News

২ দিনের মধ্যে হরমুজ খুলতে চায় ইরান, আলোচনা কাতারের মধ্যস্থতায়

হরমুজ প্রণালি খুলে দেওয়ার বিষয়ে কাতারের মধ্যস্থতায় যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে নতুন একটি সমঝোতা প্রস্তাব দিয়েছে ইরান। তেহরানের শর্ত পূরণ করা হলে মাত্র দুই দিনের মধ্যে গুরুত্বপূর্ণ এই নৌপথে স্বাভাবিক জাহাজ চলাচল ফিরিয়ে আনা সম্ভব বলে জানিয়েছেন দেশটির পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি।

ইরানের প্রস্তাব অনুযায়ী, হরমুজ প্রণালি খুলে দেওয়ার আগে যুক্তরাষ্ট্রকে কয়েকটি পদক্ষেপ নিতে হবে। এর মধ্যে রয়েছে ইরানের ওপর আরোপিত নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার, মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন সামরিক উপস্থিতি কমানো এবং বিদেশে আটকে থাকা ইরানের সম্পদ ছাড় করা।

শনিবার আলজাজিরাকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে আরাগচি বলেন, হরমুজ প্রণালি পুনরায় খুলে দেওয়ার বিষয়ে ইরানের আগের সাত দিনের পরিকল্পনার সময়সীমা কমিয়ে দুই দিনে আনার একটি সমঝোতা প্রস্তাব তৈরি হয়েছে। কাতার প্রথমে এ সময়সীমা পাঁচ দিনে নামিয়ে আনার প্রস্তাব দিয়েছিল। পরে আলোচনার মাধ্যমে তা আরও কমিয়ে দুই দিনে আনার বিষয়ে অগ্রগতি হয়।

আরাগচির ব্যাখ্যা অনুযায়ী, প্রস্তাবটি কার্যকর হলে প্রথম দিন যুক্তরাষ্ট্রকে ইরানের নির্ধারিত শর্তগুলো পূরণ করতে হবে। এরপর দ্বিতীয় দিন থেকে হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচল স্বাভাবিক হবে। তবে এ প্রস্তাবে এখনো ওয়াশিংটনের সম্মতি মেলেনি।

তেহরানের শর্তগুলোর মধ্যে রয়েছে ইসলামাবাদ সমঝোতা ভেঙে যাওয়ার পর আরোপিত নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার, ইরানি তেল বিক্রির ক্ষেত্রে আগের ছাড় পুনর্বহাল এবং কাতারসহ বিভিন্ন দেশে আটকে থাকা ইরানের সব অর্থ ছাড় করা। পাশাপাশি মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন সেনা উপস্থিতি কমানোর দাবিও রয়েছে। হরমুজ প্রণালিতে ইরান ও ওমানের আলোচনায় নির্ধারিত নৌপথের স্বীকৃতি এবং বিকল্প কিছু পথ বন্ধ রাখার বিষয়টিও প্রস্তাবে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।

এদিকে ইরানের একটি প্রতিনিধিদল শনিবার কাতারের রাজধানী দোহায় পৌঁছেছে। এর আগে শুক্রবার তেহরানে কাতারের প্রতিনিধিদের সঙ্গে দীর্ঘ বৈঠক করেন ইরানি কর্মকর্তারা। এসব আলোচনায় যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে যুদ্ধ বন্ধ, হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচল এবং জ্বালানি সরবরাহ পরিস্থিতি গুরুত্ব পেয়েছে।

আরাগচি আরও জানিয়েছেন, মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জে ডি ভ্যান্সের পাঠানো একটি চিঠি তেহরান পর্যালোচনা করেছে। ইরানের নিরাপত্তাপ্রধান মোহসেন রেজাই চিঠিটিকে ইতিবাচক অগ্রগতি হিসেবে দেখেছেন। তবে দুই দিনের প্রস্তাবে এখনো সম্মতি দেয়নি ওয়াশিংটন। ফলে হরমুজ প্রণালি খুলে দেওয়ার বিষয়টি শেষ পর্যন্ত যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে সমঝোতার ওপরই নির্ভর করছে।

source: Rajneete

Back to top button