News

স্বাস্থ্য খাত ঢেলে সাজাতে চিকিৎসকদের সহযোগিতা জরুরি: মির্জা ফখরুল

দেশের স্বাস্থ্য খাতের বেহাল দশা দূর করে তা ঢেলে সাজাতে চিকিৎসকদের এগিয়ে আসার আহ্বান জানিয়েছেন স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। একই সঙ্গে বিসিএস স্বাস্থ্য ক্যাডার কর্মকর্তাদের চাকরির শুরুতে নিয়ম অনুযায়ী উপজেলা ও ইউনিয়ন উপ-স্বাস্থ্যকেন্দ্রে অবস্থান নিশ্চিত করার ওপর জোর দিয়েছেন তিনি।

বৃহস্পতিবার (৩০ জুলাই) রাতে রাজধানীর প্যান প্যাসিফিক সোনারগাঁও হোটেলে বিসিএস স্বাস্থ্য ক্যাডার অ্যাসোসিয়েশনের উদ্যোগে আয়োজিত ‘দ্য ফার্স্ট হেলথ ক্যাডার ডে-২০২৬’ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে মন্ত্রী এসব কথা বলেন।

অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি ডা. খালেদ আহমেদুর রহমানের সভাপতিত্বে ও সদস্য সচিব ডা. নুর মোহাম্মদ শরিফ আস শামসের সঞ্চালনায় এতে তিনটি প্যানেলে আলোচনা অনুষ্ঠিত হয়। অনুষ্ঠানে চিকিৎসকদের পাশাপাশি বাংলাদেশ হেলথ রিপোর্টার্স ফোরামের (বিএইচআরএফ) সভাপতি প্রতীক ইজাজ ও সাধারণ সম্পাদক মুজাহিদ শুভ আলোচনায় অংশ নেন।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে স্থানীয় সরকার মন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশে চিকিৎসক ও জনসংখ্যার অনুপাত এমনিতেই অপ্রতুল। তার ওপর সরকারি হাসপাতালগুলোর অবস্থা অত্যন্ত নাজুক। উদাহরণ টেনে তিনি বলেন, ঠাকুরগাঁও ২৫০ শয্যার সদর হাসপাতালে মঞ্জুরীকৃত ৯০ জন ডাক্তারের বিপরীতে কর্মরত আছেন মাত্র ৪০ জন। অথচ সেখানে প্রতিদিন গড়ে প্রায় ৬০০ রোগী চিকিৎসা নেন। এমন পরিস্থিতিতে চিকিৎসকদের পক্ষে কাঙ্ক্ষিত সেবা দেওয়া অত্যন্ত কঠিন হয়ে পড়ে।

বিগত সরকারের সমালোচনা করে অনুষ্ঠানে মির্জা ফখরুল বলেন, গত ১৫-১৬ বছরে স্বাস্থ্য খাতকে ব্যাপকভাবে দলীয়করণ করা হয়েছে। যোগ্য চিকিৎসকদের পদোন্নতি না দিয়ে কিংবা হাসপাতাল থেকে দূরে সরিয়ে রেখে পেশাগতভাবে ক্ষতিগ্রস্ত করা হয়েছে। তবে বর্তমান সরকার এই খাত পুনর্গঠনে অগ্রাধিকার দিচ্ছে। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান স্বাস্থ্য খাতের উন্নয়নে সম্ভাব্য সব উদ্যোগ নেওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন। এবারের বাজেটেও স্বাস্থ্য খাতে রেকর্ড পরিমাণ বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে, যা সঠিকভাবে কাজে লাগানো জরুরি।

চিকিৎসকদের পেশাগত সুরক্ষার তাগিদ দিয়ে তিনি আরও বলেন, হাসপাতালে কোনো রোগীর মৃত্যু হলেই চিকিৎসকদের ওপর চড়াও হওয়ার প্রবণতা দেখা যায়। এ ধরনের অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতি বন্ধ হওয়া প্রয়োজন। তবে একই সঙ্গে চিকিৎসকদেরও সাধারণ মানুষের সঙ্গে সুসম্পর্ক গড়ে তোলার পরামর্শ দেন তিনি।

গ্রামাঞ্চলে স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করার বিষয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে মন্ত্রী বলেন, বিসিএস এন্ট্রি পয়েন্টে কিংবা উপজেলা পর্যায়ে বাধ্যতামূলক দুই বছর থাকার যে নিয়ম রয়েছে, তা অনেকেই মানেন না। নানা তদবির করে চিকিৎসকেরা জেলা বা বিভাগীয় শহরে চলে আসেন। ফলে প্রান্তিক মানুষ চিকিৎসাসেবা থেকে বঞ্চিত হয়। এ বিষয়ে চিকিৎসক সংগঠনগুলোকে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালনের আহ্বান জানান তিনি।

সবশেষে চিকিৎসকদের প্রতি সাধারণ মানুষের আস্থার কথা স্মরণ করিয়ে দিয়ে তিনি বলেন, দেশের মানুষ চিকিৎসকদের অত্যন্ত উঁচুমাপের মর্যাদার আসনে বসায়। এই বিশ্বাস ও বোধকে লালন করে চিকিৎসকেরা এগিয়ে এলে দেশের ভঙ্গুর স্বাস্থ্য খাতকে আবারও কাঙ্ক্ষিত জায়গায় ফিরিয়ে আনা সম্ভব।

source: Asia Post

Back to top button