাজাজুড়ে একাধিক হামলায় হতাহতের ঘটনা ঘটেছে। এর মধ্যে গাজা সিটিতে একটি আবাসিক ভবনে হামলায় এক অন্তঃসত্ত্বা নারী, তার স্বামী ও অনাগত সন্তান নিহত হওয়ার ঘটনা গভীর শোকের সৃষ্টি করেছে।
আলজাজিরার গাজা প্রতিনিধি হিন্দ খুদারির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, রোববার সকালে গাজা সিটির একটি অ্যাপার্টমেন্টে ইসরায়েলি হামলায় একই পরিবারের তিন সদস্য নিহত হন। নিহতরা হলেন এক বাবা, এক অন্তঃসত্ত্বা মা এবং তাঁদের অনাগত সন্তান।
হিন্দ খুদারি জানান, বিস্ফোরণের তীব্রতায় অন্তঃসত্ত্বা নারীর গর্ভ থেকে ভ্রূণ বাইরে ছিটকে পড়ে। ঘটনাস্থলের ভিডিওতে অ্যাপার্টমেন্টের মেঝেতে নবজাতকের নিথর দেহ পড়ে থাকতে দেখা গেছে। তিনি বলেন, দৃশ্যটি এতটাই ভয়াবহ ছিল যে তা ভাষায় বর্ণনা করা কঠিন।
প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, যুদ্ধবিরতি বাস্তবায়নের ঘোষণা শুনে গাজার মানুষ আশা করেছিলেন, ইসরায়েলি হামলা বন্ধ হবে, ড্রোনের শব্দ ও বিস্ফোরণ থেমে যাবে, চিকিৎসাসেবা ও মানবিক সহায়তা সহজলভ্য হবে এবং চলাচলের স্বাধীনতা ফিরে পাবেন। কিন্তু বাস্তবে এসবের কোনোটিই কার্যকর হয়নি।
এদিকে বাস্তুচ্যুত একটি পরিবার আশ্রয়কেন্দ্র ছেড়ে ফিরে এসে দেখতে পায়, তাদের তাঁবুতেও হামলা হয়েছে। পরিবারের সদস্যরা নিজেদের কোনো জিনিসপত্র খুঁজে পাননি। ফলে তাদের আবারও শূন্য থেকে জীবন শুরু করতে হচ্ছে।
হিন্দ খুদারি বলেন, এ ধরনের ঘটনা এখন গাজায় প্রতিদিনের বাস্তবতা। মানুষ এখনো গৃহহীন, প্রতিনিয়ত হামলার শিকার হচ্ছে এবং তাদের বিশ্বাস, পুরো গাজা উপত্যকায় আর কোনো নিরাপদ স্থান অবশিষ্ট নেই।
রোববার গাজা সিটির পাশাপাশি খান ইউনিস ও দেইর আল-বালাহ এলাকাতেও হামলা হয়েছে। উত্তর, মধ্য ও দক্ষিণ—গাজার প্রায় সব এলাকাই হামলার আওতায় এসেছে। এতে বাসিন্দাদের সামনে নিরাপদ আশ্রয়ের কোনো বিকল্প নেই এবং কোথায় যাবেন বা কী করবেন, তা নিয়েও তারা দিশেহারা হয়ে পড়েছেন। গাজায় এক দিনের ইসরায়েলি হামলায় ১৯ জন নিহত হয়েছেন।
source: Asia Post







