ঘরের এই ৬ জিনিসে বাড়াতে পারে ফুসফুসের ক্যানসারের ঝুঁকি

ফুসফুসের ক্যানসারের কথা উঠলেই প্রথমে ধূমপানের কথা মনে আসে। সত্যিই ধূমপান এই রোগের সবচেয়ে বড় ঝুঁকির কারণ। তবে চিকিৎসকদের মতে, ধূমপান না করলেও কিছু মানুষ ফুসফুসের ক্যানসারে আক্রান্ত হন। এর পেছনে ঘরের ভেতরের কিছু পরিবেশগত কারণও ভূমিকা রাখতে পারে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, রান্নাঘরের ধোঁয়া, মশার কয়েলের ধোঁয়া, পরোক্ষ ধূমপান এবং ঘরের বায়ু চলাচলের অভাবের মতো বিষয়গুলো দীর্ঘদিন ধরে চলতে থাকলে ফুসফুসের ওপর ক্ষতিকর প্রভাব ফেলতে পারে। তাই শুধু বাইরে নয়, ঘরের ভেতরের পরিবেশও স্বাস্থ্যকর রাখা জরুরি।
রান্নাঘরের ধোঁয়া
উচ্চ তাপে ভাজাভুজি বা ডিপ ফ্রাই করার সময় তেলের ধোঁয়ার সঙ্গে সূক্ষ্ম কণা ও বিভিন্ন রাসায়নিক পদার্থ বাতাসে ছড়িয়ে পড়ে।
বিশেষ করে যেসব রান্নাঘরে এক্সহস্ট ফ্যান বা পর্যাপ্ত বাতাস চলাচলের ব্যবস্থা নেই, সেখানে দীর্ঘদিন রান্না করলে এই ধোঁয়া ফুসফুসের জন্য ক্ষতিকর হতে পারে। গবেষণায় দেখা গেছে, দীর্ঘ সময় এমন পরিবেশে কাজ করা ব্যক্তিদের মধ্যে ফুসফুসের ক্যানসারের ঝুঁকি তুলনামূলক বেশি হতে পারে।
মশার কয়েলের ধোঁয়া
অনেক বাড়িতে প্রায় প্রতিদিনই মশার কয়েল জ্বালানো হয়। কিন্তু এর ধোঁয়াতেও সূক্ষ্ম কণা ও কিছু ক্ষতিকর রাসায়নিক থাকে।
কিছু গবেষণায় নিয়মিত মশার কয়েলের ধোঁয়ার সংস্পর্শে থাকা এবং ফুসফুসের ক্যানসারের ঝুঁকির মধ্যে সম্পর্ক পাওয়া গেছে। যদিও এ বিষয়ে আরও গবেষণা প্রয়োজন, তবুও চিকিৎসকেরা অপ্রয়োজনে দীর্ঘ সময় কয়েলের ধোঁয়ার মধ্যে না থাকার পরামর্শ দেন।
কাঠ, কয়লা বা জ্বালানি কাঠের ধোঁয়া
এখনও অনেক এলাকায় রান্নার জন্য কাঠ, কয়লা বা গোবরের উপলা ব্যবহার করা হয়।
এসব জ্বালানি পোড়ালে যে ধোঁয়া তৈরি হয়, তাতে ক্ষতিকর সূক্ষ্ম কণা থাকে। বছরের পর বছর এই ধোঁয়ার সংস্পর্শে থাকলে ফুসফুসের ক্ষতি হতে পারে এবং ক্যানসারের ঝুঁকিও বাড়তে পারে।
পরোক্ষ ধূমপান
নিজে ধূমপান না করলেও অন্যের সিগারেটের ধোঁয়া নিয়মিত শ্বাসের সঙ্গে গ্রহণ করলে তা ফুসফুসের জন্য ক্ষতিকর।
বাড়িতে বা কর্মস্থলে দীর্ঘদিন পরোক্ষ ধূমপানের সংস্পর্শে থাকলে ফুসফুসের ক্যানসারসহ বিভিন্ন শ্বাসতন্ত্রের রোগের ঝুঁকি বাড়তে পারে।
ঘরের ভেতরের বায়ুদূষণ
ঘরের জানালা সব সময় বন্ধ রাখা, পর্যাপ্ত বাতাস চলাচলের ব্যবস্থা না থাকা বা দূষিত বাতাস জমে থাকা ফুসফুসের জন্য ভালো নয়।
বিশেষ করে রান্নার ধোঁয়া, ধুলাবালি বা অন্যান্য দূষিত কণা ঘরের ভেতরে জমে থাকলে দীর্ঘমেয়াদে ক্ষতি হতে পারে। তাই প্রতিদিন কিছু সময় জানালা খুলে রাখা এবং ঘরে পর্যাপ্ত বায়ু চলাচলের ব্যবস্থা করা গুরুত্বপূর্ণ।
অ্যাসবেস্টস, রেডন ও কিছু শিল্পকারখানার রাসায়নিক
কিছু পুরোনো ভবন বা নির্দিষ্ট কর্মক্ষেত্রে অ্যাসবেস্টস, রেডন গ্যাস, সিলিকা ধুলা কিংবা অন্যান্য শিল্পকারখানার রাসায়নিকের সংস্পর্শে আসার ঝুঁকি থাকে।
দীর্ঘদিন এসব পদার্থের সংস্পর্শে থাকলে ফুসফুসের ক্যানসারের ঝুঁকি বাড়তে পারে। বিশেষ করে যাদের পেশাগত কারণে এমন পরিবেশে কাজ করতে হয়, তাদের প্রয়োজনীয় সুরক্ষা সরঞ্জাম ব্যবহার করা উচিত।
ঝুঁকি কমাতে কী করবেন?
- রান্নার সময় এক্সহস্ট ফ্যান চালু রাখুন বা জানালা খুলে দিন।
- অপ্রয়োজনে মশার কয়েল ব্যবহার না করে মশারি বা নিরাপদ বিকল্প ব্যবহার করুন।
- ঘরে ধূমপান সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ করুন।
- কাঠ বা কয়লার পরিবর্তে অপেক্ষাকৃত পরিচ্ছন্ন জ্বালানি ব্যবহার করুন।
- নিয়মিত ঘরের বাতাস চলাচলের ব্যবস্থা করুন।
- কর্মস্থলে ক্ষতিকর ধুলা বা রাসায়নিক থাকলে সুরক্ষা সরঞ্জাম ব্যবহার করুন।
যেসব লক্ষণ অবহেলা করবেন না
দীর্ঘদিন কাশি, শ্বাসকষ্ট, বুকে ব্যথা, কাশির সঙ্গে রক্ত আসা, অকারণে ওজন কমে যাওয়া ও দীর্ঘদিনের ক্লান্তির মতো লক্ষণগুলো তিন সপ্তাহের বেশি থাকলে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত।
প্রাথমিক পর্যায়ে রোগ শনাক্ত করা গেলে চিকিৎসার সফলতার সম্ভাবনা অনেক বেড়ে যায়।
ফুসফুসের ক্যানসার প্রতিরোধে শুধু ধূমপান বর্জন করাই যথেষ্ট নয়। ঘরের ভেতরের বায়ুর মান, রান্নাঘরের ধোঁয়া, মশার কয়েলের ব্যবহার এবং অন্যান্য পরিবেশগত ঝুঁকির দিকেও সমান গুরুত্ব দিতে হবে। ছোট ছোট সচেতন অভ্যাস দীর্ঘমেয়াদে ফুসফুসকে সুস্থ রাখতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।
সূত্র:এনডিটিভি
source: Asia Post







