অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে লাল-সবুজের ঐতিহাসিক জয়

যা আগে কখনো করতে পারেনি, ডারউইনে সেটিই করে দেখাল বাংলাদেশ। অস্ট্রেলিয়াকে তাদের মাটিতে প্রথমবার টেস্টে হারিয়ে ইতিহাসের নতুন অধ্যায় লিখেছে নাজমুল হোসেন শান্তর দল। সিরিজের প্রথম টেস্টে স্বাগতিকদের ৯ উইকেটে হারিয়েছে টাইগাররা।
জয়ের জন্য বাংলাদেশের সামনে লক্ষ্য ছিল মাত্র ৫৭ রান। ছোট লক্ষ্য তাড়ায় অবশ্য দ্বিতীয় ওভারেই ফেরেন প্রথম ইনিংসের শতকজয়ী তানজিদ হাসান। জশ হ্যাজলউডের দুর্দান্ত বলে কোনো রান না করেই বোল্ড হন তিনি। অস্ট্রেলিয়া এরপর চাপ তৈরির চেষ্টা করলেও হাতের মুঠোয় আসা ইতিহাস আর ফসকে যেতে দেয়নি বাংলাদেশ। ১৪.২ ওভারে ১ উইকেট হারিয়ে ৫৭ রান তুলে জয় নিশ্চিত করে সফরকারীরা।
এই জয়ের ভিত গড়ে দিয়েছিলেন বাংলাদেশের বোলাররা। টস জিতে ব্যাটিং নেওয়া অস্ট্রেলিয়াকে প্রথম ইনিংসে মাত্র ১৯৮ রানে গুটিয়ে দেয় তারা। ক্যারিয়ারসেরা বোলিংয়ে ৫৫ রানে ৬ উইকেট নেন হাসান মাহমুদ। অস্ট্রেলিয়ার ব্যাটারদের মধ্যে একমাত্র স্টিভ স্মিথই প্রতিরোধ গড়তে পেরেছিলেন, করেন ৭১ রান।
জবাবে ব্যাট হাতেও আধিপত্য দেখায় বাংলাদেশ। তানজিদের ঐতিহাসিক ১০১, অধিনায়ক শান্তর ৮৪ ও মেহেদী হাসান মিরাজের ৬৫ রানে ৪২৬ রান তোলে সফরকারীরা। অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে বাংলাদেশের প্রথম টেস্ট শতকটি আসে তানজিদের ব্যাট থেকে। প্রথম ইনিংস শেষে ২২৮ রানের বিশাল লিড পায় বাংলাদেশ।
দ্বিতীয় ইনিংসে অস্ট্রেলিয়াকে লড়াইয়ে রাখার একমাত্র নায়ক ছিলেন ক্যামেরন গ্রিন। ক্যারিয়ারের তৃতীয় এবং ঘরের মাঠে প্রথম টেস্ট শতক তুলে নিয়ে ১০৪ রান করেন তিনি। তবে অন্য প্রান্তে নিয়মিত উইকেট তুলে অস্ট্রেলিয়াকে ২৮৪ রানে থামিয়ে দেয় বাংলাদেশ।
বল হাতে এবার নেতৃত্ব দেন মিরাজ। স্টিভ স্মিথ, অ্যালেক্স ক্যারি, বিউ ওয়েবস্টার, প্যাট কামিন্স ও নাথান লায়নকে ফিরিয়ে ৬৬ রানে নেন ৫ উইকেট। কামিন্সকে আউট করে বাংলাদেশের প্রথম ক্রিকেটার হিসেবে বিশ্ব টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপে এক হাজার রান ও ১০০ উইকেটের ডাবলও পূর্ণ করেন তিনি। অন্যদিকে দ্বিতীয় ইনিংসে তিন উইকেট নিয়ে ম্যাচে হাসানের শিকার দাঁড়ায় ৯টি।
২০০৩ সালের পর প্রথমবার অস্ট্রেলিয়ায় টেস্ট খেলতে গিয়েই ইতিহাস গড়ল বাংলাদেশ। দেশটির মাটিতে এটি টাইগারদের প্রথম টেস্ট জয়। অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে সব মিলিয়ে দ্বিতীয়। ২০১৭ সালে মিরপুরে ২০ রানের জয়টি ছিল তাদের আগের একমাত্র সাফল্য।
ডারউইনের এই জয় শুধু একটি অঘটন নয়। চার দিন ধরে ব্যাটিং, বোলিং ও মানসিক দৃঢ়তায় অস্ট্রেলিয়াকে পেছনে ফেলে পাওয়া বাংলাদেশের টেস্ট ইতিহাসের অন্যতম সেরা অর্জন।
সংক্ষিপ্ত স্কোর
অস্ট্রেলিয়া: ১৯৮ ও ২৮৪
বাংলাদেশ: ৪২৬ ও ৫৭/১ (১৪.২ ওভার)
ফল: বাংলাদেশ ১ উইকেটে জয়ী।
source: Asia Post







