News

কানাডার পণ্যে শুল্ক স্থগিত ট্রাম্পের, কার্নি বললেন ‘গুরুত্বপূর্ণ কাজ’ বাকি

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প কানাডার পণ্যের ওপর মঙ্গলবার দিবাগত রাত থেকে কার্যকর হতে যাওয়া নতুন ৫০ শতাংশ শুল্ক তিন দিনের জন্য স্থগিত করেছেন। তিনি বলেছেন, দুই দেশ একটি চুক্তিতে পৌঁছেছে। তবে এর প্রায় এক ঘণ্টা পর কানাডার প্রধানমন্ত্রী মার্ক কার্নি বলেছেন, আলোচনায় উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি হলেও ‘গুরুত্বপূর্ণ কিছু কাজ’ এখনো বাকি।

বার্তা সংস্থা রয়টার্সের খবরে বলা হয়, মঙ্গলবার (১৮ আগস্ট) ট্রাম্প তার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে দেওয়া এক পোস্টে জানান, কানাডা ও যুক্তরাষ্ট্র নথিপত্র চূড়ান্ত করার শর্তে একটি চুক্তিতে পৌঁছেছে। এ কারণেই তিনি শুল্ক কার্যকরের সময় তিন দিন পিছিয়ে দিয়েছেন।

মঙ্গলবার বিকেলে ট্রাম্প ও কার্নির মধ্যে কথা হয়। চলতি সপ্তাহে এটি ছিল দুই নেতার দ্বিতীয় দফার আলোচনা। এর পাশাপাশি দুই দেশের আলোচনাকারীরাও কয়েক সপ্তাহ ধরে তীব্র এবং অনেকটাই গোপনীয় আলোচনা চালিয়ে আসছিলেন।

কার্নি এক বিবৃতিতে বলেন, ‘আমরা এই কাজ চালিয়ে যাওয়ার সময় কানাডা দেশে আরও শক্তিশালী, আরও স্বাধীন ও আরও প্রতিযোগিতামূলক অর্থনীতি গড়ে তোলার দিকে মনোযোগী থাকবে।’

আরো পড়ুন

মার্কিন বাণিজ্য প্রতিনিধি জেমিসন গ্রিয়ারের দপ্তর জানিয়েছে, প্রস্তাবিত চুক্তিতে ‘সব ধরনের মার্কিন পণ্যের জন্য ব্যাপক বাজার-সুবিধা, অর্থনৈতিক নিরাপত্তা সংক্রান্ত প্রতিশ্রুতি, ডিজিটাল বাণিজ্যে সমন্বয়’সহ অন্যান্য বিষয় থাকবে।

হোয়াইট হাউজের ওয়েবসাইটে প্রকাশিত এক ঘোষণায় ট্রাম্প বলেন, কানাডা দুগ্ধজাত পণ্য, অ্যালকোহলযুক্ত পানীয় ও মোটরযানের ওপর শুল্ক নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের উদ্বেগ দূর করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে।

তবে মার্কিন কর্মকর্তারা এ বিষয়ে আর কোনো বিস্তারিত তথ্য দেননি। কানাডা সরকারও প্রস্তাবিত চুক্তির কোনো বিষয়বস্তু নিশ্চিত করেনি।

আলোচনা সম্পর্কে অবগত দুটি শিল্প খাতের সূত্র এর আগে জানিয়েছিল, যুক্তরাষ্ট্রের বিদ্যমান গাড়ি শুল্ক নিয়ে দুই দেশের মধ্যে মতবিরোধ ছিল আলোচনার অন্যতম প্রধান বাধা।

নতুন মার্কিন শুল্ক কার্যকর হলে প্রায় ২০ বিলিয়ন ডলারের কানাডীয় পণ্যের ওপর তা আরোপ করা হতো। কানাডার পণ্য যুক্তরাষ্ট্র-মেক্সিকো-কানাডা বাণিজ্য চুক্তির (ইউএসএমসিএ) আওতায় বিশেষ সুবিধা পাওয়ার যোগ্য কি না, তা বিবেচনা না করেই এসব শুল্ক কার্যকর হওয়ার কথা ছিল। এর আগে এই বাণিজ্য চুক্তিই কানাডার শিল্পের বড় একটি অংশকে যুক্তরাষ্ট্রের শুল্ক থেকে সুরক্ষা দিয়ে আসছিল।

ট্রাম্প তার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের পোস্টে আরও বলেন, সাবেক প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন ২০২১ সালে বাতিল করে দেওয়া কিস্টোন এক্সএল পাইপলাইন প্রকল্পটি ‘কবর থেকে আবার জেগে উঠতে পারে’। তবে এ বিষয়ে তিনি বিস্তারিত কিছু জানাননি।

বহু আইনি বাধা এবং কিছু বিশ্লেষকের সমালোচনা সত্ত্বেও ট্রাম্প তার বৈদেশিক ও বাণিজ্যনীতির অন্যতম প্রধান ভিত্তি হিসেবে শুল্ককে ব্যবহার করে আসছেন।

শুল্কে চাকরি হারানো, ব্যবসা বন্ধের আশঙ্কা

বাণিজ্য বিশেষজ্ঞ ও শিল্প খাতের কর্মকর্তারা এর আগে সতর্ক করে বলেছিলেন, নতুন শুল্ক কানাডার ঝুঁকিপূর্ণ কয়েকটি খাতে চাকরি হারানো এবং ব্যবসা বন্ধের কারণ হতে পারে। এসব খাতের মধ্যে রয়েছে কাঠ, মদ ও দুগ্ধশিল্প। তারা আরও সতর্ক করেছিলেন, এই বিরোধ ইউএসএমসিএ নিয়ে বৃহত্তর আলোচনাকেও জটিল করে তুলতে পারে।

যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বাণিজ্য সম্পর্কের দায়িত্বে থাকা কানাডার মন্ত্রী ডমিনিক লেব্ল্যাঙ্ক এবং দেশটির প্রধান বাণিজ্য আলোচক জেনিস শ্যারেট গত সপ্তাহ থেকেই আলোচনার জন্য ওয়াশিংটনে অবস্থান করছেন।

সোমবার কানাডার এই দুই কর্মকর্তা প্রায় দুই ঘণ্টা মার্কিন বাণিজ্য প্রতিনিধি গ্রিয়ার ও বাণিজ্যমন্ত্রী হাওয়ার্ড লুটনিকের সঙ্গে বৈঠক করেন।

গ্রিয়ার বারবার যেসব বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্রের অসন্তোষের কথা তুলে ধরেছেন, তার মধ্যে রয়েছে প্রথম দফার মার্কিন শুল্কের পর কানাডার আরোপ করা পাল্টা শুল্ক, কানাডার দুগ্ধপণ্য সরবরাহ ব্যবস্থাপনা এবং দেশটির কয়েকটি প্রদেশের মার্কিন মদ মজুত না করার সিদ্ধান্ত।

মঙ্গলবার রাতে দেওয়া এক বিবৃতিতে যুক্তরাষ্ট্রের ডিস্টিলড স্পিরিটস কাউন্সিল ট্রাম্পের ঘোষণাকে স্বাগত জানিয়েছে। সংগঠনটি এমন একটি আলোচনার মাধ্যমে সমাধানের আহ্বান জানিয়েছে, যাতে কানাডার সব প্রদেশের খুচরা দোকানে আবার মার্কিন মদ বিক্রি করা যায় এবং মদ খাতের জন্য ‘শূন্যের বিনিময়ে শূন্য শুল্ক’ ব্যবস্থা ফিরে আসে।

দুই দেশ কানাডা থেকে আমদানি করা গাড়ির ওপর যুক্তরাষ্ট্রের ‘সেকশন ২৩২’ শুল্ক ২৫ শতাংশ থেকে কমিয়ে ১৫ শতাংশ করার বিষয়েও আলোচনা করেছে বলে আলোচনার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো জানিয়েছিল। প্রতিটি গাড়িতে ব্যবহৃত মার্কিন পণ্যের পরিমাণের ভিত্তিতে এই শুল্ক আরও কমানোর বিষয়েও আলোচনা হয়েছে বলে সূত্রগুলো জানায়।

শুল্ক ছাড়ের হিসাব নিয়ে বিরোধ

শুল্ক ছাড়ের ক্ষেত্রে গাড়িতে ব্যবহৃত বিভিন্ন দেশের উপাদানের হিসাব কীভাবে করা হবে, সেটিও দুই দেশের আলোচনার অন্যতম বড় বিরোধের জায়গা ছিল।

আগের তথ্য অনুযায়ী, ওয়াশিংটন চাইছিল শুধু যুক্তরাষ্ট্রে উৎপাদিত উপাদানকে হিসাবের আওতায় রাখা হোক। অন্যদিকে কানাডা চেয়েছিল উত্তর আমেরিকার সব দেশের উপাদান—কানাডা ও মেক্সিকোতে তৈরি যন্ত্রাংশসহ—এই হিসাবের মধ্যে রাখা হোক।

মঙ্গলবার এর আগে মার্কিন বাণিজ্য বিভাগ কানাডা ও মেক্সিকো থেকে গাড়ি রপ্তানিকারকদের জন্য নতুন নিয়ম প্রকাশ করে। এতে গাড়ি নির্মাতাদের শুল্ক ছাড় পাওয়ার জন্য গাড়িতে ব্যবহৃত মার্কিন উপাদানের বর্তমান মাত্রা নিশ্চিত করতে হবে। একই সঙ্গে এই জটিল প্রক্রিয়াটি বছরে দুইবারের পরিবর্তে একবার করার নিয়ম করা হয়েছে।

তবে ফেডারেল রেজিস্টারে প্রকাশিত বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, নতুন বার্ষিক ব্যবস্থা ১ ডিসেম্বর থেকে শুরু হওয়ার আগে শুল্ক ছাড় দাবি করতে গাড়ি নির্মাতাদের আগামী ৩০ সেপ্টেম্বরের মধ্যে গাড়িতে ব্যবহৃত মার্কিন উপাদানের পরিমাণ পুনরায় নিশ্চিত করতে হবে।

কানাডা সরকারের একটি সূত্র গত সপ্তাহে জানিয়েছিল, নতুন শুল্ক কার্যকর হলে কানাডার হাতে সব ধরনের বিকল্পই খোলা থাকবে। এর মধ্যে ক্ষতিগ্রস্ত দেশীয় শিল্পে সরকারি সহায়তা দেওয়া এবং দুই দেশের বাণিজ্য আলোচনা সাময়িকভাবে স্থগিত করার বিষয়ও থাকতে পারে।

তবে ওই সূত্র একই সঙ্গে আশা প্রকাশ করেছিল, যুক্তরাষ্ট্র একটি চুক্তিতে পৌঁছাতে আগ্রহী।

source: Rajneete

Back to top button