News

পুলিশকে যে বিষয়ে সতর্ক করলেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

পুলিশ সদস্যদের দায়িত্ব পালনের সময় পুরো টিম যেন একসঙ্গে চা খেতে বা বিশ্রামে না যায়—সে বিষয়ে সতর্ক করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। তিনি বলেন, এটা নরমাল প্র্যাকটিস, এটাকে অন্যভাবে নেওয়ার কোনো কারণ নেই। তবে আমরা সবসময়ই সতর্ক আছি।

সোমবার (৩ আগস্ট) সচিবালয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি বলেন, পুলিশ সদস্যদের নিশ্চিত করতে বলা হয়েছে, যেন পুলিশের কোনো যান ‘আনঅ্যাটেন্ডেড’ (অরক্ষিত) না থাকে। পুরো টিমের সবাই একসঙ্গে চা খেতে যাবে না এবং সবাই গাড়ি রেখে বিশ্রামে যাবে না; অন্তত একজনকে গাড়ির কাছে থাকতে হবে।

তিনি আরও জানান, সাম্প্রতিক সময়ে বিভিন্ন স্থানে বোমাসদৃশ বস্তু ও পরিত্যক্ত ব্যাগ উদ্ধারের ঘটনায় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী সতর্ক অবস্থানে রয়েছে। মতিঝিলে মেট্রোরেলের পিলারের নিচে বোমাসদৃশ বস্তু উদ্ধারের ঘটনা এবং আশুলিয়ায় দুষ্কৃতিকারীদের রেখে যাওয়া ব্যাগ উদ্ধারের ঘটনা একই সূত্রে গাঁথা কি না, তা তদন্ত করে দেখা হচ্ছে।

রথযাত্রায় নিরাপত্তা ও মতিঝিলের ঘটনা প্রসঙ্গে সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, রথযাত্রা নিরাপদ করতে সমন্বিতভাবে কাজ করা হয়েছে এবং কোনো ধরনের অপ্রীতিকর ঘটনা ছাড়াই তা শান্তিপূর্ণভাবে সম্পন্ন হয়েছে। তবে উল্টো রথযাত্রার দিন মতিঝিলে বোমাসদৃশ বস্তু উদ্ধারের ঘটনায় কোনো মহল সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি বিনষ্টের চেষ্টা করেছে কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

তিনি বলেন, আগের সময়ের তুলনায় এ ধরনের অপ্রীতিকর ঘটনা অনেকটাই কমে এসেছে। উগ্রবাদী তৎপরতা কিংবা সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি বিনষ্টের মতো বিষয়গুলো যারা মনিটর করেন, তারা সার্বক্ষণিক সতর্ক রয়েছেন।

এদিকে আওয়ামী লীগের নাশকতার সক্ষমতা নিয়ে করা এক প্রশ্নের জবাবে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, আওয়ামী লীগের নাশকতার মুরোদ আছে বলে মনে হয় না। একে তো দলটি নিষিদ্ধ ঘোষিত, তার ওপর বিদেশ থেকে মাঝেমধ্যে উঁকি দেওয়া ছাড়া তাদের আর কোনো তৎপরতা দেখি না।

জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) সমাবেশে হামলার বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি জানান, তদন্ত শেষে এ নিয়ে বিস্তারিত জানানো হবে।

প্রসঙ্গত, সম্প্রতি সিলেট, হবিগঞ্জ ও মৌলভীবাজারে জাতীয় নাগরিক পার্টির কর্মসূচিতে হামলা, বাধা ও মারধরের ঘটনায় রাজনৈতিক অঙ্গন ফের উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে। গত ২৮ জুলাই হবিগঞ্জ সার্কিট হাউজের সামনে ‘জুলাই পদযাত্রা’য় বক্তব্য চলাকালে হামলার ঘটনা ঘটে। এতে দলটির মুখ্য সমন্বয়ক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী ও উত্তরাঞ্চলীয় মুখ্য সংগঠক সারজিস আলমসহ কমপক্ষে ১০ নেতাকর্মী আহত হন। এ ঘটনার প্রতিবাদে পরদিন ২৯ জুলাই দেশজুড়ে বিক্ষোভের ডাক দেয় এনসিপি, যার জেরে ওই দিন হবিগঞ্জে ১৪৪ ধারা জারি করে স্থানীয় প্রশাসন।

source: Asia Post

Back to top button