News

আন্দোলন থামবে না— দাদির শেষকৃত্যে যাওয়ার আগে হুঁশিয়ারি অভিজিতের

দাদির শেষকৃত্যে যোগ দিতে মহারাষ্ট্রের গ্রামের বাড়ির উদ্দেশে রওনা হয়েছেন ককরোচ জনতা পার্টির (সিজেপি) প্রধান অভিজিৎ দীপকে। প্রায় ২৪ ঘণ্টা আটক থাকার পর রোববার সকালে মুক্তি পেয়েই তিনি হুঁশিয়ারি দিয়েছেন, সমর্থকদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হলেও আন্দোলন থামবে না। ভারতের প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগের দাবিতে দিল্লিতে বিক্ষোভের কর্মসূচি ঘিরে শনিবার তাকে আটক করেছিল পুলিশ।

রোববার (১১ অক্টোবর) সকালে দিল্লি ক্যান্টনমেন্টের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের সামনে হাজির করা হলে অভিজিৎ, সিজেপির নেতা সৌরভ দাস ও আশুতোষ রাঙ্কাকে মুক্তির আদেশ দেওয়া হয়। ৫০ হাজার টাকার বন্ড ও নির্দিষ্ট শর্তে তারা ছাড়া পান। শর্ত অনুযায়ী, আগামী এক বছর তারা এমন কোনো কাজ করতে পারবেন না, যাতে শান্তি ভঙ্গের আশঙ্কা তৈরি হয়। সিজেপির বিক্ষোভের প্রতি সংহতি জানানোয় আটক ইউটিউবার ধ্রুব রাঠিকেও ছেড়ে দিয়েছে পুলিশ।

মুক্তি পাওয়ার পর সিজেপি প্রধান অভিজিৎ দীপকে বলেন, তাদের সমর্থকদের বিরুদ্ধে পদক্ষেপ করা হলেও আন্দোলন চলবে। ১০ অক্টোবরকে ‘একনায়কতন্ত্রের অবসানের শুরু’র দিন হিসেবে দেখা হবে বলেও হুঁশিয়ারি দেন তিনি। সিজেপির নেতা সৌরভ দাস ও আশুতোষ রাঙ্কা সংবাদ সম্মেলন করবেন বলে জানিয়েছেন অভিজিৎ।

এদিকে, রোববারও দিল্লিতে বিক্ষোভের কর্মসূচি পালন করতে মাঠে নামে সিজেপি ও কয়েকটি ছাত্রসংগঠন। সিইসি জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগের দাবিতে কনট প্লেস এলাকায় জড়ো হন সিজেপি, এসএফআই, এআইওয়াইএফ ও এআইএসএফের সমর্থকরা। সেখানে বিপুলসংখ্যক পুলিশ মোতায়েন করা হয়। বিক্ষোভকারীরা জড়ো হওয়ার পরই তাদের আটক করতে শুরু করে পুলিশ। এ সময় ধস্তাধস্তি ও টানাহেঁচড়ার ঘটনা ঘটে। অনেককে প্রিজন ভ্যানে তোলা হয়।

এ দিন সকালে সিপিএমের রাজ্যসভার সদস্য জন ব্রিটাসকেও কনট প্লেসে বিক্ষোভে অংশ নেওয়ার সময় আটক করে পুলিশ। বিক্ষোভ ঘিরে পার্লামেন্ট স্ট্রিটের সঙ্গে সংযোগকারী অশোক রোড, টলস্টয় রোড ও জনপথ বন্ধ রাখা হয়। এসব সড়কে পরিচয়পত্র ছাড়া কাউকে প্রবেশ করতে দেওয়া হয়নি। একসঙ্গে চার-পাঁচজনকে দেখলেই আটক করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

এর আগে শনিবার দিল্লির যন্তর মন্তরে সিজেপির বিক্ষোভ কর্মসূচি পুলিশ আটকে দেয়। ওই কর্মসূচিতে যোগ দিতে দিল্লিতে পৌঁছানোর পর বিমান থেকেই অভিজিৎ, সৌরভ দাস ও আশুতোষ রাঙ্কাকে আটক করা হয়। গুরুগ্রামের বাড়ি থেকে আটক করা হয় ইউটিউবার ধ্রুব রাঠিকেও। পরে সতর্কতামূলক ব্যবস্থা হিসেবে তাদের গ্রেপ্তার দেখানো হয়। প্রায় ২৪ ঘণ্টা আটক থাকার পর রোববার সকালে অভিজিৎ ও তার দুই সহযোগী মুক্তি পান।

অভিজিতকে আটকের পরে মহারাষ্ট্রের হিঙ্গোলি জেলায় পৈতৃক গ্রামে তার ৮৫ বছর বয়সী দাদি সাবিত্রীবাঈ শঙ্করের মৃত্যু হয়। তবে নাতি বাড়ি ফিরবেন— এই আশায় এখনো তার শেষকৃত্য করেনি পরিবার। পরিবারের অভিযোগ, দাদির মৃত্যুর খবর অভিজিতকে জানায়নি দিল্লি পুলিশ। শনিবার মুম্বাই থেকে দিল্লিতে পৌঁছানোর পর তাকে বিমান থেকেই আটক করা হয়। এরপর সারা দিন তার সঙ্গে যোগাযোগ করতে পারেনি পরিবার।

অভিজিতের বাবা ভগবান দীপকে রোববার সকালে সংবাদ সংস্থা এএনআইকে বলেন, ‘আমাদের সঙ্গে ওর (দীপকে) কোনও যোগাযোগ হয়নি। ফোন করেছিলাম। যোগাযোগের চেষ্টা করেছি অনেক বার।’ দিল্লি পুলিশের দাবি প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘মনে হচ্ছে পুলিশ মিথ্যে বলছে। ওকে জানানো হয়ে থাকলে ও এতক্ষণে চলে আসত। দিল্লি থেকে তো সরাসরি বিমান ছিল। ওর বন্ধুদের সঙ্গেও আমরা যোগাযোগ করেছিলাম। তারাও বলছে, যোগাযোগ করতে পারছে না। দিল্লি থেকে ওকে অন্য কোথাও নিয়ে যাওয়া হয়েছিল। ও দিল্লিতে ছিলই না।’

দাদির শেষকৃত্য না করার কারণ জানিয়ে ভগবান দীপকে বলেন, ‘শেষকৃত্য এখনও করিনি। ও আসবে বলে আশা করে বসে আছি। দিল্লি পুলিশকে আমার আর কিছু বলার নেই। মিথ্যা প্রচার চলছে। বাড়িতে একটা মৃত্যু ঘটেছে। কালই ছেড়ে দেওয়া উচিত ছিল ওকে।’

অভিজিতের মা অনিতাও পুলিশের বিরুদ্ধে মিথ্যা বলার অভিযোগ করেছেন। তিনি বলেন, ‘আমরা ওর সঙ্গে একেবারেই যোগাযোগ করতে পারিনি। দিল্লি পুলিশ মিথ্যা কথা বলছে। ও যদি খবর পেয়ে থাকত, সঙ্গে সঙ্গে ছুটে চলে আসত। আমরা শেষকৃত্য আটকে রেখেছি ওর জন্য।’

তবে শনিবার রাতে দেওয়া এক বিবৃতিতে দিল্লি পুলিশ দাবি করে, অভিজিতের দাদির মৃত্যুর খবর তাকে জানানো হয়নি বলে যে প্রচার চলছে, তা ভুয়া। পুলিশের ভাষ্য, যথাযথ সংবেদনশীলতার সঙ্গে তাকে মৃত্যুসংবাদ জানানো হয়েছে। শেষকৃত্যের সময়ও জানিয়ে দেওয়া হয়েছে। নিজের শহরে ফিরতে চাইলে মানবিকতার খাতিরে তাকে সব ধরনের সহায়তা করার কথাও জানানো হয়। পুলিশের এই বক্তব্যের পরই তাদের বিরুদ্ধে মিথ্যাচারের অভিযোগ তোলে অভিজিতের পরিবার।

এদিকে শনিবারের বিক্ষোভ ঘিরে দিল্লির বিভিন্ন এলাকায় ব্যারিকেড বসানো, ইন্টারনেট পরিষেবায় বিঘ্ন এবং মেট্রো ও রেল চলাচলে বিধিনিষেধ আরোপের অভিযোগ ওঠে। এসব পদক্ষেপে জনসাধারণের অসুবিধার কথা তুলে ধরে সুপ্রিম কোর্টে মামলা করা হয়।

আজ রোববার বিশেষ শুনানিতে শীর্ষ আদালত মেট্রো ও রেল পরিষেবা স্বাভাবিক রাখা, ব্যারিকেডের প্রয়োজনীয়তা পর্যালোচনা এবং ইন্টারনেট পরিষেবা অক্ষুণ্ণ রাখার নির্দেশ দেন। একই সঙ্গে আইন মেনে মানুষের অবাধ যাতায়াত নিশ্চিত করতে বলেন আদালত। শান্তিপূর্ণ প্রতিবাদ করলে কাউকে আটক করা যাবে না বলেও জানান আদালত।

সূত্র: আনন্দবাজার ও এনডিটিভি

source: Rajneete

Back to top button