৫০৬ কোটি টাকা বিদ্যুৎ বিল: বরখাস্ত ৪, গ্রাহককে ফোনে দুঃখপ্রকাশ জ্বালানিমন্ত্রীর

মাগুরায় ২৩৫ ইউনিট বিদ্যুৎ ব্যবহারের বিপরীতে ৫০৬ কোটি ৮৩ লাখ ১১ হাজার ৫৯৩ টাকার অস্বাভাবিক বিল দেওয়ার ঘটনায় মাগুরা পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির জেনারেল ম্যানেজার (জিএম) মো. মহিতুল ইসলামসহ চার কর্মকর্তা-কর্মচারীকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। একই সঙ্গে ভুক্তভোগী গ্রাহককে ফোন করে দুঃখ প্রকাশ করেছেন বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ।
বুধবার (৩০ সেপ্টেম্বর) মন্ত্রীর নির্দেশনায় বাংলাদেশ পল্লী বিদ্যুতায়ন বোর্ড এ বিষয়ে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেয়।
সাময়িক বরখাস্ত হওয়া অন্য তিনজন হলেন মাগুরার আড়পাড়া জোনাল অফিসের বিলিং সুপারভাইজার সীমা রাণী রায়, বিলিং সহকারী সোমা রানী ঘোষ এবং মিটার রিডার কাম মেসেঞ্জার মোহাম্মদ তোরাপ আলী। জিএম মহিতুল ইসলামকে যশোর অঞ্চলের তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলীর কার্যালয়ে এবং অন্য তিনজনকে মাগুরা সদর দপ্তরে সংযুক্ত করা হয়েছে।
ঘটনাটি গণমাধ্যম ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর মন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদের নজরে আসে। এরপর তিনি ভুক্তভোগী গ্রাহকের সঙ্গে মুঠোফোনে কথা বলেন এবং অনাকাঙ্ক্ষিত এই ঘটনার জন্য দুঃখ প্রকাশ করেন।
মন্ত্রী গ্রাহককে আশ্বস্ত করে বলেন, ইতোমধ্যে ভুল বিল সংশোধন করে সঠিক বিল দেওয়া হয়েছে। ভবিষ্যতে এ ধরনের কোনো সমস্যা হলে সরাসরি কর্তৃপক্ষকে জানানোর জন্যও তিনি অনুরোধ করেন।
৫০৬ ভুক্তভোগী গ্রাহক মাগুরা সদর উপজেলার মঘি ইউনিয়নের কেচুয়াডুবি গ্রামের মোছা. আলেয়া খাতুন। তিনি অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক শহীদুল ইসলামের স্ত্রী। সেপ্টেম্বর মাসের বিলে ২৩৫ ইউনিট বিদ্যুৎ ব্যবহারের বিপরীতে তার নামে ৫০৬ কোটি ৮৩ লাখ ১১ হাজার ৫৯৩ টাকা বিল করা হয়। পরে বিলটি সংশোধন করা হয়েছে।
প্রাথমিকভাবে জানা গেছে, মিটার পরিবর্তনের সময় মিটারের সিল নম্বরের অঙ্ক ভুল করে ডিমান্ড চার্জের ঘরে যুক্ত হওয়ায় অস্বাভাবিক বিলটি তৈরি হয়। বিষয়টি জানার পর দ্রুত বিল সংশোধন করা হয়।
ঘটনার প্রাথমিক সত্যতা পাওয়ার পর দায়িত্ব পালনে অবহেলার অভিযোগে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বিরুদ্ধে বিভাগীয় ও শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।
মন্ত্রী বলেন, সরকার জনবান্ধব ও সেবামূলক প্রশাসন নিশ্চিত করতে বদ্ধপরিকর। জনগণের দুর্ভোগ কমাতে বিদ্যুৎ-সংক্রান্ত যেকোনো অভিযোগ গুরুত্বের সঙ্গে নিয়ে দ্রুত কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
source: Asia Post







