News

সোলাইমানি হত্যার ঘটনায় মার্কিন কর্মকর্তাদের ৪৮০০ কোটি ডলার ‘দণ্ড’

ইরানের ইসলামি বিপ্লবী গার্ড কোরের (আইআরজিসি) কুদস ফোর্সের সাবেক কমান্ডার কাশেম সোলাইমানি হত্যার ঘটনায় মার্কিন কর্মকর্তাদের ৪৮ বিলিয়ন বা চার হাজার ৮০০ কোটি ডলার ক্ষতিপূরণ দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন ইরানের একটি আদালত।

বিবিসি ফার্সির খবরে বলা হয়েছে, ইরানের বিচার বিভাগের মুখপাত্র আলি কাজেমি এ তথ্য জানিয়েছেন।

আলি কাজেমি বলেন, মামলাটি এখন বাস্তবায়ন পর্যায়ে প্রবেশ করেছে। এতে তিন হাজার ১৭৩ জন বাদী রয়েছেন। মামলার ফৌজদারি অংশে ৭৩ জনকে অনুসন্ধান করা হচ্ছে বলেও জানান তিনি। তবে অভিযুক্তদের নাম, রায়ের বিস্তারিত আইনি ভিত্তি কিংবা ক্ষতিপূরণের অর্থ কীভাবে আদায় করা হবে— এসব বিষয়ে তিনি বিস্তারিত কিছু জানাননি।

ইরানের ঘোষিত এই রায় মূলত সোলাইমানি হত্যাকাণ্ড নিয়ে দেশটির দীর্ঘদিনের আইনি ও রাজনৈতিক অবস্থানেরই অংশ। ২০২০ সালের ৩ জানুয়ারি ইরাকের রাজধানী বাগদাদের আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের কাছে মার্কিন ড্রোন হামলায় সোলাইমানি নিহত হন। একই হামলায় ইরাকের ইরানপন্থি সশস্ত্র গোষ্ঠী কাতায়েব হিজবুল্লাহর নেতা আবু মাহদি আল-মুহান্দিসসহ আরও কয়েকজন নিহত হন।

তৎকালীন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প হামলার নির্দেশ দিয়েছিলেন। ওয়াশিংটনের দাবি ছিল, সোলাইমানি মার্কিন নাগরিক ও সেনাদের বিরুদ্ধে আসন্ন হামলার পরিকল্পনা করছিলেন এবং তাকে হত্যা করে সম্ভাব্য হামলা ঠেকানো হয়েছে। ইরান অবশ্য এই হত্যাকাণ্ডকে সার্বভৌমত্বের লঙ্ঘন এবং বেআইনি হত্যাকাণ্ড হিসেবে বর্ণনা করে।

হত্যাকাণ্ডের পর ইরান ইরাকে দুটি মার্কিন সামরিক ঘাঁটিতে ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালায়। এতে ইরানের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের সরাসরি সামরিক সংঘাতের আশঙ্কা তৈরি হলেও শেষ পর্যন্ত তা বড় যুদ্ধে রূপ নেয়নি। তবে সোলাইমানির মৃত্যু দুই দেশের দীর্ঘস্থায়ী বৈরিতাকে আরও তীব্র করে।

সোলাইমানি ইরানের সবচেয়ে প্রভাবশালী সামরিক কমান্ডারদের একজন ছিলেন। প্রায় দুই দশক কুদস ফোর্সের নেতৃত্বে থেকে তিনি মধ্যপ্রাচ্যে ইরানের সামরিক ও রাজনৈতিক প্রভাব বিস্তারে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন। লেবাননে হিজবুল্লাহসহ ইরানপন্থি গোষ্ঠীগুলোর সঙ্গে সম্পর্ক জোরদার, ইরাক ও সিরিয়ায় ইরানের সামরিক উপস্থিতি সম্প্রসারণ এবং সিরিয়ার গৃহযুদ্ধে প্রেসিডেন্ট বাশার আল-আসাদের সরকারের পক্ষে সামরিক সহায়তা সংগঠনে তার গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা ছিল।

সোলাইমানিকে হত্যার পর ইরান তাকে জাতীয় বীর হিসেবে তুলে ধরে এবং প্রতিবছর তার মৃত্যুবার্ষিকী পালন করে। অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্র তাকে সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড ও আঞ্চলিক অস্থিতিশীলতার সঙ্গে যুক্ত একজন গুরুত্বপূর্ণ সামরিক কমান্ডার হিসেবে বিবেচনা করত।

ইরানের আদালতের সর্বশেষ রায় সেই পুরোনো বিরোধকে আবার সামনে আনলেও ৪৮ বিলিয়ন ডলারের ক্ষতিপূরণ আদায়ের বাস্তব প্রক্রিয়া বা এর আন্তর্জাতিক আইনি কার্যকারিতা সম্পর্কে তেহরান এখনো বিস্তারিত কিছু জানায়নি।

source: Rajneete

Back to top button