জিয়াউর রহমান হত্যাকাণ্ডে জড়িত মোজাফফরের ফেসবুক তথ্য চেয়ে মেটাকে চিঠি

সাবেক রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান হত্যাকাণ্ডে জড়িত থাকার অভিযোগে গ্রেপ্তার মোজাফফর হোসেনের ফেসবুক-মেসেঞ্জারের তথ্য চেয়ে মেটার কাছে চিঠি পাঠিয়েছে প্রসিকিউশন। মোজাফফরের সরাসরি মেসেঞ্জারে কয়েকজনের সঙ্গে কথা বলার তথ্য প্রাপ্তির ভিত্তিতে মেটার কাছে এসব তথ্য চাওয়া হয়।
বুধবার (৫ আগস্ট) সংবাদমাধ্যমকে এসব তথ্য জানান আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের প্রসিকিউটর ও আইটি বিশেষজ্ঞ তানভীর হাসান জোহা।
তিনি আরও জানান, মোজাফফর হোসেন কিছু গ্রুপের সঙ্গে সরাসরি কথা বলতেন। তার মুছে ফেলা কথোপকথন উদ্ধারের চেষ্টা চলছে। মানবতাবিরোধী অপরাধের অধিকতর তদন্তের স্বার্থে এসব তথ্য চাওয়া হয়।
মেটার কাছে চাওয়া তথ্যগুলোর মধ্যে আছে, গ্রাহকের তথ্য এবং অ্যাকাউন্ট নিবন্ধনের বিবরণ, সব নিবন্ধিত এবং আগের ইমেল ঠিকানা এবং ফোন নম্বর, টাইমস্ট্যাম্প সহ সম্পূর্ণ লগইন ইতিহাস, অ্যাকাউন্টটি অ্যাক্সেস করতে ব্যবহৃত আইপি অ্যাড্রেস এবং ডিভাইস, ব্রাউজারের তথ্য, ফেসবুক মেসেঞ্জারের মুছে ফেলা যেসব কথোপকথন আছে সেগুলোসহ সব তথ্য মেটার কাছে চাওয়া হয়েছে।
১৯৮১ সালের ৩০ মে ভোরে চট্টগ্রামে এক সেনা বিদ্রোহে নিহত হয়েছিলেন বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা এবং তৎকালীন রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান। তার লাশ গায়েব করার পেছনে ভূমিকা ছিল সাবেক সেনা কর্মকর্তা মো. মোজাফফর হোসেনের। সে সময় তিনি ছিলেন সেনাবাহিনীর একজন মেজর পদ মর্যাদার কর্মকর্তা। হত্যাকাণ্ডের পর তিনি পালিয়ে যান। তাকে ধরিয়ে দিতে সে সময় পুরস্কারও ঘোষণা করা হয়েছিল। দীর্ঘ ৪৫ বছর পর বুধবার (১৫ জুলাই) রাতে রাজধানীর বনানী থেকে তাকে গ্রেফতার করেছে গোয়েন্দা পুলিশ। এরপর সেনাবাহিনীর কাছে হস্তান্তর করা হয়।
এরপর ২৩ জুলাই গণঅভ্যুত্থানকালে সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় সাবেক এই সেনা কর্মকর্তাকে গ্রেপ্তার দেখানোর আদেশ দেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২। সেই সঙ্গে তাকে দুদিন জিজ্ঞাসাবাদের অনুমতি দেওয়া হয়েছে। এছাড়াও মোজাফফর হোসেনকে সেনা হেফাজতে রাখার আদেশও দিয়েছেন ট্রাইব্যুনাল।
এর আগে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের চিফ প্রসিকিউটর মো. আমিনুল ইসলাম জানান, মোজাফফর ও অবসরপ্রাপ্ত লেফটেন্যান্ট জেনারেল মাসুদ উদ্দিন চৌধুরীর মধ্যে নিয়মিত যোগাযোগের প্রমাণ পাওয়া গেছে। মাসুদ ২০০৭ সালের সেনা-সমর্থিত তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অন্যতম প্রভাবশালী ব্যক্তি এবং তৎকালীন মানবতাবিরোধী অপরাধ মামলার অভিযুক্তদের মধ্যে অন্যতম। মাসুদ উদ্দিন চৌধুরী যে মানবতাবিরোধী অপরাধ মামলায় গ্রেপ্তার হয়ে হেফাজতে রয়েছেন, সেই একই মামলায় মোজাফফরকেও গ্রেফতার দেখানো হয়েছে।
চিফ প্রসিকিউটর আমিনুল ইসলাম আরও বলেন, জিয়াউর রহমান হত্যা মামলায় সেনা আইনে তার বিচার হবে। এর সঙ্গে আমাদের কোনও সম্পর্ক নেই। আমাদের তদন্ত চলছে মানবতাবিরোধী অপরাধের। আওয়ামী লীগ সরকারের ১৬ বছরের কর্মকাণ্ডে তার কী সংশ্লিষ্টতা রয়েছে, সেটিই আমরা দেখবো। অর্থাৎ আমাদের বিচারের কার্যক্রম পুরোপুরি আলাদা। তবে তিনি সেনাবাহিনীর তত্ত্বাবধানে থাকবেন। আমাদের প্রয়োজনমতো সেখান থেকে এনে জিজ্ঞাসাবাদ করবো। এছাড়া তার বিরুদ্ধে অভিযোগ প্রতিষ্ঠিত হওয়ার পর ট্রাইব্যুনালের প্রচলিত আইনে বিচার চলবে।
source: Asia Post







