মাইনের আঘাতে ট্যাংকারে আগুন, হরমুজে আরও বাড়ল উত্তেজনা

হরমুজ প্রণালিতে একটি তেলবাহী ট্যাংকার সমুদ্রের মাইনে আঘাত পেয়ে বিস্ফোরিত হয়ে আগুন ধরে গেছে বলে জানিয়েছে ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কোর (আইআরজিসি)। গুরুত্বপূর্ণ এই নৌপথে জাহাজ চলাচল নিয়ে ইরান-যুক্তরাষ্ট্র উত্তেজনার মধ্যেই নতুন করে এ ঘটনা ঘটল।
আইআরজিসির বরাত দিয়ে ইরানের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম খবর দিয়েছে, ট্যাংকারটি হরমুজ প্রণালির দক্ষিণ অংশের একটি ‘অননুমোদিত’ পথে চলছিল। জাহাজটির অবস্থান ও নেভিগেশন ব্যবস্থা বন্ধ ছিল বলেও দাবি করেছে তারা। ওই অবস্থায় সেটি একটি নৌমাইনে আঘাত করলে ইঞ্জিনকক্ষে বিস্ফোরণ ও আগুনের সূত্রপাত হয়। তবে জাহাজটির নাম, আগুনে ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ কিংবা নাবিকদের হতাহতের বিষয়ে তাৎক্ষণিকভাবে বিস্তারিত জানানো হয়নি।
ইরান বলছে, হরমুজ প্রণালি দিয়ে চলাচলকারী জাহাজগুলোকে তাদের অনুমতি নিতে হবে। তবে আন্তর্জাতিক জাহাজ চলাচল ও নৌপথের নিয়ন্ত্রণ নিয়ে তেহরানের এ অবস্থান যুক্তরাষ্ট্র ও অন্যান্য দেশের সঙ্গে বিরোধের বড় কারণ হয়ে উঠেছে।
আল-জাজিরার খবরে বলা হয়েছে, গত কয়েক দিনে প্রণালিতে জাহাজকে ঘিরে একাধিক ঘটনা ঘটেছে। দুটি ট্যাংকার হামলার শিকার হওয়ার খবরও পাওয়া গেছে। এর মধ্যে একটি জাহাজ অজ্ঞাত কোনো ক্ষেপণাস্ত্র বা অস্ত্রের আঘাতে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বলে ব্রিটিশ মেরিটাইম কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে।
হরমুজ প্রণালি বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি পরিবহনপথ। যুদ্ধের আগে বৈশ্বিক তেল ও তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাসের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ এই পথ দিয়ে যেত। ফলে প্রণালিতে সামরিক উত্তেজনা বাড়লে জাহাজ চলাচল ব্যাহত হওয়ার পাশাপাশি বিশ্ববাজারে তেলের সরবরাহ নিয়েও উদ্বেগ তৈরি হয়।
এর মধ্যেই ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি জানিয়েছেন, যুক্তরাষ্ট্রের কাছে দেওয়া তেহরানের সাত দিনের মধ্যে হরমুজ খুলে দেওয়ার প্রস্তাব এখনো বহাল রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্র ইরানের শর্ত মেনে নিলে ছয় দিনের মধ্যে প্রণালি খুলে দেওয়া সম্ভব বলেও তিনি জানিয়েছেন।
ফলে একদিকে হরমুজে জাহাজ চলাচলের ঝুঁকি বাড়ছে, অন্যদিকে একই নৌপথকে কেন্দ্র করে কূটনৈতিক সমাধানের সম্ভাবনাও খোলা রেখেছে তেহরান।
source: Rajneete







