সাক্ষাৎকার

করোনাভাইরাস শনাক্তের জন্য পিসিআর পদ্ধতি পর্যাপ্ত নয়

নোয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের অণুজীব বিজ্ঞান বিভাগের চেয়ারম্যান ও সহযোগী অধ্যাপক ড. ফিরোজ আহমেদের জন্ম ১৯৭০ সালের ১৫ নভেম্বর, চুয়াডাঙ্গা জেলার দর্শনায়। তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অণুজীব বিজ্ঞান বিভাগ থেকে স্নাতক ও স্নাতকোত্তর সম্পন্ন করে একই বিভাগ থেকে পিএইচডি ডিগ্রি লাভ করেন। ১৯৯৭ থেকে ২০১৭ পর্যন্ত ইন্টারন্যাশনাল সেন্টার ফর ডাইরিয়াল ডিজিজ রিসার্চ, বাংলাদেশ বা ‘আইসিডিডিআর,বি’-তে সহযোগী বিজ্ঞানী পদে কর্মরত ছিলেন। ২০১৭ সালে নোবিপ্রবিতে যোগদান করেন। সম্প্রতি করোনাভাইরাস শনাক্তকরণে গণস্বাস্থ্য কেন্দ্রের ড. বিজন কুমার শীলের নেতৃত্বে যে দলটি টেস্ট কিটের উদ্ভাবন করেছে, তিনি তার অন্যতম সদস্য। দেশের করোনা পরিস্থিতি, লকডাউন, টেস্ট কিট উদ্ভাবনসহ প্রাসঙ্গিক বিষয়ে তিনি কথা বলেছেন। সাক্ষাৎকার নিয়েছেন –অনিন্দ্য আরিফ

করোনাভাইরাস পরীক্ষার জন্য রাজধানীর ৯টি স্বাস্থ্য প্রতিষ্ঠানকে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। কিন্তু এখনো পর্যন্ত ৪টি প্রতিষ্ঠানে কাজ শুরু হয়েছে বলে সংবাদমাধ্যম মারফত জানা গেছে। ঢাকার বাইরে এ কাজ শুরু হয়েছে মাত্র একটি প্রতিষ্ঠানে। করোনা-পরীক্ষার এই ব্যবস্থাপনাকে কীভাবে দেখছেন?

ফিরোজ আহমেদ : প্রথমত, যে পিসিআর (পলিমারি চেইন রিঅ্যাকশন) পদ্ধতিতে পরীক্ষা করা হচ্ছে, সেটা একটি দীর্ঘমেয়াদি পদ্ধতি। সাধারণত জীবকোষের একদম ভেতরে থাকে ডিঅক্সিরাইবোনিউক্লিক অ্যাসিড বা ডিএনএ এবং রিবোনিউক্লিয়িক অ্যাসিড বা আরএনএ ভাইরাস। করোনা ভাইরাস একটি আরএনএ। এটি খুব সংবেদনশীল, আমাদের শরীরে আরএএনএ এনজাইম থাকে, যেটা দিয়ে ওটা নষ্ট হয়ে যায়। সেজন্য এটির পরীক্ষা করতে খুবই কারগরি দক্ষতাসম্পন্ন ব্যক্তির প্রয়োজন হয়। ল্যাবরেটরি সেটআপও অত্যাধুনিক হওয়া লাগে। সেজন্য সক্ষমতা বিচার করে সরকার রাজধানীর নয়টি প্রতিষ্ঠানকে এ দায়িত্ব দিয়েছে। এই পরীক্ষা করার জন্য দুটি গুরুত্বপূর্ণ যোগ্যতা প্রতিষ্ঠানের থাকতে হবে। এক. আধুনিক ল্যাবরেটরি থাকতে হবে। দুই. অত্যন্ত প্রশিক্ষিত পরীক্ষক থাকতে হবে। এখন পর্যন্ত রাজধানীর চারটি প্রতিষ্ঠান এবং রাজধানীর বাইরে একটি প্রতিষ্ঠান এটা শুরু করতে পেরেছে। কিন্তু এ অপর্যাপ্ততা আমাদের জন্য অত্যন্ত ক্ষতিকর। আমরা যদি বেশি সংখ্যক সন্দেহজনক ব্যক্তি অর্থাৎ যাদের সর্দি-কাশি বা জ্বর আছে, তাদের পরীক্ষা না করতে পারি, তাহলে এই ভাইরাসটি বেশি সংক্রমিত হবে। তাই আমাদের যত দ্রুত সম্ভব এই ব্যবস্থাপনা প্রসারিত করা দরকার।

পিসিআর পদ্ধতিতে পরীক্ষা করার জন্য সবচেয়ে বড় যে মেশিন আছে, তাতে সর্বোচ্চ ৯৬টি পরীক্ষা করা যায়। তাই চারটি কি নয়টি প্রতিষ্ঠান দিয়েও তো অধিকাংশকেই পরীক্ষা করা সম্ভব নয়। আজই বিশ্বখ্যাত জার্নাল ‘ন্যাচার’-এর প্রতিবেদনে লেখা হয়েছে যে, করোনাভাইরাস শনাক্তের নমুনা প্রক্রিয়াজাত করতেই ২৪ ঘণ্টা লাগে। এরপর পিসিআর মেশিনে লাগে আরও চার ঘণ্টা এবং আরএনএ ইনস্ট্রাকশনসহ বাকি কাজে লাগে আরও সাত/আট ঘণ্টা। তাই নয়টি প্রতিষ্ঠানকে দিয়েও আসলে সম্ভব নয়। এমনকি নয়শ কিংবা নয় হাজার প্রতিষ্ঠান দিয়েও পিসিআর পদ্ধতিতে এ বিপুল জনগোষ্ঠীর করোনভাইরাস পরীক্ষা করা সম্ভব নয়। তাই এ অপর্যাপ্ততা থেকেই যাবে।

পরীক্ষার ক্ষেত্রে এমন ধীরগতির পেছনে আসলে কী ধরনের সংকট রয়েছে? এটা কি কেবল বাংলাদেশ সরকারের সংকট না বৈশ্বিক পরিস্থিতিই এরকম?

ফিরোজ আহমেদ : এটা আসলে সরকারের ধীরগতি নয়, সারা পৃথিবীরই ধীরগতি। কারণ, একটা নতুন ভাইরাস এসেছে, কিন্তু এর জন্য পুরো পৃথিবী প্রস্তুত ছিল না। সেই জানুয়ারি মাস থেকে আমরা চেষ্টা করে কিছু একটা দাঁড় করিয়েছি। কিন্তু আমরা যখন কাঁচামাল চাচ্ছি, তখন তাও পাচ্ছি না। কেননা, এয়ারলাইনসগুলো বন্ধ। তাই পৃথিবী যেহেতু এর জন্য প্রস্তুত ছিল না, তাই এ ধীরগতি। আর আমরা তো আরও প্রস্তুত ছিলাম না। আমরা উন্নত বিশ্ব নই। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা যে পিসিআর পদ্ধতি দিয়েছে, তা আবার যুক্তরাষ্ট্রের সিডিসি গ্রহণ করেনি। তারা তাদের মতো করে আলাদাভাবে বানাচ্ছে। কেননা, ডব্লিউএইচও-এর পদ্ধতিতে বেশি ফলস বা নেগেটিভ ফল আসছে। তাই বাংলাদেশ সরকারের এ ধীরগতি খুব একটা অযৌক্তিক বা বিচ্ছিন্ন ঘটনা নয়।

লকডাউনের সময় মানুষকে যে ঘরে থাকার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে, সেক্ষেত্রে অনেক জায়গায় শিথিলতা পরিলক্ষিত হচ্ছে। বিশেষ করে প্রান্তিক মানুষরা তাদের আয়-রোজগারের আশায় বের হচ্ছে। এ পরিস্থিতিতে সরকার জরুরিভিত্তিতে কী কী পদক্ষেপ নিতে পারে?

ফিরোজ আহমেদ : সরকার প্রশাসনের মাধ্যমে মানুষের কাছে খাবার পৌঁছে দিচ্ছে। কিন্তু অভিযোগ রয়েছে, লকডাউনের সময় অনেকে পর্যাপ্ত খাবার পাচ্ছে না। এক্ষেত্রে সরকার তো তার মতো করে চেষ্টা করে যাচ্ছে। সমাধানের চেষ্টা করে যাচ্ছে। কিন্তু পত্র-পত্রিকার যেসব প্রতিবেদন দেখতে পাচ্ছি, তাতে মনে হচ্ছে এটা পর্যাপ্ত নয়। আর এ পরিস্থিতিতে শুধু সরকারকে দিয়েও হবে না। এক্ষেত্রে যারা সমাজে অবস্থাপন্ন, তাদের এগিয়ে আসতে হবে। শুধু সরকারের আশায় বসে থাকলে চলবে না। সরকার ও প্রশাসনের দিকে আমাদের সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দিতে হবে। আমি সরকারকে দোষারোপ করব না। কেননা, সরকারের একার পক্ষে এটার সমাধান দেওয়া সম্ভব নয়। বর্তমানে যে বৈশ্বিক পরিস্থিতি চলছে তা খুবই বিপর্যস্ত অবস্থায় রয়েছে। এক্ষেত্রে আমাদের সবাইকে এগিয়ে আসতে হবে।

লকডাউনের আগে যে বিপুলসংখ্যক মানুষ রাজধানী ছেড়েছে, তাতে কি ভাইরাসটি ছড়িয়ে পড়েছে বলে মনে করেন? অর্থাৎ ভাইরাস সংক্রমণের ঝুঁকি কি এতে আরও বেড়েছে?

ফিরোজ আহমেদ : অবশ্যই ঝুঁকিটা বেড়ে গেছে। দেখেন, সাম্প্রতিক সময়ে চিকিৎসকদের কাছে রোগীরা অন্য রোগ নিয়ে গেলেও চিকিৎসকরা তাদের কাছে ভয়ে আসছেন না। রোগী দেখাটা প্রায় বন্ধ আছে। অর্থাৎ যার যার জীবন নিয়ে আমরা শঙ্কিত। আমরা যারা বিত্তশালী, তারা ঘরের মধ্যে বসে আছি। যারা দিনে আনে দিনে খায়, তারা কাজের উদ্দেশে বের হচ্ছে। আমরা অন্যান্য দেশকে অনুসরণ করে লকডাউন করেছি। এখন লকডাউনের কারণে অসংখ্য মানুষ নিজের গ্রামে বা শহরে চলে গেছে। এটা তো সরকার বলেনি। সরকার বলেছিল, ‘তোমরা যে যার ঘরে থাকো।’ মানে সরকারি নির্দেশনা মানা হচ্ছে না। উদাহরণস্বরূপ আমি নিউইয়র্কের কথা বলতে পারি। আমার এক বন্ধু গতকাল ফোন করে বলেছে যে তাদের গণতান্ত্রিক ব্যবস্থার সুযোগ নিয়ে কেউই লকডাউন মানছে না। সেখানে দিন দিন মৃতের সংখ্যা বাড়ছে। সেক্ষেত্রে আমাদের এখানকার মানুষকেও তো বলা হয়নি যে আপনারা বাড়ি চলে যান।

এখন গণমাধ্যমের মধ্য দিয়ে একটা বার্তা আমরা দিতে পারি, যতটা ছড়িয়ে পড়েছে সেটা সামলাতে হবে। সর্বোপরি, আমাদের ঘরে থাকতে হবে। আমাদের পারস্পরিক সংস্পর্শ অনেক কমিয়ে দিতে হবে। তবে রাজধানীসহ বড় নগরগুলো থেকে মানুষের বিকেন্দ্রীকরণের ফলে এক ধরনের সুবিধাও হয়েছে। যেমন শহরে আমরা একেক এলাকার একেকজন পাশের বাড়িতে কে থাকে তাও জানি না। কিন্তু গ্রামে বা মফস্বলে একটা বাড়িতে কারও যদি সর্দি-কাশি হয়, তাহলে সবাই জেনে যাচ্ছে। তাকে সহজেই শনাক্ত করা যাচ্ছে। তাই বিকেন্দ্রীকরণে যে পুরোটাই সমস্যা তৈরি হয়েছে, তা নয়। বরং এ সুযোগে চেনা মানুষরা চেনা মানুষকে সমস্যা দেখা দিলে ঘরে থাকার কথা বলতে পারবে। যেটা ঢাকা শহরে সম্ভব নয়। বড় মহানগরগুলোতে এ সম্ভাবনা থাকে না। তাই আমি মনে করি, বিকেন্দ্রীকরণের ফলে একটা সম্ভাবনাও তৈরি হয়েছে।

বেসরকারি হাসপাতালগুলোকে এ ভাইরাসের মহামারী মোকাবিলায় কীভাবে কাজে লাগানো যায়?

ফিরোজ আহমেদ : বেসরকারি হাসপাতালগুলোকে কাজে লাগাতে হলে আমরা যে সেরোলজিক্যাল টেস্টের কথা বলছি তার বন্দোবস্ত থাকতে হবে। তাদের আরও টেস্টের ব্যবস্থা করতে হবে। সম্প্রতি বিশ্বব্যাপী ১০-১২টি কোম্পানি কিছু র‌্যাপিড টেস্টের কথা বলছে। এর মধ্যে কোরিয়ান কোম্পানি রয়েছে, সিঙ্গাপুর ও চীনের কোম্পানিও রয়েছে। আমি মনে করি, যে পিসিআর পদ্ধতিতে আইইডিসিআর বা অন্যান্য প্রতিষ্ঠান রোগ শনাক্ত করছে, সে পদ্ধতিতে বেশি দূর এগোনো সম্ভব নয়। যেমন আমরা আশা করছি যে ১০ থেকে ১৫ তারিখের মধ্যে আমরা আমাদের টেস্ট কিটগুলো প্রস্তুত করতে পারব। তখন এ কিটগুলো সমস্ত হাসপাতালে দিয়ে দিতে হবে। তখন গণহারে এ ভাইরাসের পরীক্ষা করতে হবে। পরীক্ষা করে দেখতে হবে আমাদের কমিউনিটিতে এ রোগ কতটুকু সংক্রমিত হয়েছে। আমরা আমাদের কিটগুলোকে এ মাসের ২০ থেকে ২২ তারিখের মধ্যে দিয়ে দিতে পারব। সরকার যেভাবে আমাদের কাঁচামাল আনতে সহায়তা করেছে, সেভাবে সহায়তা অব্যাহত রাখলে আমরা বেসরকারি হাসপাতালগুলোকে করোনাভাইরাসের জন্য কাজে লাগাতে পারব।

মহামারীর লক্ষণ ছাড়া অন্যান্য রোগ বা অঘটনের জরুরি চিকিৎসায় অভাবিত অচলাবস্থা সৃষ্টি হয়েছে। বিষয়টিকে কীভাবে দেখছেন?

ফিরোজ আহমেদ : বিষয়টি অত্যন্ত মর্মান্তিক ও দুঃখজনক। আমরা যারা স্বাস্থ্য বা চিকিৎসা সংক্রান্ত কাজে নিয়োজিত আছি, আমাদের তো দায়িত্ব রয়েছে। এখন করোনার কারণে আমি যদি ক্যানসার রোগীর কেমোথেরাপি বাদ দিয়ে দিই, তাহলে বিষয়টি ভালো হবে না। আমাদের সব হাসপাতালেই তো পারসোনাল প্রোটেকটিভ ইকুইপমেন্ট বা পিপিইয়ের বন্দোবস্ত হয়েছে। এমতাবস্থায় রোগী দেখা বন্ধ করা তো অমানবিকতার পরিচায়ক। আমি চিকিৎসক সমাজকে এ ধরনের কাজ থেকে বিরত থাকার অনুরোধ করছি। আমরা জনগণের অর্থে পড়াশোনা করে, সমাজে সামর্থ্যবান হয়ে এ ধরনের কাজ করতে পারি না। এ মানসিকতার পরিবর্তন ঘটাতে হবে। ঝুঁকি নিতেই হবে।

ড. বিজন কুমার শীলের নেতৃত্বে আপনারা যে কিট উদ্ভাবন করেছেন তা করোনাভাইরাস শনাক্তে কতটুকু কার্যকর ভূমিকা নিতে পারে?

ফিরোজ আহমেদ : আগেই বলেছি, পিসিআর পদ্ধতি দিয়ে বৃহত্তর জনগোষ্ঠীর সংক্রমণ শনাক্ত করা সম্ভব নয়। তাই আমরা এই পদ্ধতিকে ওল্ড স্ট্যান্ডার্ড ধরে বাতিল করে দিয়েছি। দ্বিতীয় যে বিষয়টি গুরুত্বপূর্ণ, সেটি করোনাভাইরাসের প্যাথজেনেসিস বা রোগ সৃষ্টির ধরন। এটি প্রথমে গলা বা নাকে অবস্থান করে। তারপরে তা ফুসফুসে পৌঁছায়। তারপরে তা আমাদের শরীরে রোগ প্রতিরোধের সক্ষমতা নষ্ট করে বা অ্যান্টিবডি সৃষ্টি করে। যখন থেকে একজন ব্যক্তি বুঝতে পারবেন যে তিনি করোনা আক্রান্ত তখন থেকে তার শরীরে অ্যান্টিবডি সৃষ্টি হয়ে যায়। এক্ষেত্রে যারা পিসিআর করছেন তারা দাবি করছেন, তারা আগে পারেন। কিন্তু বিষয়টি এরকম নয়। আমরা যারা রক্তের প্লাজমা বা সিরাম থেকে ভাইরাস শনাক্ত করতে পারব, তারাও কাছাকাছি সময়েই পারব। আমরা পিসিআর পদ্ধতি জেনেও তা করছি না বৃহত্তর জনগোষ্ঠীর কথা বিবেচনা করে। আমাদের নেতৃত্ব দিয়েছেন বিশিষ্ট বিজ্ঞানী ড. বিজন কুমার শীল। আমরা যে কিট টেস্ট পদ্ধতি উদ্ভাবন করেছি, তাতে একদিনে ২ থেকে ৫ লাখ রোগীর পরীক্ষা করা সম্ভব। তাই আমরা এ পদ্ধতি বেছে নিয়েছি। আমরা এ পদ্ধতিকে যত উন্নত করা সম্ভব, সে লক্ষ্যেই বিদেশ থেকে কাঁচামাল এনে ততই উন্নত করেছি।

Related Posts

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *