News

আইজেনকটকে সমর্থন দিচ্ছে রা’আম, নেতানিয়াহুকে সরানোর উদ্যোগ

ইসরায়েলে প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর সরকার পরিবর্তনের প্রক্রিয়ায় নতুন সমীকরণ তৈরি হয়েছে। গাদি আইজেনকটের নেতৃত্বে নতুন সরকার গঠনের প্রস্তাব সংসদে উঠলে জোট চুক্তি চূড়ান্ত না হলেও তাতে সমর্থন দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে আরব নেতৃত্বাধীন রাজনৈতিক দল রা’আম।

ইসরায়েলি সংবাদমাধ্যম হারেৎজের এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে। দলটির আটজন সংসদ সদস্যের (এমকে) একজন জ্যেষ্ঠ নেতার বরাতে প্রতিবেদনটি প্রকাশ করা হয়।

এ সিদ্ধান্তের ফলে আইজেনকটের ৪৮ সদস্যের জোটের সরকার গঠনের উদ্যোগে নতুন সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। রা’আমের লক্ষ্য, নতুন সরকার গঠনের ক্ষেত্রে যেন আল্ট্রা-অর্থোডক্স ইউনাইটেড তোরাহ জুডাইজম (ইউটিজে) দলের সমর্থনের ওপর নির্ভর করতে না হয়।

এর ফলে সরকার গঠনের প্রক্রিয়ায় সম্ভাব্য পালটা রাজনৈতিক উদ্যোগ ঠেকানো এবং দ্রুত নেতানিয়াহুকে প্রধানমন্ত্রীর পদ থেকে সরানোর সুযোগ তৈরি হতে পারে। তবে জোট চুক্তি ছাড়াই সরকার গঠনের পক্ষে অবস্থান নেওয়ার অর্থ এই নয় যে নতুন সরকারের স্থিতিশীলতা নিশ্চিত হয়েছে।

আরো পড়ুন

এদিকে ইসরায়েলের প্রেসিডেন্ট আইজ্যাক হারজগ ৭ নভেম্বর আইজেনকটকে সরকার গঠনের দায়িত্ব দেওয়ার সিদ্ধান্ত জানান। পরে আজ রোববার স্থানীয় সময় বিকেল ৫টায় প্রেসিডেন্টের বাসভবনে আনুষ্ঠানিকভাবে তাকে এ দায়িত্ব দেওয়া হয়।

এর আগে ৫ নভেম্বর রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে পরামর্শ শেষে আইজেনকটের পক্ষে ৬৭ জন সংসদ সদস্য এবং নেতানিয়াহুর পক্ষে ৪৬ জন সংসদ সদস্যের সমর্থন আসে। সাত সদস্যের একটি দল কাউকেই সমর্থন দেয়নি। তবে এই সমর্থন সরকার গঠনের চূড়ান্ত সংখ্যাগরিষ্ঠতা নয়।

সংসদে আসন ও সরকার গঠনের সমীকরণ

গত ২৭ অক্টোবর অনুষ্ঠিত নির্বাচনে ১২০ আসনের নেসেটে নেতানিয়াহুর লিকুদ পার্টি ২৭টি আসন পায়। আইজেনকটের ইয়াশার পার্টি পায় ২১টি। আইজেনকটের নেতৃত্বাধীন জোটের শরিক নাফতালি বেনেটের বিয়াখাদ ১২, ডেমোক্র্যাটস আট ও অ্যাভিগদর লিবারম্যানের ইসরায়েল বেইতেনু সাতটি আসন পেয়েছে। সব মিলিয়ে এই জোটের আসন ৪৮।

অন্যদিকে নেতানিয়াহুর লিকুদ, ওটজমা ইয়েহুদিত, ইউনাইটেড তোরাহ জুডাইজম, শাস এবং রিলিজিয়াস জায়নিস্ট পার্টির আসন মিলিয়ে ৫৩টি। এর বাইরে আরব নেতৃত্বাধীন রা’আম আটটি ও জয়েন্ট লিস্ট ১১টি আসন পেয়েছে। সরকার গঠনের জন্য প্রয়োজন ৬১ সদস্যের সমর্থন। ফলে দুই প্রধান রাজনৈতিক শিবিরের কোনোটিই এককভাবে সংখ্যাগরিষ্ঠতা পায়নি।

এই পরিস্থিতিতে রা’আম ও জয়েন্ট লিস্টের অবস্থান গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। তবে দুই দলের কৌশলে পার্থক্য রয়েছে। হারেৎজের বরাতে টাইমস অব ইসরায়েল জানিয়েছে, জয়েন্ট লিস্ট আইজেনকটের সরকার গঠনের পক্ষে ভোট দেবে না, তবে সরকারকে ক্ষমতা থেকে সরানোর উদ্যোগেও অংশ নেবে না। অর্থাৎ, রা’আমের সমর্থন ও জয়েন্ট লিস্টের বিরোধিতা না করার অবস্থান মিলিয়ে আইজেনকটের জন্য একটি সংখ্যালঘু সরকার পরিচালনার সুযোগ তৈরি হতে পারে।

দুই আরব দলই আইজেনকটের জোটের সঙ্গে সহযোগিতা করে নেসেটের স্পিকার পরিবর্তন ও সংসদীয় কমিটিগুলো গঠনে ভূমিকা রাখতে চায়। পাশাপাশি আরব জনগোষ্ঠীর বিষয়ে সরকারি নীতিতে পরিবর্তন আনার প্রত্যাশাও রয়েছে তাদের। তবে জয়েন্ট লিস্টের সঙ্গে কোনো জোট আলোচনা চলছে না বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

আইজেনকটের জোটেই মতবিরোধ

সরকার গঠনের ক্ষেত্রে বড় বাধা আইজেনকটের নিজের জোটের ভেতরের মতপার্থক্য। জোটের গুরুত্বপূর্ণ কয়েকজন নেতা আরব দলগুলোর সমর্থনের ওপর নির্ভর করে সরকার গঠনের বিরোধিতা করছেন। বিশেষ করে ইসরায়েল বেইতেনুর নেতা অ্যাভিগদর লিবারম্যান আগে থেকেই আরব দলগুলোর সমর্থনে সংখ্যালঘু সরকার গঠনের বিরোধিতা করেছেন।

অন্যদিকে ইউনাইটেড তোরাহ জুডাইজমের সাতটি আসন আইজেনকটের জোটকে সংখ্যাগরিষ্ঠতার কাছাকাছি নিতে পারে। কিন্তু রা’আম চায় না, সরকার গঠনের ক্ষেত্রে এই অতি-ধর্মীয় দলটির ওপর নির্ভরশীলতা তৈরি হোক।

এদিকে নেতানিয়াহু নতুন সরকার গঠনের উদ্যোগের মধ্যে বৃহত্তর জাতীয় ঐক্যের সরকার গঠনের প্রস্তাব দিয়েছেন। তবে আইজেনকটের সঙ্গে তার মতপার্থক্য রয়েছে। বিশেষ করে অতি-ধর্মীয় ইহুদিদের সামরিক বাহিনীতে বাধ্যতামূলক নিয়োগ, ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর হামাসের হামলার আগে ও পরে নিরাপত্তা ব্যর্থতার তদন্ত এবং ধর্মীয় দলগুলোর সঙ্গে নেতানিয়াহুর রাজনৈতিক সমঝোতা নিয়ে দুই নেতার অবস্থান ভিন্ন।

প্রেসিডেন্টের কাছ থেকে দায়িত্ব পাওয়ার পর আইজেনকট প্রাথমিকভাবে ২৮ দিন সময় পাবেন সরকার গঠনের জন্য। প্রয়োজন হলে প্রেসিডেন্ট আরও ১৪ দিন সময় বাড়াতে পারবেন। এই সময়ের মধ্যে প্রয়োজনীয় সমর্থন নিশ্চিত করতে না পারলে পরবর্তী সাংবিধানিক প্রক্রিয়ায় অন্য কাউকে সরকার গঠনের সুযোগ দেওয়া হতে পারে। শেষ পর্যন্ত কোনো পক্ষ সরকার গঠনে ব্যর্থ হলে ইসরায়েলকে আবারও নির্বাচনের মুখোমুখি হতে হতে পারে।

source: Rajneete

Back to top button