৫ ট্রিলিয়ন ডলারের অর্থনীতির পথে ভারত, জানালেন অর্থমন্ত্রী সীতারামন

আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের (আইএমএফ) পূর্বাভাস অনুযায়ী, ২০২৮-২৯ অর্থবছরে ভারতের অর্থনীতি ৫ ট্রিলিয়ন ডলারের মাইলফলক অতিক্রম করবে বলে জানিয়েছেন দেশটির অর্থমন্ত্রী নির্মলা সীতারামন। রাজ্যসভায় এক লিখিত জবাবে তিনি বলেন, বর্তমান মূল্যে ওই সময় ভারতের মোট দেশজ উৎপাদন (জিডিপি) প্রায় ৫ দশমিক ১ ট্রিলিয়ন ডলারে পৌঁছাতে পারে।
অর্থমন্ত্রী জানান, এই লক্ষ্য অর্জনে কৃষি, উৎপাদনশিল্প, ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্প (এমএসএমই), অবকাঠামো এবং ডিজিটাল প্রযুক্তিকে কেন্দ্র করে সমন্বিত প্রবৃদ্ধির কৌশল বাস্তবায়ন করছে সরকার। একই সঙ্গে ২০৪৭ সালের মধ্যে ‘বিকশিত ভারত’ গড়ার দীর্ঘমেয়াদি লক্ষ্য নিয়েও কাজ চলছে।
শিল্প খাতে উৎপাদন বাড়াতে প্রোডাকশন লিঙ্কড ইনসেনটিভ (পিএলআই), ‘মেক ইন ইন্ডিয়া’, ‘পিএম গতিশক্তি’ এবং নতুন লজিস্টিকস নীতির আওতায় বিনিয়োগ ও উৎপাদন বাড়ানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। অন্যদিকে জরুরি ঋণ নিশ্চয়তা প্রকল্প, ‘উদ্যম’ নিবন্ধন এবং ‘পিএম বিশ্বকর্মা’ কর্মসূচির মাধ্যমে ক্ষুদ্র ও মাঝারি উদ্যোক্তাদের সহায়তা দেওয়া হচ্ছে।
ডিজিটাল ও উচ্চপ্রযুক্তি খাতেও গুরুত্ব বাড়ানো হয়েছে। সরকার ডিজিটাল পাবলিক ইনফ্রাস্ট্রাকচার, গ্লোবাল ক্যাপাবিলিটি সেন্টার (জিসিসি), কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই), সেমিকন্ডাক্টর, ইলেকট্রনিকস, পরিচ্ছন্ন জ্বালানি ও বায়োফার্মাসিউটিক্যাল শিল্পে বিনিয়োগ বাড়ানোর পরিকল্পনা নিয়েছে। ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটে জাতীয় আতিথেয়তা ইনস্টিটিউট, আঞ্চলিক মেডিকেল হাব এবং অ্যানিমেশন, ভিজ্যুয়াল এফেক্টস, গেমিং ও কমিকস (এভিজিসি) খাতের জন্য কনটেন্ট ক্রিয়েটর ল্যাব স্থাপনের ঘোষণাও দেওয়া হয়েছে।
এ ছাড়া কৃষিতে সেচব্যবস্থা, প্রযুক্তির ব্যবহার, ফসলের বৈচিত্র্য এবং বাজারজাতকরণে উন্নয়নের পাশাপাশি মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি (এফটিএ) সম্প্রসারণ, জিএসটি ও আয়কর সংস্কারের মাধ্যমে ব্যবসাবান্ধব পরিবেশ তৈরির উদ্যোগের কথাও উল্লেখ করেন অর্থমন্ত্রী।
রাজ্যসভায় ব্যাংকিং খাত সম্পর্কিত আরেক প্রশ্নের জবাবে নির্মলা সীতারামন জানান, ২০২৪-২৫ অর্থবছরে খেলাপি ঋণ আদায়ে সারফায়েসাই আইনের আওতায় ব্যাংকগুলো ২ লাখ ১৫ হাজার ৭০৯টি মামলা করেছে, যার বিপরীতে দাবি করা অর্থের পরিমাণ ১ লাখ ৩ হাজার ১৮০ কোটি রুপি। এর মধ্যে প্রায় ৩২ হাজার ৪৬৬ কোটি রুপি পুনরুদ্ধার করা সম্ভব হয়েছে।
source: Rajneete







