সেপ্টেম্বরে দায়িত্ব পালনকালে আক্রমণের শিকার ৪৩ সাংবাদিক

পেশাগত দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে গত সেপ্টেম্বর মাসে সারা দেশে অন্তত ৪৩ সংবাদকর্মী শারীরিক হামলা, আইনি হয়রানি ও হুমকির শিকার হয়েছেন। একই সঙ্গে সাংবাদিকদের পরিবারের সদস্যরাও শারীরিক নির্যাতন, গৃহ আক্রমণ ও অপহরণের হুমকির মুখে পড়েছেন। এ ছাড়া আক্রমণের শিকার হয়েছে গণমাধ্যম প্রতিষ্ঠানও।
বৃহস্পতিবার (১৫ অক্টোবর) বাংলাদেশ মিডিয়া মনিটরের এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, চলতি বছরের সেপ্টেম্বর মাসে সাংবাদিকদের ওপর আক্রমণের ঘটনা ঘটেছে ৩১টি। এতে শারীরিক হামলা, আইনি হয়রানি ও হুমকির শিকার হয়েছেন ৪৩ সংবাদকর্মী ও গণমাধ্যম প্রতিষ্ঠান।
একই সঙ্গে সাংবাদিকদের পরিবারের সদস্যরাও শারীরিক নির্যাতন, গৃহ আক্রমণ ও অপহরণের হুমকির মুখে পড়েছেন। এর মধ্যে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর হাতে আটক, মামলা দায়ের, জিজ্ঞাসাবাদ এবং ব্যক্তিগত ডিভাইস জব্দ করার মতো ঘটনাও ছিল।
বাংলাদেশ মিডিয়া মনিটরের পরিসংখ্যান বিশ্লেষণে দেখা যায়, ৩১টি ঘটনার মধ্যে হুমকি ও ভয় দেখানোর ঘটনা ছিল সর্বোচ্চ ৩৫.৪৮ শতাংশ, যার প্রত্যক্ষ শিকার হয়েছেন ১৩ সাংবাদিক। আইনি নিপীড়ন ও হয়রানিমূলক মামলার শিকার হয়েছেন ৮ সাংবাদিক, যা মোট ঘটনার ১৯.৩৫ শতাংশ। শারীরিক আক্রমণের ঘটনা ঘটেছে ৫টি, যা মোট ঘটনার ১৬.১৩ শতাংশ।
এ ঘটনায় ১১ জন সাংবাদিক সরাসরি রক্তাক্ত ও গুরুতর শারীরিক জখমের শিকার হয়েছেন। গ্রেপ্তার ও আটক হয়েছেন ২ জন সাংবাদিক। সাংবাদিকদের পাশাপাশি তাদের ব্যক্তিগত ও পারিবারিক পরিসরকেও লক্ষ্যবস্তু করা হয়েছে। তিনজন সাংবাদিকের বাসভবনে সশস্ত্র হামলা, তল্লাশির নামে তাণ্ডব এবং ভাঙচুরের মতো ঘটনা ঘটেছে।
এ ছাড়া বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্যাম্পাসে দায়িত্ব পালনকালে বাধা ও লাঞ্ছনার একটি ঘটনায় ৩ সাংবাদিক আক্রান্ত হয়েছেন এবং উন্মুক্ত গণজমায়েতে মব আক্রমণের ঘটনায় একজন সাংবাদিক শারীরিক নিগ্রহের শিকার হয়েছেন।
অন্যদিকে সংবাদ সম্মেলনে ধর্মীয় শর্ত চাপিয়ে নারী সাংবাদিকের প্রতি লিঙ্গভিত্তিক অবমাননা ও বৈষম্যের ঘটনা ঘটেছে। গণমাধ্যম প্রতিষ্ঠানের বেতন বকেয়ার প্রতিক্রিয়ায় মৃত্যু হয়েছে এক জ্যেষ্ঠ সাংবাদিকের।
বাংলাদেশ মিডিয়া মনিটরের প্রতিবেদন অনুযায়ী, এসব ঘটনার মধ্যে ১৫টিতে সরাসরি রাজনৈতিক নেতা, রাজনৈতিক দলের অঙ্গ-সহযোগী সংগঠন বা দলীয় প্রতিনিধিদের সংশ্লিষ্টতা পাওয়া গেছে। ১৬টি ঘটনায় জড়িত ছিল দুর্নীতিগ্রস্ত স্থানীয় আমলাতন্ত্র, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর একক স্বেচ্ছাচারিতা, সংঘবদ্ধ মাদক সিন্ডিকেট এবং অনিয়ন্ত্রিত মব সহিংসতা।
source: Asia Post







