News

জুলাইযোদ্ধা আয়াসকে হামলা: স্বামীসহ কারাগারে শান্তা ফারজানা

রাজধানীর শাহবাগে জুলাই যোদ্ধা ও এসডিএএফের সদস্য সচিব আল নূর মোহাম্মদ আয়াসসহ কয়েকজনকে গুরুতর আহত করার অভিযোগে সন্ত্রাসবিরোধী আইনে করা মামলায় ‘নতুন ধারা বাংলাদেশ’-এর ভাইস চেয়ারম্যান শান্তা ফারজানা ও তার স্বামী মোমেন মেহেদীসহ গ্রেপ্তার ছয়জনকে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।

বুধবার (৪ আগস্ট) বিকেলে তদন্ত কর্মকর্তা শাহবাগ থানার উপপরিদর্শক মনিরুল ইসলামের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট কামাল উদ্দীন এ আদেশ দেন। রাষ্ট্রপক্ষের পাবলিক প্রসিকিউটর (পিপি) ওমর ফারুক ফারুকী বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

জামিন নামঞ্জুর হয়ে কারাগারে যাওয়া অন্য চারজন হলেন—সংগঠনটির ভাইস চেয়ারম্যান ডা. নূরজাহান নীরা (৪০), যুগ্ম মহাসচিব মনিরুজ্জামান (৪৭), সাংগঠনিক সম্পাদক আফতাপ মণ্ডল (৪০) ও হরী সরকার (৩৬)।

চার আসামির পক্ষে তাদের আইনজীবীরা জামিন আবেদন করলে আদালত তা নামঞ্জুর করেন। অন্যদিকে, শান্তা ফারজানা ও তার স্বামীর পক্ষে একাধিক আইনজীবী থাকায় এদিন তাদের জামিন শুনানি হয়নি। পরবর্তীতে ঢাকা বারের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী এ সংক্রান্ত শুনানি হবে।

এদিন বিকেলে আসামিদের আদালতে হাজির করা হলেও রিমান্ড আবেদন না থাকায় তাদের এজলাসে তোলা হয়নি। আসামিপক্ষের জামিনের বিরোধিতা করে রাষ্ট্রপক্ষে শুনানি করেন পাবলিক প্রসিকিউটর পিপি ওমর ফারুক ফারুকী।

এর আগে সকালে ৬ জনের নাম উল্লেখ এবং অজ্ঞাতনামা আরও ৫০-৬০ জনকে অভিযুক্ত করে শাহবাগ থানায় বাবুল সরদার নামে এক ব্যক্তি মামলাটি দায়ের করেন। এজাহারে বাদী অভিযোগ করেন, আসামি শান্তা ফারজানা ও মোমেন মেহেদী পূর্বে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে বেআইনিভাবে প্রবেশ করে জুলাই আন্দোলনকে ‘জঙ্গি আন্দোলন’ হিসেবে আখ্যায়িত করেন এবং জুলাইয়ের প্রথম শহীদ আবু সাঈদকে নিয়ে অবমাননাকর মন্তব্য করেন।

এজাহারে আরও উল্লেখ করা হয়, শান্তা ফারজানা ও মোমেন মেহেদী ইতিপূর্বে আওয়ামী লীগের পক্ষে গণমাধ্যমে বক্তব্য প্রদান করে শেখ হাসিনাকে বৈধ প্রধানমন্ত্রী দাবি করেন এবং জুলাই আন্দোলনকে ‘জঙ্গি আন্দোলন’ হিসেবে আখ্যা দেন। এছাড়া তারা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও টেলিগ্রাম গ্রুপের মাধ্যমে সরকারবিরোধী অপপ্রচার চালিয়ে আসছিলেন।

ঘটনার বিবরণ দিয়ে এজাহারে বলা হয়, গত ৪ আগস্ট রাত আনুমানিক ৭টার দিকে শাহবাগ প্রেস ক্লাবের সামনে আসামিরা রাষ্ট্রবিরোধী স্লোগান দিয়ে মিছিল বের করেন। সেখানে উপস্থিত এসটিএফ সদস্য আল নূর মোহাম্মদ আয়াসসহ জুলাই শহীদ পরিবারের সদস্যরা এর প্রতিবাদ করলে আসামিরা দেশীয় ধারালো অস্ত্র, লাঠি, এসএস পাইপ ও চেয়ার নিয়ে অতর্কিত হামলা চালায়।

অভিযোগে আরও বলা হয়, ১ নম্বর আসামি শান্তা ফারজানা হত্যার উদ্দেশ্যে এসএস পাইপ দিয়ে আঘাত করে আল নূর মোহাম্মদ আয়াসের মাথা, মুখ ও দুই হাত রক্তাক্ত জখম করেন। এ সময় জুলাই যোদ্ধা মহসিন, আশরাফুল ও তাওহীদও আহত হন। হামলায় বাদী বাবলু সরদার নিজেও আহত হন। পরে স্থানীয়রা আয়াসকে উদ্ধার করে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করেন।

source: Asia Post

Back to top button