প্রকাশিত সংবাদ নিয়ে ওরিয়ন গ্রুপের বক্তব্য ও প্রতিবেদকের ব্যাখ্যা

এশিয়া পোস্টে গত ৭ ফেব্রুয়ারি প্রকাশিত `যাত্রাবাড়ী-গুলিস্তান ফ্লাইওভার/২৩৯২ দিন টোলের এক টাকাও সরকারকে দেয়নি ওরিয়ন’ শীর্ষক প্রতিবেদনের প্রতিবাদ জানিয়েছে প্রতিষ্ঠানটি। ওরিয়নের ভাইস প্রেসিডেন্ট মো. আশফাকুল আলমের পাঠানো প্রতিবাদ বার্তায় বলা হয়েছে, উক্ত প্রতিবেদনে যাত্রাবাড়ী-গুলিস্তান ফ্লাইওভার প্রকল্প এবং ওরিয়নের বিরুদ্ধে যেসব অভিযোগ উত্থাপন করা হয়েছে, সেগুলো সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন, বিভ্রান্তিকর ও প্রকৃত তথ্যের সঙ্গে সাংঘর্ষিক। এ ধরনের একপাক্ষিক ও যাচাই-বাছাইহীন সংবাদ একটি দায়িত্বশীল শিল্পগোষ্ঠীর জন্য মানহানিকর এবং অনভিপ্রেত।
প্রতিবাদ বার্তায় আরও বলা হয়েছে, চুক্তি অনুযায়ী টোল থেকে প্রাপ্ত অর্থ একটি নির্ধারিত ক্রমানুসারে ব্যয় হয়—ব্যাংক ঋণের কিস্তি ও সুদ, পরিচালন ব্যয়, রক্ষণাবেক্ষণ ব্যয় এবং অন্যান্য আবশ্যিক খরচ পরিশোধের পর অবশিষ্ট অর্থ থেকে নির্ধারিত শর্তে লভ্যাংশ প্রদান করা হয়। প্রতিদিন নির্দিষ্ট সংখ্যক যানবাহন চলাচল (গ্যারান্টিড ট্রাফিক) না হলে লভ্যাংশ প্রদানের বাধ্যবাধকতা সৃষ্টি হয় না।
বকেয়া সংক্রান্ত অভিযোগ তথ্যভিত্তিক নয় দাবি করে প্রতিবাদে বলা হয়েছে, কোভিড-১৯ মহামারি, বিকল্প সড়ক নির্মাণ এবং যানবাহন প্রবাহে পরিবর্তনের কারণে বহু দিনে প্রত্যাশিত ট্রাফিক পাওয়া যায়নি। চুক্তি অনুযায়ী যেসব দিনে নির্ধারিত সীমার বেশি যান চলাচল করেছে, সেসব দিনে প্রাপ্য লভ্যাংশ যথাযথভাবে পরিশোধ করা হয়েছে। অতএব এটি কোনো অনিয়ম বা বকেয়া নয়, বরং চুক্তির শর্তানুগ প্রক্রিয়া। টোল আদায় ও আর্থিক স্বচ্ছতা নিয়ে যে প্রশ্ন তোলা হয়েছে তা বাস্তবতার সঙ্গে সংগতিপূর্ণ নয় বলেও দাবি করেছে ওরিয়ন। এছাড়া আত্মপক্ষ সমর্থনের সুযোগ না দিয়ে একতরফা প্রতিবেদন প্রকাশ করা হয়েছে বলেও দাবি করেছে প্রতিষ্ঠানটি।
প্রতিবেদকের বক্তব্য: চুক্তির মেয়াদ বৃদ্ধির জন্য ডিএসসিসি প্রশাসকের কাছে ওরিয়ন গ্রুপের চিঠি এবং এর পরিপ্রেক্ষিতে করপোরেশনের তদন্ত প্রতিবেদন, স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের নির্দেশনার চিঠি, করপোরেশনের প্রধান নির্বাহী ও তদন্ত কমিটির আহ্বায়কের বক্তব্যের আলোকে প্রতিবেদন তৈরি হয়েছে। এতে প্রতিবেদকের ব্যক্তিগত কোনো মন্তব্য বা বক্তব্য নেই। প্রকাশিত প্রতিবেদনের সঙ্গে এ সংক্রান্ত সব নথিপত্র সংযুক্ত করা হয়েছে। আত্মপক্ষ সমর্থনের সুযোগ না দেওয়ার দাবিও ভিত্তিহীন। ওরিয়নের বক্তব্য জানতে প্রথমে প্রতিষ্ঠানটির সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা জাকারিয়া ইসলামের সঙ্গে যোগাযোগের করা হয়। তিনি এ বিষয়ে কোনো সদুত্তর না দিয়ে প্রতিবেদককে তার কার্যালয়ে আমন্ত্রণ জানান। এর পরদিন একটি ইংরেজি জাতীয় দৈনিক পত্রিকার ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা পরিচয়ে একজন ফোন দিয়ে এ বিষয়ে কথা বলার আগ্রহ প্রকাশ করেন এবং তার অফিসে যাওয়ার প্রস্তাব দেন। পরবর্তীতে খোঁজ নিয়ে জানা যায়, পত্রিকার পরিচয়ে ফোন দেওয়া ব্যক্তি ওরিয়ন গ্রুপেরও একজন কর্মকর্তা। কিন্তু একটি গণমাধ্যমে অনিয়মের প্রতিবেদন নিয়ে অন্য গণমাধ্যমের পরিচয়ে যোগাযোগ করার চেষ্টা অনভিপ্রেত। তাই প্রতিবেদক সচেতনভাবেই এ প্রস্তাব এড়িয়ে গেছেন। আত্মপক্ষ সমর্থনের সুযোগ না দেওয়ার দাবি সঠিক নয়।
source: Asia Post






