News

প্রবীণদের স্বাস্থ্য ও সামাজিক নিরাপত্তা নতুন করে ভাবার আহ্বান রাষ্ট্রপতির

চিকিৎসাবিজ্ঞানের অগ্রগতি ও জীবনযাত্রার মানোন্নয়নের ফলে মানুষের গড় আয়ু বাড়ছে। একই সঙ্গে বিশ্বজুড়ে বাড়ছে প্রবীণ মানুষের সংখ্যা। এ পরিস্থিতিতে প্রবীণদের স্বাস্থ্যসেবা, সামাজিক নিরাপত্তা, আবাসন ও কর্মসংস্থান ব্যবস্থা নতুন করে ভাবার আহ্বান জানিয়েছেন রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।

১ অক্টোবর আন্তর্জাতিক প্রবীণ দিবস উপলক্ষে বুধবার (৩০ সেপ্টেম্বর) দেওয়া এক বাণীতে তিনি এ আহ্বান জানান।

রাষ্ট্রপতি বলেন, ‘চিকিৎসাবিজ্ঞানের অভাবনীয় অগ্রগতি এবং জীবনমানের উন্নয়নের ফলে মানুষের গড় আয়ু বৃদ্ধি পেয়েছে। ফলে, পৃথিবীর সব দেশেই প্রবীণ জনগোষ্ঠীর সংখ্যা ক্রমাগত বাড়ছে। দীর্ঘায়ুর এই যুগ প্রবীণ নাগরিকদের স্বাস্থ্যসেবা, সামাজিক নিরাপত্তা, আবাসন ও কর্মসংস্থান ব্যবস্থাপনাকে নতুন করে ঢেলে সাজানোর বিষয়ে চিন্তার সুযোগ সৃষ্টি করেছে।’

এবার আন্তর্জাতিক প্রবীণ দিবসের প্রতিপাদ্য ‘দ্য এইজ অব লংজিবিটি : রিথিংকিং সিস্টেমস ফর লংগার লাইভস’। বিশ্বের অন্যান্য দেশের মতো বাংলাদেশেও ১ অক্টোবর দিবসটি পালিত হচ্ছে উল্লেখ করে রাষ্ট্রপতি দেশের পাশাপাশি বিশ্বের সব প্রবীণ নাগরিককে আন্তরিক শুভেচ্ছা ও গভীর শ্রদ্ধা জানান।

প্রতিপাদ্যটি সময়োপযোগী ও তাৎপর্যপূর্ণ উল্লেখ করে তিনি বলেন, মানুষের স্বাভাবিক জীবনচক্রের অংশ হিসেবে বার্ধক্যে উপনীত হওয়া অনিবার্য। তাই প্রত্যেক মানুষের বার্ধক্য নিরাপদ ও মর্যাদাপূর্ণ হওয়া প্রয়োজন।

রাষ্ট্রপতি বলেন, বাংলাদেশের সংবিধানের ১৫(ঘ) অনুচ্ছেদে ক্রমবর্ধমান প্রবীণ জনগোষ্ঠীর জন্য সামাজিক নিরাপত্তা কাঠামো নিশ্চিত করাকে রাষ্ট্রের দায়িত্ব হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। এরই ধারাবাহিকতায় সরকার ২০২৬-২৭ অর্থবছরে বয়স্ক ভাতা খাতে ৫ হাজার ২৩৯ কোটি টাকা বরাদ্দ দিয়েছে। একই সঙ্গে সুবিধাভোগীর সংখ্যা ও ভাতার পরিমাণও বাড়ানো হয়েছে।

তিনি বলেন, প্রবীণদের কল্যাণ ও উন্নয়নে সরকার বিভিন্ন পদক্ষেপ নিয়েছে। এসব উদ্যোগ প্রবীণদের কল্যাণ ও মর্যাদাপূর্ণ জীবন নিশ্চিত করতে ইতিবাচক ভূমিকা রাখবে বলে তিনি আশা করেন।

প্রবীণদের অবদানের কথা তুলে ধরে রাষ্ট্রপতি বলেন, তারা কেবল অতীতের গল্প নন; তারা বর্তমানের শিকড় এবং ভবিষ্যতের পথপ্রদর্শক। তাদের শ্রম, ঘাম, মেধা, ত্যাগ ও অভিজ্ঞতার ওপর ভিত্তি করেই আজকের বাংলাদেশ গড়ে উঠেছে।

রাষ্ট্রপতি আরও বলেন, প্রবীণদের একটি বড় অংশ অবনতিশীল স্বাস্থ্য, আর্থিক অনিশ্চয়তা ও নিঃসঙ্গতার মধ্যে দিন কাটাচ্ছেন। একটি ন্যায়ভিত্তিক ও মানবিক রাষ্ট্র গড়ে তুলতে প্রবীণ জনগোষ্ঠীর প্রতি যত্নশীল দৃষ্টিভঙ্গি জরুরি।

সরকারের পাশাপাশি বেসরকারি প্রতিষ্ঠান, সামাজিক ও জনহিতৈষী সংগঠন, বিত্তবান ব্যক্তি এবং প্রতিটি পরিবার প্রবীণদের কল্যাণে আরও সক্রিয় ভূমিকা পালন করবে বলে আশা প্রকাশ করেন রাষ্ট্রপতি।

তিনি বলেন, প্রবীণদের প্রতি ভালোবাসা, তাদের হাসিমুখ ও নিরাপদ বার্ধক্য নিশ্চিত করা সবার অঙ্গীকার হওয়া উচিত।

বাণীর শেষে রাষ্ট্রপতি বাংলাদেশ ও বিশ্বের সব প্রবীণ ব্যক্তির সুস্বাস্থ্য ও শান্তিময় জীবন কামনা করেন।

source: Asia Post

Back to top button