পরকীয়া করতে গিয়ে লুঙ্গি রেখেই পালালেন প্রধান শিক্ষক

কুড়িগ্রামের ফুলবাড়ীতে এক নারীর সঙ্গে অনৈতিক সম্পর্কে জড়িত থাকার অভিযোগ উঠেছে এক প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে। স্থানীয়দের ধাওয়ার মুখে ওই শিক্ষক পরনের লুঙ্গি, জামা, স্যান্ডেল ও মোবাইল ফোন ফেলে পালিয়ে গেছেন বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।
বৃহস্পতিবার (৩ সেপ্টেম্বর) বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন নেওয়াশী ইউনিয়নের সাবেক ইউপি সদস্য মনসুর আলী।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, উপজেলার মধ্যরাবাইতারী গ্রামের নেওয়াশী বাজারের পশ্চিম পাড়ায় গত মঙ্গলবার (১ সেপ্টেম্বর) সন্ধ্যায় এ ঘটনা ঘটে। এ নিয়ে এলাকায় উত্তেজনা বিরাজ করছে।
অভিযুক্ত শিক্ষক নূরুল আমিন নূরু (৪৯) উত্তর রাবাইতারী উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক।
স্থানীয়দের অভিযোগ, দুই সন্তানের জননী মৌসুমী আক্তারের (৩৬) সঙ্গে দীর্ঘদিন ধরে তার অনৈতিক সম্পর্ক রয়েছে। চাকরি দেওয়ার প্রলোভন দেখিয়ে ওই নারীর সঙ্গে তিনি সম্পর্ক গড়ে তোলেন বলেও অভিযোগ করা হয়েছে।
স্থানীয়দের দাবি, এ নিয়ে এর আগে একাধিকবার সালিশ-বৈঠক ও প্রতিবাদ সভা হলেও কোনো সমাধান হয়নি।
তাদের ভাষ্য, গত মঙ্গলবার সন্ধ্যায় মৌসুমীকে তার এক আত্মীয়ের পরিত্যক্ত বাড়িতে ডেকে নেন ওই শিক্ষক। পরে স্থানীয়রা বিষয়টি জানতে পেরে বাড়িটি ঘেরাও করেন। এ সময় নূরুল আমিন সেখান থেকে পালিয়ে যাওয়ার সময় তার মোবাইল ফোন, পরনের লুঙ্গি, গামছা ও স্যান্ডেল ফেলে যান বলে স্থানীয়দের দাবি।
এ ঘটনার পর বুধবার (২ সেপ্টেম্বর) বিকেলে বটতলা বাজারে একটি সালিশ বৈঠক ডাকা হয়। তবে নিরাপত্তার কারণ দেখিয়ে অভিযুক্ত শিক্ষক সেখানে উপস্থিত হননি। বর্তমানে তিনি আত্মগোপনে রয়েছেন বলে স্থানীয়রা জানিয়েছেন।
এদিকে স্ত্রীর বিরুদ্ধে পরকীয়ার অভিযোগে তার স্বামী হাবিবুর রহমান তাকে তালাক দিয়েছেন বলে জানা গেছে। গত বুধবার কাজী অফিসে গিয়ে তিনি তালাকের আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন করেন।
হাবিবুর রহমান বলেন, ‘দুই নাবালক সন্তানকে নিয়ে থাকব, কিন্তু এমন স্ত্রীকে আর ঘরে রাখব না।’
স্থানীয় বিএনপি নেতা আইয়ুব মুন্সী বলেন, প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া প্রয়োজন।
তার দাবি, ওই শিক্ষকের বিরুদ্ধে বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীসহ আরও কয়েকজন নারীর সঙ্গে অনৈতিক সম্পর্কের অভিযোগ পাওয়া গেছে।
নেওয়াশী ইউনিয়নের সাবেক ইউপি সদস্য মনসুর আলী বলেন, ‘অভিযুক্ত প্রধান শিক্ষককে সালিশি বৈঠকে ডাকা হয়েছিল। তবে তিনি নিরাপত্তার কারণে বৈঠকে আসেননি।’
অভিযুক্ত প্রধান শিক্ষক নূরুল আমিনের মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও ফোনটি বন্ধ পাওয়া যায়। ফলে এ বিষয়ে তার বক্তব্য নেওয়া সম্ভব হয়নি।
ফুলবাড়ী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মাহমুদ হাসান নাইম বলেন, ‘মঙ্গলবার সন্ধ্যায় একটি বাড়ি ভাঙচুরের খবর পেয়ে পুলিশ সেখানে গিয়েছিল। তবে নারীর সঙ্গে অনৈতিক কর্মকাণ্ডের বিষয়ে আমরা কোনো অভিযোগ পাইনি।’
source: Asia Post







