News

সুনামগঞ্জে আওয়ামী লীগ নেতা ও সাবেক পিপি রুমেন গ্রেপ্তার

সুনামগঞ্জ জেলা আওয়ামী লীগের সদস্য, সাবেক পিপি ও জেলা আইনজীবী সমিতির সাবেক সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট ড. খায়রুল কবীর রুমেনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।

জনমনে আতঙ্ক সৃষ্টি, বিশৃঙ্খলা তৈরি ও নাশকতার চেষ্টার অভিযোগে দায়ের করা মামলায় মঙ্গলবার (২২ সেপ্টেম্বর) সন্ধ্যায় সুনামগঞ্জ শহরের ট্রাফিক পয়েন্ট এলাকা থেকে তাকে গ্রেপ্তার করে সুনামগঞ্জ সদর মডেল থানার পুলিশ।

সুনামগঞ্জ শহরে প্রতিবাদ মিছিলের ঘটনায় পুলিশের দায়ের করা সদর থানার নাশকতা মামলার ৬৩ নম্বর আসামি ড. খায়রুল কবীর রুমেন। এর কয়েক মাস আগের আরেকটি মামলায়ও আসামি ছিলেন তিনি।

জানা গেছে, সুনামগঞ্জ পৌরসভার ৮ নম্বর ওয়ার্ডের পশ্চিম হাজীপাড়ায় সার্কিট হাউসের সামনে সুনামগঞ্জ-সিলেট আঞ্চলিক মহাসড়কে ঝটিকা মিছিলের অভিযোগে সুনামগঞ্জ সদর মডেল থানায় মামলাটি দায়ের করা হয়। মামলায় জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি নুরুল হুদা মুকুট, সাধারণ সম্পাদক নোমান বখত পলিন, জেলা যুবলীগের আহ্বায়ক খায়রুল হুদা চপল, জেলা ছাত্রলীগের সভাপতি দীপঙ্কর কান্তি দে, সাধারণ সম্পাদক আশিকুর রহমান রিপনসহ ৬৩ জনের নাম উল্লেখ করা হয়েছে। মামলায় অজ্ঞাতনামা আরও ১৫ থেকে ২০ জনকে আসামি করা হয়েছে।

মামলার পর ভিডিও ফুটেজ পর্যালোচনা করে পুলিশ ইতোমধ্যে দুজনকে গ্রেপ্তার করেছে। তারা হলেন মাহমুদুল হাসান ফারদিন (২০) ও সালেহ আহমদ ফাইয়াজ (২৭)। আদালতে সোপর্দ করা হলে বিচারক তাদের কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।

আইনজীবীরা জানান, দুপুর আড়াইটার দিকে জেলা আইনজীবী সমিতি ভবন প্রাঙ্গণ ও আশপাশে সাদাপোশাকে পুলিশ অবস্থান নেয়। বিষয়টি বুঝতে পেরে খায়রুল কবির সমিতি ভবন থেকে বের হননি। একপর্যায়ে সমিতির পক্ষ থেকে পুলিশকে অনুরোধসহ জানানো হয়, বুধবার ওই মামলায় তিনি আদালতে হাজির হবেন, তাকে যেন গ্রেপ্তার করা না হয়। কিন্তু পুলিশ সেখান থেকে না সরায় সন্ধ্যার পর জেলা আইনজীবী সমিতির সভাপতি অ্যাডভোকেট মো. আবদুল হামিদ ও সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট মো. হুমায়ুন কবির মোটরসাইকেলে করে খায়রুল কবিরকে সদর মডেল থানায় নিয়ে যান। এ সময় সাদাপোশাকে পুলিশও আশপাশে ছিল।

সুনামগঞ্জ জেলা আইনজীবী সমিতির সভাপতি অ্যাডভোকেট আব্দুল হামিদ জানান, ওই মামলার হাজিরার বিষয়ে বার নেতৃবৃন্দের সঙ্গে কথা বলতে মঙ্গলবার বিকেলে সমিতির অফিসে আসেন রুমেন। এরপরই দেখা যায় বারের আশপাশে সাদা পোশাকধারী পুলিশ অবস্থান নিয়েছে। এটি বুঝতে পেরে বারের একজন সদস্য হিসেবে তাকে নিজেরাই থানায় এনে সোপর্দ করা হয়। সন্ধ্যায় সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক হুমায়ুন কবীর তাকে থানা পুলিশের কাছে সোপর্দ করেন।

সুনামগঞ্জ সদর মডেল থানার ওসি (তদন্ত) মো. আরিফ উল্লাহ জানান, খায়রুল কবির রুমেনের বিরুদ্ধে থানায় একটি মামলা রয়েছে। সেই মামলায় তাকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

source: Asia Post

Back to top button