News

গাজায় ফের হামলায় নিহত ১৮, ইসরায়েল বলছে যুদ্ধ থামাতে কোনো চুক্তি হয়নি

গাজায় টানা দ্বিতীয় দিনের মতো বিমান হামলা চালিয়েছে ইসরায়েল। এসব হামলায় অন্তত ১৮ ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন বলে জানিয়েছেন স্থানীয় স্বাস্থ্য কর্মকর্তারা। এ হামলা এমন সময় হলো, যখন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প যুদ্ধবিরতি বাস্তবায়নে অগ্রগতির কথা জানিয়েছিলেন। তবে ইসরায়েল বলছে, যুদ্ধ থামানোর জন্য কোনো ধরনের চুক্তি এখনো কোথাও সই হয়নি।

বার্তা সংস্থা রয়টার্স ও এএফপির খবরে বলা হয়েছে, রোববার ভোর থেকে গাজা সিটি, মধ্যাঞ্চলের দেইর আল-বালাহ ও দক্ষিণের খান ইউনিসে একাধিক বিমান হামলা চালায় ইসরায়েল। তাতে অন্তত ১৮ জন নিহত হয়েছেন। সাম্প্রতিক সপ্তাহগুলোর মধ্যে এটিই একদিনে সবচেয়ে বেশি প্রাণহানির ঘটনা।

হামলায় দেইর আল-বালাহে অন্তত চারজন নিহত হন। খান ইউনিসের আল-মাওয়াসি এলাকায় তাঁবুতে হামলায় পাঁচজন আহত হওয়ার পাশাপাশি কয়েকটি তাঁবুতে আগুন ধরে যায়। একই এলাকায় একটি বাড়িতে হামলায় এক দম্পতি ও তাদের ৯ বছর বয়সী ছেলে নিহত হন। গাজা সিটিতে একটি অ্যাপার্টমেন্টে হামলায় আরেক দম্পতি ও তাদের সন্তান নিহত হন।

এদিকে মিসরীয় প্রতিনিধি মিশনের কার্যালয়ের কাছে একটি তাঁবুতে হামলায় আরও দুজন ও জেইতুন এলাকায় আরও দুজন নিহত হন। জাবালিয়ার কাছে একজন নিহত হওয়ার খবরও জানিয়েছে স্থানীয় কর্তৃপক্ষ। পরে গাজা সিটির সারায়া স্কয়ারের কাছে একটি গাড়িতে হামলায় আরও তিনজন নিহত হন।

ইসরায়েলি সেনাবাহিনী জানিয়েছে, দেইর আল-বালাহর হামলায় হামাসের অভিজাত ‘নুখবা’ বাহিনীর দুই কমান্ডারকে লক্ষ্যবস্তু করা হয়েছিল। গাজা সিটি ও জাবালিয়াতেও ‘সামরিক সদস্য’দের লক্ষ্য করে হামলা চালানো হয়েছে বলে দাবি করেছে তারা।

ইসরায়েলের জ্বালানিমন্ত্রী এলি কোহেন বলেছেন, হামাসকে নিরস্ত্র হওয়ার সুযোগ দেওয়া হলেও তা বাস্তবায়ন হবে কি না তা নিয়ে তিনি ‘খুবই সন্দিহান’। তিনি বলেন, গাজায় হামলা বন্ধের কোনো চুক্তি হয়নি এবং হামাস নিরস্ত্র না হলে এরই মধ্যে প্রায় ৭০ শতাংশ এলাকা নিয়ন্ত্রণে থাকা ইসরায়েলের পুরো গাজা দখল করা প্রয়োজন হতে পারে।

এলি কোহেনের ভাষায়, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে হওয়া সমঝোতায় প্রথম শর্তই হলো হামাসকে সম্পূর্ণভাবে ভেঙে দেওয়া। পরে প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর কার্যালয়ের মুখপাত্র ডোরন স্পিলম্যানও জানান, হামাস সম্পূর্ণ ও কার্যকরভাবে নিরস্ত্র হওয়ার আগে কোনো পদক্ষেপ না নেওয়ার বিষয়ে ইসরায়েল তাদের উদ্বেগ যুক্তরাষ্ট্রকে জানিয়েছে।

শুক্রবার ট্রাম্পের উদ্যোগে যুদ্ধবিরতি তদারককারী ‘বোর্ড অব পিস’ ১৫ দফার একটি রোডম্যাপ প্রকাশ করে। সংস্থাটির গাজাবিষয়ক প্রধান দূত নিকোলাই ম্ল্যাডেনভ বলেন, রাজনৈতিক অগ্রগতি সত্ত্বেও চলমান হামলা উদ্বেগজনক। তিনি উত্তেজনা কমিয়ে ট্রাম্পের পরিকল্পনা বাস্তবায়নে সংশ্লিষ্ট পক্ষ, মধ্যস্থতাকারী ও আঞ্চলিক অংশীদারদের সঙ্গে কাজ চালিয়ে যাওয়ার কথা জানান।

অক্টোবরে যুদ্ধবিরতি কার্যকর হওয়ার পর থেকে ইসরায়েলি হামলায় অন্তত এক হাজার ২৩০ ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন বলে গাজার স্বাস্থ্য কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। একই সময়ে চার ইসরায়েলি সেনা নিহত হয়েছে।

হামাসের জ্যেষ্ঠ নেতা বাসেম নাইম বলেছেন, তারা আলোচনায় যথেষ্ট নমনীয়তা দেখিয়েছেন। তবে ইসরায়েল হামলা জোরদার করে যুদ্ধ বন্ধের প্রচেষ্টা ভণ্ডুল করতে এবং মাটিতে নতুন বাস্তবতা তৈরি করতে চাইছে বলে অভিযোগ করেন তিনি।

একই সঙ্গে সংযুক্ত আরব আমিরাতভিত্তিক সাবেক ফাতাহ নেতা মোহাম্মদ দাহলান দাবি করেছেন, ট্রাম্পের জামাতা জারেড কুশনার তাকে জানিয়েছেন, গাজায় হামলা বন্ধে ইসরায়েলের সঙ্গে কাজ চলছে। তবে এ বিষয়ে তাৎক্ষণিক কোনো মন্তব্য করেনি ইসরায়েল।

source: Rajneete

Back to top button