News

নোবেল পুরস্কার ট্রাম্পের সঙ্গে ভাগ করে নিতে পারি, কৌতুক করে বললেন নাভি পিল্লাই

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে নোবেল শান্তি পুরস্কার ভাগ করে নেওয়ার কথা বলেছেন নাভানেথেম ‘নাভি’ পিল্লাই। ২০২৬ সালের শান্তিতে নোবেলজয়ী হিসেবে তার নাম ঘোষণার পর প্রতিক্রিয়া জানাতে গিয়ে তিনি কৌতুক করে বলেন, ‘আপনারা যদি আরেকটু বেশি তালি দেন, তবে আমি হয়তো এই পুরস্কারটি ট্রাম্পের সঙ্গে ভাগ করে নিতে পারি।’

গত বছর শান্তিতে নোবেলজয়ী ভেনেজুয়েলার বিরোধী নেত্রী মারিয়া কোরিনা মাচাদো যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে নিজের পদক উপহার দিয়েছিলেন। এ বছরও নোবেল শান্তি পুরস্কার নিয়ে ট্রাম্পের আগ্রহের মধ্যে পিল্লাইয়ের এই মন্তব্য সামনে এল।

গত বুধবার ওভাল অফিসে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে ট্রাম্প বলেন, ‘আমি জানি না, তাদের (নোবেল কমিটি) সিদ্ধান্ত কী হতে যাচ্ছে। আমার মতো মানুষদের হয়তো তারা পুরস্কার দিতে চায় না।’ ট্রাম্প মনে করেন, নোবেল শান্তি পুরস্কার তারই পাওয়া উচিত।

দক্ষিণ আফ্রিকার বিশিষ্ট আইনজ্ঞ ও মানবাধিকারকর্মী নাভি পিল্লাইকে মানবাধিকার ও ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠায় অবদানের স্বীকৃতি হিসেবে এ বছরের নোবেল শান্তি পুরস্কার দেওয়া হয়েছে। শুক্রবার (৯ অক্টোবর) নরওয়ের রাজধানী অসলোতে নরওয়েজিয়ান নোবেল কমিটি তার নাম ঘোষণা করে।

দ্য গার্ডিয়ানের খবরে বলা হয়েছে, এ বছরের পুরস্কারের সম্ভাব্য প্রার্থী হিসেবে ইউক্রেনের শিশুদের নিয়ে কাজ করা সংগঠন, সুদানের জরুরি সহায়তা নেটওয়ার্ক এবং রাশিয়ার বিরোধী রাজনীতিক ইউলিয়া নাভালনায়ার নাম আলোচনায় ছিল। তবে শেষ পর্যন্ত পিল্লাইকে বেছে নেয় নোবেল কমিটি।

বর্ণবৈষম্যের বিরুদ্ধে লড়াই থেকে আন্তর্জাতিক বিচারাঙ্গনে

১৯৪১ সালে দক্ষিণ আফ্রিকার ডারবানে জন্ম নেওয়া পিল্লাই বর্ণবৈষম্যবিরোধী আন্দোলনের কর্মীদের পক্ষে আইনজীবী হিসেবে কাজ করেছেন। ১৯৬৭ সালে তিনি নাটাল প্রদেশে আইনজীবী হিসেবে কাজ শুরু করা প্রথম নারী হন। পরবর্তী সময়ে দক্ষিণ আফ্রিকার হাইকোর্টের প্রথম কৃষ্ণাঙ্গ নারী বিচারক হিসেবে নিয়োগ পান তিনি।

১৯৯৫ সালে রুয়ান্ডার আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের বিচারক হন পিল্লাই। ১৯৯৯ থেকে ২০০৩ সাল পর্যন্ত ট্রাইব্যুনালটির সভাপতির দায়িত্ব পালন করেন। রুয়ান্ডার গণহত্যার বিচারপ্রক্রিয়ায় তার ভূমিকা আন্তর্জাতিক অপরাধ আইনের বিকাশে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখে। বিশেষ করে, ধর্ষণকে গণহত্যার অপরাধ হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়ার ঐতিহাসিক বিচারিক সিদ্ধান্তের সঙ্গে তার কাজ যুক্ত।

২০০৩ সালে আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতের (আইসিসি) বিচারক হন পিল্লাই। পরে ২০০৮ থেকে ২০১৪ সাল পর্যন্ত জাতিসংঘের মানবাধিকারবিষয়ক হাইকমিশনার হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। এ সময় বিশ্বজুড়ে মানবাধিকার লঙ্ঘন, সংঘাতের মধ্যে যৌন সহিংসতা এবং নাগরিকদের অধিকার সুরক্ষার মতো বিষয় নিয়ে কাজ করেন তিনি।

এ বছর শান্তিতে নোবেল পুরস্কারের জন্য মোট ২৮৭ জন ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠান মনোনয়ন পেয়েছিল। তাদের মধ্যে ২০৮ জন ব্যক্তি এবং ৭৯টি প্রতিষ্ঠান ছিল। তবে নোবেল কমিটি সাধারণত মনোনীতদের নাম প্রকাশ করে না। মনোনয়নসংক্রান্ত তথ্য ৫০ বছর পর্যন্ত গোপন রাখা হয়।

পুরস্কার হিসেবে পিল্লাই পাবেন এক কোটি ২০ লাখ সুইডিশ ক্রোনা। আগামী ১০ ডিসেম্বর নরওয়ের অসলোতে আনুষ্ঠানিকভাবে তার হাতে পুরস্কার তুলে দেওয়া হবে।

গত বছর শান্তিতে নোবেল পুরস্কার পেয়েছিলেন ভেনেজুয়েলার বিরোধী নেত্রী মারিয়া কোরিনা মাচাদো। গণতান্ত্রিক অধিকার প্রতিষ্ঠা এবং স্বৈরশাসন থেকে শান্তিপূর্ণ উত্তরণের প্রচেষ্টার স্বীকৃতি হিসেবে তাকে এ পুরস্কার দেওয়া হয়েছিল।

source: Rajneete

Back to top button