হুতিদের ঠেকাতে যুক্তরাজ্যের সামরিক সহায়তা চায় সৌদি আরব

ইরান-সমর্থিত হুতিদের মোকাবিলায় যুক্তরাজ্যের কাছে সামরিক সহায়তা চেয়েছে সৌদি আরব। সৌদির অনুরোধের মধ্যে বাব আল-মান্দেব প্রণালির দিকে হুতিদের অগ্রযাত্রা ঠেকাতে সহায়তা এবং সৌদি তেল অবকাঠামোতে হামলা প্রতিরোধের বিষয় রয়েছে। ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী অ্যান্ডি বার্নহ্যাম আরও সহায়তার অনুরোধগুলো বিবেচনা করছেন। তবে এখন পর্যন্ত যুক্তরাজ্য কেবল সৌদি আরবে সামরিক উপদেষ্টা পাঠানোর বিষয়ে সম্মতি দিয়েছে বলে ব্লুমবার্গের প্রতিবেদনের বরাতে বিভিন্ন সংবাদমাধ্যম জানিয়েছে।
সাম্প্রতিক সময়ে ইয়েমেনের লোহিত সাগর উপকূল ধরে বাব আল-মান্দেবের দিকে অগ্রসর হয়েছে হুতিরা। ১১ সেপ্টেম্বর তারা কৌশলগত গুরুত্বপূর্ণ পেরিম দ্বীপে পৌঁছায় বলে রয়টার্স জানিয়েছে। এর আগে মোখা এলাকার নিয়ন্ত্রণ নিয়েও অগ্রসর হয়েছিল গোষ্ঠীটি। ফলে লোহিত সাগর ও এডেন উপসাগরের সংযোগস্থলে অবস্থিত গুরুত্বপূর্ণ এই নৌপথ নিয়ে উদ্বেগ বেড়েছে।
বাব আল-মান্দেব প্রণালি লোহিত সাগরকে এডেন উপসাগরের সঙ্গে যুক্ত করেছে এবং ইউরোপ, এশিয়া ও মধ্যপ্রাচ্যের মধ্যে গুরুত্বপূর্ণ নৌবাণিজ্যপথের অংশ। হুতিদের অগ্রযাত্রায় এই নৌপথে জাহাজ চলাচল ও জ্বালানি সরবরাহ নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। যুক্তরাজ্যও জানিয়েছে, হুতিদের হামলা আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা, নৌ চলাচলের স্বাধীনতা এবং লোহিত সাগর ও বাব আল-মান্দেবের গুরুত্বপূর্ণ বাণিজ্যপথকে হুমকির মুখে ফেলছে।
সৌদি আরবের অনুরোধের পর যুক্তরাজ্য সামরিক উপদেষ্টা পাঠানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে বলে প্রতিবেদনগুলোতে বলা হয়েছে। তবে সৌদি আরবের চাওয়া অন্যান্য সামরিক সহায়তা, বিশেষ করে হুতিদের বিরুদ্ধে কার্যক্রমে সরাসরি সহায়তার বিষয়ে এখনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়নি।
এর আগে হুতিদের অগ্রযাত্রা ঠেকাতে যুক্তরাষ্ট্রের কাছেও সামরিক সহায়তা চেয়েছিল সৌদি আরব। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প সরাসরি অভিযান পরিচালনার অনুরোধে সাড়া না দিয়ে সৌদিকে গোয়েন্দা তথ্য ও লক্ষ্যবস্তু নির্ধারণে সহায়তার প্রস্তাব দিয়েছেন বলে সাম্প্রতিক প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে।
ইয়েমেনে নতুন করে সংঘাত তীব্র হওয়ার পাশাপাশি সৌদি আরবের তেল অবকাঠামোতেও হুতিদের হামলা বেড়েছে। যুক্তরাজ্য গত ১০ সেপ্টেম্বর হুতিদের হামলার নিন্দা জানিয়ে সৌদি আরব ও ইয়েমেনের নিরাপত্তা ও সার্বভৌমত্ব রক্ষার অধিকার রয়েছে বলে জানিয়েছিল।
source: Rajneete







