News

কতিপয় মোল্লা ছাড়া কেউ হেবা আইনের বিরোধিতা করবে না: মাসুদ কামাল

কতিপয় মোল্লা ছাড়া বাংলাদেশের কোনো মানুষই হেবা আইনের বিরোধিতা করবেন না বলে মন্তব্য করেছেন জ্যেষ্ঠ সাংবাদিক মাসুদ কামাল।

শনিবার (১৩ সেপ্টেম্বর) একটি বেসরকারি টেলিভিশনের টক শোতে তিনি এসব কথা বলেন।

মাসুদ কামাল বলেন, রাস্তায় হাঁটতে যেকোনো একজনকে জিজ্ঞেস করেন, এই সরকার খুব খারাপ। কারণ, এরা জুলাই সমাজ বাস্তবায়ন করেছে না—দেখেন, তার মধ্যে কোনো প্রতিক্রিয়া হয় কি না। জুলাইয়ের সমাজ ও বাস্তবতা বুঝে বাংলাদেশে এমন কোনো মানুষ নেই, এই কতিপয় মোল্লা ছাড়া। এদের আমি মৌলভীও বলি না, জ্ঞানী ইসলাম বিশেষজ্ঞও বলি না। কতিপয় মোল্লা ছাড়া এই হেবা আইনের বিরোধিতা কেউ করবে না।

তিনি বলেন, যারা সম্পত্তি হেবা করে দিতে চান, তারাও এর বিরোধিতা করবেন না। যারা হেবা হিসেবে সম্পত্তি পেতে চান, তারাও করবেন না। সম্পত্তি দান বা হেবা আইন পাস হয়েছে, এতে খারাপটা কী আছে? ব্যবহারিক জীবনে এতে অন্যায় কিছু দেখি না।

মাসুদ কামাল বলেন, ভালো আইন একটা। আমাদের যে ইসলামি আইন আছে, সম্পত্তি ভাগ-বাটোয়ারার যে আইন আছে, তার সঙ্গে এটা কোনো সাংঘর্ষিক ব্যাপার নয়।

তিনি বলেন, এখানে একটা পয়েন্ট বলা হয়েছে যে, কাউকে যদি আমি হেবা করে দিই, তাহলে হেবা করে দেওয়ার সঙ্গে সঙ্গে ওই সম্পত্তির ওপর আমার কোনো অধিকার থাকবে না, এটা হবে না। কিন্তু এটা বলা হচ্ছে।’

সন্তানকে সম্পত্তি দেওয়ার বিষয়টি তুলে ধরে এই সাংবাদিক বলেন, বাস্তব জীবনে এমন ঘটনা দেখা যায়, যেখানে সন্তানকে সম্পত্তি দেওয়ার পর বৃদ্ধ মা-বাবাকে বাড়ি থেকে বের করে দেওয়া হয়েছে।

তিনি বলেন, আমি আমার কন্যাকে, পুত্রকে একটা কিছু দিলাম। আমাদের এমন হয়েছে যে বৃদ্ধ মা-বাবাকে বাইরে থেকে বের করে দিয়েছে। আমি আমার সন্তানকে একটা সম্পত্তি দেব—ইসলাম কি বলবে, তুমি তোমার সন্তানের দিকে তাকাবে না?

সন্তানের দায়িত্বের বিষয়ে মাসুদ কামাল বলেন, ইসলাম সন্তানকে মা-বাবার প্রতি কিছু দায়িত্ব দিয়েছে। তোমাকে বাবা দেখুক বা না দেখুক, তুমি তোমার বাবার প্রতি দায়িত্বগুলো পালন করবে। যদি সে দায়িত্বগুলো পালন করে, তাহলে তো তার অধিকার ফলানোর কোনো প্রয়োজনই পড়ে না।

তিনি আরও বলেন, কোনো সন্তান যদি ইসলামি আইন না মানে, তাহলে সেই সন্তানের জন্য সম্পত্তি দান করে কেন ইসলামি আইন মানা হবে- এমন যুক্তি গ্রহণযোগ্য নয়।

মাসুদ কামাল বলেন, আমি যার জন্য করছি, সে তো ইসলামি আইন মানছে না। তাহলে এটা কীভাবে হয়? বরং আমি মনে করি, এর মাধ্যমে বাবা-মায়ের প্রতি সন্তানের দায়িত্ব পালনের যে বিধান ইসলামি আইনে রয়েছে, তা মানার বাধ্যবাধকতা তৈরি হবে।

source: Asia Post

আরো দেখুন
Close
Back to top button