শিক্ষার্থীদের নেতৃত্বে ডেঙ্গু প্রতিরোধে নতুন উদ্যোগ

ডেঙ্গু প্রতিরোধে কেবল মৌসুমী মশা নিধন কার্যক্রমে সীমাবদ্ধ না থেকে শিক্ষার্থীদের সরাসরি সম্পৃক্ত করে দেশব্যাপী সামাজিক আন্দোলন গড়ে তোলার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এ লক্ষ্যে ‘ডেঙ্গু অ্যাম্বাসেডর ইনিশিয়েটিভ’ নামে একটি কর্মসূচি শুরু করেছে ডেঙ্গু প্রিভেনশন ফাউন্ডেশন বাংলাদেশ (ডিপিএফবি)। এর মাধ্যমে এডিস মশার প্রজননস্থল শনাক্ত ও ধ্বংসের পাশাপাশি নিয়মিত নজরদারি কার্যক্রম সামলাবে শিক্ষার্থীরা।
রোববার (৮ নভেম্বর) রাজধানীর একাডেমিয়া স্কুলে এ কর্মসূচির প্রথম আয়োজন করা হয়। উদ্যোগটির লক্ষ্য, শিক্ষার্থীদের শুধু ডেঙ্গু সম্পর্কে সচেতন করা নয়; বরং এডিস মশার প্রজননস্থল শনাক্ত, নির্মূল ও নিয়মিত পর্যবেক্ষণে নেতৃত্ব দেওয়ার মতো দক্ষ করে তোলা।
কর্মসূচির আওতায় প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত শিক্ষার্থীরা নিজ নিজ স্কুলের পাশাপাশি বাড়ি ও আশপাশের এলাকায় এডিস মশার সম্ভাব্য প্রজননস্থল খুঁজে বের করবে। পরিবারের সদস্য ও প্রতিবেশীদেরও এসব স্থান পরিষ্কার এবং জমে থাকা পানি অপসারণে উৎসাহিত করবে তারা।
এ জন্য শিক্ষার্থীদের এডিস মশার জীবনচক্র, ডেঙ্গু সংক্রমণ, মশার প্রজননস্থল শনাক্তকরণ এবং জমে থাকা পানি অপসারণের কার্যকর পদ্ধতি সম্পর্কে প্রশিক্ষণ দেওয়া হবে। বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হবে ফুলের টব, পরিত্যক্ত পাত্র, পুরোনো টায়ার, ছাদসহ বিভিন্ন স্থানে জমে থাকা পানি এবং আড়ালে থাকা প্রজননস্থল শনাক্ত ও ধ্বংস করার বিষয়ে। যেসব স্থানে পানি অপসারণ সম্ভব নয়, সেখানে স্কুল কর্তৃপক্ষের মাধ্যমে অনুমোদিত লার্ভিসাইড নিরাপদ ও যথাযথভাবে ব্যবহারের নির্দেশনা দেওয়া হবে।
উদ্যোক্তারা বলছেন, এ কর্মসূচির অন্যতম দিক হলো ডেঙ্গু প্রতিরোধ কার্যক্রমের ফলাফল বৈজ্ঞানিকভাবে মূল্যায়ন করা। এ লক্ষ্যে শিক্ষার্থীরা প্রজননস্থলের মানচিত্র তৈরি, ঝুঁকিপূর্ণ এলাকা বা হটস্পট চিহ্নিত এবং নিয়মিত পর্যবেক্ষণের তথ্য সংরক্ষণ করবে। বিশেষজ্ঞদের তত্ত্বাবধানে হাউস ইনডেক্স, কনটেইনার ইনডেক্স ও ব্রেটো ইনডেক্সের মতো স্বীকৃত সূচক ব্যবহার করে মশার প্রজনন পরিস্থিতির পরিবর্তন মূল্যায়নের পরিকল্পনাও রয়েছে।
পাশাপাশি নতুন প্রযুক্তি ও উদ্ভাবনী নজরদারি পদ্ধতি ব্যবহারে শিক্ষার্থীদের উৎসাহিত করা হবে। স্থানীয় বাস্তবতার সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে মশা নিয়ন্ত্রণের নতুন ধারণা তৈরির সুযোগও থাকবে। এর মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের ডেঙ্গু প্রতিরোধে সচেতন নাগরিকের পাশাপাশি পরিবর্তনের প্রতিনিধি হিসেবে গড়ে তুলতে চায় ডিপিএফবি।
সচেতনতা, প্রতিরোধ ও ব্যক্তিগত সুরক্ষা- এই তিন মূলনীতির ভিত্তিতে পরিচালিত হবে কর্মসূচিটি। প্রজননস্থল ধ্বংসের পাশাপাশি মশার কামড় থেকে বাঁচতে ব্যক্তিগত সুরক্ষা, উপযুক্ত মশা প্রতিরোধক ব্যবহার এবং নিয়মিত পরিবেশ পর্যবেক্ষণের ওপর গুরুত্ব দেওয়া হবে।
ডিপিএফবির পরিকল্পনা অনুযায়ী, পর্যায়ক্রমে দেশের বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ডেঙ্গু অ্যাম্বাসেডর দল গঠন করা হবে। এসব কার্যক্রমে শিক্ষক, অভিভাবক, স্থানীয় জনগোষ্ঠী ও সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানকে যুক্ত করা হবে। এর মাধ্যমে স্কুলকেন্দ্রিক একটি ধারাবাহিক সামাজিক নজরদারি ও প্রতিরোধব্যবস্থা গড়ে তোলার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে।
ডিপিএফবির সাধারণ সম্পাদক চিকিৎসক মাসুদ খান বলেন, ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণে শুধু মৌসুমি মশা নিধন কার্যক্রম যথেষ্ট নয়। এডিস মশার প্রজননস্থল নির্মূল, নিয়মিত বৈজ্ঞানিক নজরদারি এবং জনগণের সক্রিয় অংশগ্রহণ জরুরি। শিক্ষার্থীদের নেতৃত্বে শুরু হওয়া এ উদ্যোগ একসময় দেশব্যাপী ডেঙ্গু প্রতিরোধের কার্যকর সামাজিক আন্দোলনে রূপ নেবে বলে আশা করেন তিনি।
তিনি বলেন, ডেঙ্গু প্রতিরোধ শুরু হোক স্কুল থেকে, ছড়িয়ে পড়ুক প্রতিটি পরিবার ও সমাজে। জনস্বাস্থ্য সুরক্ষায় সাধারণ মানুষের সচেতনতা ও অংশগ্রহণই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ প্রতিরোধ।
source: Asia Post







