News

লিথুয়ানিয়াকে বাংলাদেশি পণ্য আমদানির আহ্বান

বাংলাদেশ ও লিথুয়ানিয়ার মধ্যকার দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক আরও জোরদার করার ওপর গুরুত্বারোপ করেছেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলাম। একই সঙ্গে বাংলাদেশ থেকে তৈরি পোশাক, বস্ত্র, ওষুধ, পাট ও পাটজাত পণ্য, চামড়া ও চামড়াজাত পণ্য, কৃষিপণ্য, আসবাবপত্র, প্লাস্টিক পণ্য এবং জাহাজ আমদানির জন্য লিথুয়ানিয়ার প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন তিনি।

মঙ্গলবার (১৮ আগস্ট) পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে বাংলাদেশে লিথুয়ানিয়ার অনাবাসিক রাষ্ট্রদূত ডায়ানা মিকেভিচিয়েনে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রীর সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেন। এ সময় দুই দেশের মধ্যে বিভিন্ন ক্ষেত্রে দ্বিপক্ষীয় সহযোগিতা ও অংশীদারত্ব বাড়ানোর বিষয়ে বিষদ আলোচনা হয়।

বৈঠকে শিক্ষা, জনমিতিক লভ্যাংশ (Demographic Dividend), জনশক্তি ও কর্মসংস্থানের সুযোগ, মানব চলাচল ও অভিবাসন, ভিসা সহজীকরণ, নারীর ক্ষমতায়ন, খেলাধুলা ও সংস্কৃতি এবং আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলোতে পারস্পরিক সম্পৃক্ততা বাড়ানোর মতো বিষয়গুলো উঠে আসে।

বাংলাদেশ ও লিথুয়ানিয়ার মধ্যে ১৯৯২ সালে প্রতিষ্ঠিত কূটনৈতিক সম্পর্কের কথা উল্লেখ করে শামা ওবায়েদ ইসলাম পারস্পরিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট সব ক্ষেত্রে সহযোগিতা সম্প্রসারণের ওপর গুরুত্ব দেন।

আরো পড়ুন

আলোচনায় তথ্যপ্রযুক্তি, ফিনটেক, ই-গভর্ন্যান্স, সাইবার নিরাপত্তা, ই-রেজিস্ট্রেশন, ই-পরিবহন, পরিবহন ব্যবস্থার ডিজিটালাইজেশন, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) এবং উচ্চপ্রযুক্তির চিকিৎসা সরঞ্জাম ব্যবস্থাসহ প্রযুক্তিভিত্তিক বিভিন্ন খাতে সহযোগিতা বাড়াতে লিথুয়ানিয়ার আগ্রহের কথা জানান দেশটির রাষ্ট্রদূত।

বাংলাদেশে চমৎকার বিনিয়োগ পরিবেশ ও সুযোগের কথা তুলে ধরে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী লিথুয়ানিয়ার বিনিয়োগকারীদের তৈরি পোশাক, চামড়া, লাইট ইঞ্জিনিয়ারিং, কৃষিপণ্য প্রক্রিয়াজাতকরণ, পেট্রোলিয়াম, নবায়নযোগ্য জ্বালানি, তথ্যপ্রযুক্তি ও বর্জ্য ব্যবস্থাপনা খাতে বিনিয়োগের আহ্বান জানান।

দুই দেশের সম্পর্ক আরও গভীর করতে উচ্চপর্যায়ের সফর, ব্যবসায়ী প্রতিনিধিদল বিনিময়, যৌথ বাণিজ্য চেম্বার গঠন, জ্ঞান ও প্রযুক্তি হস্তান্তর, যুব ও শিক্ষার্থী বিনিময়, সাংস্কৃতিক দল বিনিময়, পর্যটন সহযোগিতা এবং জনগণের মধ্যে মেলবন্ধন (পিপল-টু-পিপল কন্টাক্ট) বাড়ানোর ওপর আলোকপাত করা হয়।

লিথুয়ানিয়া ২০২৭ সালের জুন-জুলাইয়ে ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) পরবর্তী কাউন্সিল প্রেসিডেন্সির দায়িত্ব নেবে উল্লেখ করে রাষ্ট্রদূত বলেন, বিশেষ নিবন্ধন প্রয়োজন এমন বাংলাদেশি পণ্য—বিশেষ করে ওষুধ—এবং বিভিন্ন সেবার জন্য লিথুয়ানিয়া হতে পারে ইইউর মূল বাজারে প্রবেশের সহজ মাধ্যম বা প্রবেশদ্বার।

এ ছাড়া বৈঠকে ইইউ-বাংলাদেশ বিজনেস ফোরামের ভূমিকা, বিদ্যমান ব্যবসায়িক কাঠামো মেনে চলা, বৈধ ও নিয়মিত অভিবাসন নিশ্চিত করা এবং বাল্টিক অঞ্চলের যোগাযোগব্যবস্থাকে কাজে লাগিয়ে দুদেশের ব্যবসায়িক সম্ভাবনা বাড়ানোর বিষয়ে আলোচনা হয়।

source: Asia Post

Back to top button