News

শ্রীলঙ্কায় ২ কারাগারে দাঙ্গায় নিহত ৩, আহত ২৩— বন্দির চাপে বাড়ছে সংকট

শ্রীলঙ্কার দুটি কারাগারে পৃথক দাঙ্গায় তিন বন্দি নিহত এবং অন্তত ২৩ জন আহত হয়েছেন। দীর্ঘদিন ধরে দেশটির কারাগারগুলোতে ধারণক্ষমতার তুলনায় অতিরিক্ত বন্দি এবং বিচারাধীন মামলার জটের মধ্যে নতুন করে এই সহিংসতার ঘটনা ঘটল।

বার্তা সংস্থা রয়টার্সের খবরে বলা হয়, শুক্রবার (৭ আগস্ট) দিবাগত রাতে রাজধানী কলম্বোর নিউ ম্যাগাজিন কারাগারে দাঙ্গা শুরু হলে একজন বন্দি নিহত এবং ১০ জন আহত হন। এরপর একই দিন ভোরে রাজধানী থেকে প্রায় ৮০ কিলোমিটার দূরের কুরুভিটা কারাগারে আরেকটি দাঙ্গায় দুই বন্দি নিহত ও ১৪ জন আহত হন।

দেশটির পার্লামেন্টে জননিরাপত্তামন্ত্রী আনন্দা উইজেপালা জানান, পুলিশ ও স্পেশাল টাস্ক ফোর্স (এসটিএফ) উভয় কারাগারেই পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে এনেছে। এ ছাড়া কলম্বো থেকে প্রায় ৪০ কিলোমিটার দূরের নেগোম্বোর একটি উন্মুক্ত কারাগারেও বন্দিদের বিক্ষোভ ছত্রভঙ্গ করতে পুলিশ টিয়ার গ্যাস নিক্ষেপ করে। পরে সেখানকার পরিস্থিতিও নিয়ন্ত্রণে আসে।

এর আগে গত জুলাইয়ের শুরুতে নেগোম্বোর একটি কারাগারে টানা দুই দিনের সংঘর্ষে ১০ জন কারারক্ষী ও ২০ জন বন্দি নিহত হন। গত সপ্তাহে কলম্বোর উপকণ্ঠের মাহারা কারাগারেও দাঙ্গায় একজন বন্দি নিহত এবং কয়েকজন আহত হন।

সাম্প্রতিক এসব ঘটনার পর নিউ ম্যাগাজিন, কুরুভিটা ও নেগোম্বো কারাগারে অতিরিক্ত পুলিশ ও দাঙ্গা নিয়ন্ত্রণকারী বাহিনী মোতায়েন করা হয়েছে। ছাদে উঠে পড়া বা খোলা জায়গায় জড়ো হওয়া বন্দিদের নিজ নিজ ওয়ার্ডে ফিরিয়ে নেওয়া হয়েছে।

জননিরাপত্তামন্ত্রী বলেন, ‘এখন পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। নিরাপত্তা নিয়ে কোনো উদ্বেগ নেই। তবে সাম্প্রতিক সব ঘটনাকে একসঙ্গে বিবেচনা করলে মনে হচ্ছে, এর পেছনে পরিকল্পিত নাশকতার চেষ্টা থাকতে পারে। তবে পূর্ণাঙ্গ তদন্ত শেষ হওয়ার আগে এ বিষয়ে নিশ্চিতভাবে কিছু বলা যাবে না।’

বহু বছর ধরেই শ্রীলঙ্কার কারাগারগুলো ধারণক্ষমতার তুলনায় অতিরিক্ত বন্দির চাপে রয়েছে। দেশটির ২২টি কারাগার সর্বোচ্চ প্রায় ১১ হাজার বন্দি রাখার জন্য নির্মিত হলেও বর্তমানে সেখানে ৪১ হাজারেরও বেশি বন্দি রয়েছেন। তাদের মধ্যে তিন-চতুর্থাংশের বেশি বিচারাধীন বন্দি, যাদের অনেকেই মাদক-সংশ্লিষ্ট মামলায় আটক।

ক্রমবর্ধমান মামলার জট কমাতে এবং বিচারপ্রক্রিয়া দ্রুত করতে শ্রীলঙ্কা সরকার সংবিধান সংশোধনের মাধ্যমে উচ্চ আদালতের বিচারকদের চাকরির মেয়াদ আরও দুই বছর বাড়ানোর পরিকল্পনা করছে। সরকারের আশা, এতে ১০ লাখের বেশি বিচারাধীন মামলার জট কমবে এবং দীর্ঘ সময় ধরে বিচারাধীন বন্দির সংখ্যাও হ্রাস পাবে।

source: Rajneete

Back to top button