ব্রাজিলের প্রেসিডেন্ট নির্বাচন: পালটাপালটি প্রার্থিতা বাতিলের দাবি লুলা-বলসোনারোর

ব্রাজিলের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের দ্বিতীয় দফার ভোটের মাত্র চার দিন আগে পরস্পরের প্রার্থিতা বাতিলের দাবি তুলেছেন দুই প্রতিদ্বন্দ্বী লুইজ ইনাসিও লুলা দা সিলভা ও ফ্লাভিও বলসোনারো। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নির্বাচনি প্রচারে অনিয়ম ও হস্তক্ষেপের অভিযোগ ঘিরে তাদের এই পালটাপালটি আইনি পদক্ষেপে ভোটের আগে রাজনৈতিক উত্তেজনা আরও বেড়েছে।
মঙ্গলবার ফ্লাভিও বলসোনারোর আইনজীবীরা দেশটির সুপ্রিম ইলেক্টোরাল কোর্টে (সুপ্রিম নির্বাচনী আদালত) লুলার প্রার্থিতা বাতিলের আবেদন করেন। তাদের অভিযোগ, নির্বাচনি প্রচারের সময় হোয়াটসঅ্যাপে সরকারি বার্তা ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে দিয়ে ক্ষমতার অপব্যবহার করেছেন লুলা।
ব্রাজিলের সংবাদমাধ্যমের বরাতে আল-জাজিরা জানিয়েছে, সরকারের বিভিন্ন সামাজিক কর্মসূচি, সুবিধা ও উদ্যোগের প্রচারে লাখ লাখ মানুষের কাছে বার্তা পাঠানো হয়েছিল। বলসোনারোর শিবিরের দাবি, নির্বাচনের সময় এভাবে সরকারি প্রচার চালানো বেআইনি।
বলসোনারোর আবেদনে লুলা ও তার সরকারের সামাজিক যোগাযোগবিষয়ক মন্ত্রী সিদোনিও পালমেইরাকে আট বছরের জন্য সরকারি পদে অযোগ্য ঘোষণার দাবিও জানানো হয়েছে।
অন্যদিকে লুলার নির্বাচনি শিবিরও বুধবার ফ্লাভিও বলসোনারোর প্রার্থিতা বাতিলের আবেদন করার কথা জানিয়েছে। তাদের অভিযোগ, ফেসবুক, ইনস্টাগ্রাম ও হোয়াটসঅ্যাপের মালিক প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান মেটা অ্যালগরিদমের মাধ্যমে নির্বাচনি প্রচারে পক্ষপাতমূলক ভূমিকা রেখেছে। এতে লুলার নির্বাচনি প্রচার ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বলে দাবি তার শিবিরের।
লুলার পক্ষ থেকে অভিযোগ করা হয়েছে, মেটার প্ল্যাটফর্মগুলোতে তার প্রচারের বিস্তার সীমিত করা হয়েছে, অথচ প্রতিদ্বন্দ্বী বলসোনারোর প্রচারকে তুলনামূলকভাবে বেশি গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। তবে মেটা রাজনৈতিক পক্ষপাতের অভিযোগ অস্বীকার করেছে।
মেটাকে ২৪ ঘণ্টার সময়সীমা
চলমান এই বিতর্কের মধ্যে ব্রাজিলের নির্বাচনি আদালত সোমবার মেটাকে ২৪ ঘণ্টার মধ্যে প্রমাণ দিতে নির্দেশ দেয়, প্রতিষ্ঠানটি দুই প্রার্থীর প্রচারের ক্ষেত্রে সমান আচরণ নিশ্চিত করছে কি না। নির্দেশ অমান্য করলে প্রতিদিন প্রায় দুই লাখ ডলার জরিমানার হুঁশিয়ারিও দেওয়া হয়।
মঙ্গলবার মেটা জানায়, আদালতের নির্দেশ মেনে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। প্রতিষ্ঠানটির দাবি, দুই প্রার্থীর নির্বাচনি প্রচারের ক্ষেত্রে সমান আচরণ নিশ্চিত করতে ব্যবস্থা বাস্তবায়ন করা হয়েছে।
এর আগে লুলার শিবির অভিযোগ করেছিল, ইনস্টাগ্রামে তার কিছু পোস্টের বিস্তার কমিয়ে দেওয়া হয়েছে এবং সার্চে তার প্রোফাইল খুঁজে পাওয়ার ক্ষেত্রেও বাধা তৈরি হয়েছে। এ নিয়ে আদালত মেটাকে দুই প্রার্থীর প্রতি সমান আচরণ নিশ্চিত করার নির্দেশ দেয়।
ব্যবধান সামান্য, উত্তেজনা তুঙ্গে
আগামী ২৫ অক্টোবর ব্রাজিলে প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের দ্বিতীয় দফার ভোট হবে। প্রথম দফায় ফ্লাভিও বলসোনারো ৪৭ শতাংশ ভোট পেয়ে এগিয়ে ছিলেন। লুলা পেয়েছিলেন ৪৫ শতাংশ। কোনো প্রার্থীই ন্যূনতম ৫০ শতাংশ ভোট না পাওয়ায় দ্বিতীয় দফার ভোট হচ্ছে।
ফ্লাভিও সাবেক প্রেসিডেন্ট জইর বলসোনারোর ছেলে। তার সঙ্গে লুলার এই প্রতিদ্বন্দ্বিতা এরই মধ্যে ব্রাজিলের রাজনীতিতে তীব্র মেরুকরণ তৈরি করেছে। সাম্প্রতিক জনমত জরিপেও দুই প্রার্থীর মধ্যে ব্যবধান সামান্য।
ভোটের আগে দুই শিবিরের পালটাপালটি অভিযোগ এখন নির্বাচনি প্রচারের পাশাপাশি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের ভূমিকা ও নির্বাচনি বিধি প্রয়োগের প্রশ্নও সামনে এনেছে। তবে আদালত এসব আবেদনের বিষয়ে কী সিদ্ধান্ত নেয়, তা এখনো স্পষ্ট নয়।
source: Rajneete






