News

যাদের জন্য পাসপোর্টে নতুন নিয়ম

সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারী, বিভিন্ন স্বায়ত্তশাসিত ও স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধি এবং উন্নয়ন প্রকল্পে কর্মরতদের সরকারি ও ব্যক্তিগত কাজে বিদেশ ভ্রমণের ক্ষেত্রে পাসপোর্ট ইস্যুর নিয়মে পরিবর্তন এনেছে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। অফিসিয়াল ও সাধারণ পাসপোর্ট ইস্যুর বিদ্যমান নিয়মে সংশোধন ও সমন্বয় এনে এ বিষয়ে নতুন পরিপত্র জারি করেছে মন্ত্রণালয়।

সোমবার (২১ সেপ্টেম্বর) স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের বহিরাগমন-৪ শাখা থেকে উপসচিব মোহাম্মদ নুরুজ্জামান স্বাক্ষরিত পরিপত্রটি জারি করা হয়। জারির দিন থেকেই এটি কার্যকর হবে।

নতুন নির্দেশনা অনুযায়ী, সরকারি আদেশ (জিও) ভিত্তিক বিদেশ সফরে কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বিনা ফিতে অফিশিয়াল পাসপোর্ট দেওয়ার বিধান বহাল রাখা হয়েছে। একই সঙ্গে নির্দিষ্ট শর্তসাপেক্ষে ব্যক্তিগত ভ্রমণের ক্ষেত্রেও অফিশিয়াল বা সাধারণ পাসপোর্ট গ্রহণের সুযোগ নির্ধারণ করা হয়েছে।

পরিপত্রে বলা হয়েছে, মন্ত্রণালয়ের রাজস্বখাতভুক্ত কর্মকর্তা-কর্মচারীদের পাশাপাশি জাতীয় সংসদ, সুপ্রিম কোর্ট, অ্যাটর্নি জেনারেলের কার্যালয়, নির্বাচন কমিশন, দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক), মহা-হিসাব নিরীক্ষক ও নিয়ন্ত্রকের কার্যালয় (সিএজি), বাংলাদেশ পাবলিক সার্ভিস কমিশন (বিপিএসসি) এবং বাংলাদেশ ব্যাংকের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা সরকারি কাজে বিদেশ সফরে গেলে জিওর ভিত্তিতে বিনা ফিতে অফিশিয়াল পাসপোর্ট পাবেন।

তবে ৯ম ও তদূর্ধ্ব গ্রেডের স্থায়ী কর্মকর্তারা ব্যক্তিগত কাজে বিদেশ যেতে চাইলে সরকারি আদেশ (জিও) অথবা অনাপত্তি সনদ (এনওসি) প্রদর্শনের মাধ্যমে নির্ধারিত ফি জমা দিয়ে অফিশিয়াল পাসপোর্ট গ্রহণ করতে পারবেন।

অন্যদিকে, স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠান, রাষ্ট্রায়ত্ত সংস্থা, স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠান এবং বিশেষ আইন বা অধ্যাদেশের মাধ্যমে গঠিত কমিশনের ৯ম ও তদূর্ধ্ব গ্রেডের কর্মকর্তারা সরকারি কাজে বিনা ফিতে অফিশিয়াল পাসপোর্ট পাবেন।

তবে ব্যক্তিগত কাজে বিদেশ ভ্রমণের ক্ষেত্রে তাদের সাধারণ পাসপোর্ট নিতে হবে। এ জন্য নির্ধারিত ফি পরিশোধ করতে হবে।

উন্নয়ন প্রকল্পে কর্মরত অস্থায়ী কর্মকর্তা-কর্মচারী এবং স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠানের নির্বাচিত প্রতিনিধিদের জন্যও পাসপোর্ট ইস্যুতে পৃথক বিধান রাখা হয়েছে।

নতুন নিয়ম অনুযায়ী, তারা সরকারি কাজে বিনা ফিতে সাধারণ পাসপোর্ট পাবেন। তবে ব্যক্তিগত কাজে বিদেশ ভ্রমণের ক্ষেত্রে নির্ধারিত ফি পরিশোধ করতে হবে।

এ ছাড়া সরকারি সফরে কোনো বেসরকারি ব্যক্তি অন্তর্ভুক্ত থাকলে, সরকারি আদেশের ভিত্তিতে তিনি সাধারণ পাসপোর্টের জরুরি সেবা নিতে পারবেন।

অফিশিয়াল পাসপোর্টের সর্বোচ্চ মেয়াদ ১০ বছর নির্ধারণ করা হয়েছে। তবে কোনো কর্মকর্তার চাকরির অবশিষ্ট মেয়াদ এবং অবসরোত্তর ছুটি (পিআরএল) শেষ হওয়ার সময় বিবেচনায় নিয়ে পাসপোর্টের প্রকৃত মেয়াদ নির্ধারণ করা হবে। পিআরএল চলাকালে কোনো কর্মকর্তা চাইলে অফিশিয়াল পাসপোর্ট জমা দিয়ে এর পরিবর্তে সাধারণ পাসপোর্ট নিতে পারবেন।

পরিপত্রে আরও বলা হয়েছে, ৯ম ও তদূর্ধ্ব গ্রেডের কর্মকর্তারা চাকরিতে বহাল থাকা অবস্থায় অফিশিয়াল পাসপোর্ট ব্যবহার করতে বাধ্য থাকবেন। এ সময়ে সাধারণ পাসপোর্ট নিতে হলে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের পূর্বানুমতি নিতে হবে।

বিদেশে বাংলাদেশের বিভিন্ন মিশনে কর্মরত নন-ডিপ্লোমেটিক কর্মকর্তা-কর্মচারীদের স্বামী বা স্ত্রী এবং ২৫ বছর বা তার কম বয়সি সন্তানদের জন্য পাঁচ বছর মেয়াদি অফিশিয়াল পাসপোর্ট বিনা ফিতে দেওয়ার বিধান রাখা হয়েছে।

এ ছাড়া ডিপ্লোমেটিক পদমর্যাদার কর্মকর্তাদের ‘ডোমেস্টিক এইড’-দের ক্ষেত্রে সরকারি অনুমোদন সাপেক্ষে নির্ধারিত ফি নিয়ে পাঁচ বছর মেয়াদি অফিশিয়াল পাসপোর্ট দেওয়া হবে। মিশনে দায়িত্বের মেয়াদ শেষ হলে এসব অফিশিয়াল পাসপোর্ট সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে জমা দিতে হবে।

জিও (সরকারি আদেশ) ও এনওসির (অনাপত্তিপত্র) সত্যতা যাচাই এবং জালিয়াতি প্রতিরোধে প্রতিটি মন্ত্রণালয়, বিভাগ ও সংস্থাকে একজন ফোকাল পয়েন্ট এবং একজন বিকল্প ফোকাল পয়েন্ট নির্ধারণের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

নির্ধারিত কর্মকর্তাদের পদবি, মোবাইল নম্বর ও ই-মেইলসহ বিস্তারিত তথ্য স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়, পাসপোর্ট অধিদপ্তর, স্পেশাল ব্রাঞ্চ (এসবি) এবং বেসামরিক বিমান চলাচল ও পর্যটন মন্ত্রণালয়ে পাঠাতে হবে।

একই সঙ্গে ইস্যু করা সব জিও ও এনওসির তথ্য সংশ্লিষ্ট দপ্তরের ওয়েবসাইটে প্রকাশ করার নির্দেশনাও দেওয়া হয়েছে।

source: Asia Post

Back to top button