হুতিদের ঠেকাতে সৌদিকে সামরিক সহায়তার প্রস্তুতি মিসরেরও

ইয়েমেনের হুতি বিদ্রোহীদের হামলা থেকে সৌদি আরবকে রক্ষায় প্রয়োজনীয় সামরিক সহায়তা দেওয়ার প্রস্তুতি ঘোষণা করেছে মিসর। প্রেসিডেন্ট আবদেল ফাত্তাহ আল-সিসির সভাপতিত্বে মিসরের জাতীয় প্রতিরক্ষা পরিষদ এ সিদ্ধান্ত নিয়েছে। প্রয়োজনে সৌদি আরবের প্রতিরক্ষায় মিসরের সেনা মোতায়েনের অনুমোদন দিতে দেশটির পার্লামেন্টে জরুরি অধিবেশনও ডাকা হয়েছে।
বার্তা সংস্থা এপির খবরে বলা হয়েছে, মিসরের প্রেসিডেন্ট শনিবারই বলেছিলেন, সৌদি আরব আনুষ্ঠানিক অনুরোধ জানালে দেশটির নিরাপত্তা রক্ষায় ‘প্রয়োজনীয় যেকোনো ব্যবস্থা’ নিতে প্রস্তুত কায়রো। তবে তিনি জোর দিয়ে বলেন, মিসরের উদ্দেশ্য আগ্রাসন নয়, সৌদি ভূখণ্ড ও এর গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা রক্ষা করাই সম্ভাব্য সামরিক পদক্ষেপের লক্ষ্য।
সৌদি আরবের ওপর সাম্প্রতিক সময়ে হুতিদের হামলা উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। রিয়াদের আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর ও রাষ্ট্রীয় তেল কোম্পানি আরামকোর স্থাপনাকে লক্ষ্য করে ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলার খবর পাওয়া গেছে। এসব হামলায় হতাহত ও বিমান চলাচলে বিঘ্নের পাশাপাশি সৌদির গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি অবকাঠামোর নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।
এ অবস্থায় হুতিদের বিরুদ্ধে লড়তে পুরনো সম্পর্ককে নতুন করে সামনে এনেছে সৌদি আরব ও সংযুক্ত আরব আমিরাত। দুই দেশ এর আগে হুতিদের বিরুদ্ধে একজোট হয়ে লড়লেও চলতি বছরের শুরুর দিকে মতবিরোধের জের ধরে আলাদা হয়ে যায়। রোববার দুই দেশ জানিয়েছে, আমিরাত ইয়েমেনের হুতিবিরোধী দক্ষিণাঞ্চলীয় বাহিনীগুলোকে ফের অর্থসহায়তা দিতে শুরু করবে। বিনিময়ে এসব বাহিনীকে আকাশপথে সামরিক সুরক্ষা দেবে সৌদি আরব।
এবার হুতিদের ঠেকাতে সৌদি আরবের সঙ্গে যুক্ত হচ্ছে মিসরও। এ দেশটিও ইয়েমেনে কয়েক বছর ধরে হুতিদের বিরুদ্ধে সৌদি নেতৃত্বাধীন জোটে যুক্ত ছিল। ২০১৫ সালে সৌদি আরবের নেতৃত্বে হুতিবিরোধী সামরিক জোট গঠনের সময় কায়রো এতে অংশ নেয়। তবে মিসরের সামরিক ভূমিকা তুলনামূলকভাবে সীমিত ছিল। এবার নতুন করে সরাসরি প্রতিরক্ষামূলক সহায়তার কথা বলায় আঞ্চলিক সংঘাতে কায়রোর ভূমিকা বাড়তে পারে।
মিসরের এই অবস্থানের পেছনে সৌদি আরবের সঙ্গে দেশটির ঘনিষ্ঠ রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক সম্পর্কও গুরুত্বপূর্ণ। রিয়াদ দীর্ঘদিন ধরে মিসরের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ আর্থিক ও কৌশলগত অংশীদার। একই সঙ্গে লোহিত সাগর ও বাব এল-মান্দেব প্রণালির নিরাপত্তা মিসরের জন্যও গুরুত্বপূর্ণ। এই নৌপথ দিয়ে বৈশ্বিক বাণিজ্য ও জ্বালানি পরিবহন হয় এবং এর কাছেই মিসরের সুয়েজ খাল অবস্থিত।
তবে মিসর সরাসরি ইয়েমেন যুদ্ধে কতটা যুক্ত হবে, তা এখনো স্পষ্ট নয়। পার্লামেন্টের অনুমোদন এবং সৌদি আরবের আনুষ্ঠানিক অনুরোধ— দুই বিষয়ই গুরুত্বপূর্ণ। ফলে আপাতত কায়রোর অবস্থানকে সৌদি আরবের প্রতিরক্ষায় সম্ভাব্য সামরিক সহায়তার প্রস্তুতি হিসেবেই দেখা হচ্ছে।
source: Rajneete






