News

সমবায় খাতকে এগিয়ে নিতে সংশ্লিষ্ট আইনগুলো সময়োপযোগী করতে হবে: রাষ্ট্রপতি

দুর্নীতির কারণে দেশের সমবায় সমিতিগুলো তাদের অতীতের অবস্থান হারিয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।

তিনি বলেছেন, সমবায় খাতকে এগিয়ে নিতে বিদ্যমান প্রতিবন্ধকতা দূর করার পাশাপাশি সংশ্লিষ্ট আইনগুলো সময়োপযোগী করতে হবে। একই সঙ্গে সমবায় সমিতির উৎপাদিত পণ্যের বাজারজাতকরণ সহজ করা এবং মধ্যস্বত্বভোগীদের দৌরাত্ম্য কমাতে কার্যকর উদ্যোগ নেওয়ার আহ্বান জানান।

রোববার (৮ নভেম্বর) রাজধানীর ওসমানী স্মৃতি মিলনায়তনে ৫৫তম জাতীয় সমবায় দিবস উপলক্ষে সমবায় অধিদপ্তর আয়োজিত অনুষ্ঠানে তিনি এসব কথা বলেন।

রাষ্ট্রপতি বলেন, সমবায় সংগঠনগুলোর ভেতরে দুর্নীতির কারণে অধিকাংশ সমিতি নষ্ট হয়ে গেছে। হাতে গোনা কয়েকটি সমিতি এখনো সফলভাবে কার্যক্রম পরিচালনা করতে পারছে। অথচ দেশের অর্থনৈতিক ও সামাজিক উন্নয়নে সমবায় আন্দোলনের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখার সুযোগ রয়েছে।

আরো পড়ুন

রাষ্ট্রপতি বলেন, ‘সমবায় শুধু পণ্য উৎপাদন কিংবা ব্যবসায়িক কার্যক্রম নয়। এর সঙ্গে জড়িয়ে আছে গ্রামীণ অর্থনীতির বিকাশ, কর্মসংস্থান সৃষ্টি, দারিদ্র্য বিমোচন এবং প্রান্তিক মানুষের জীবনমান উন্নয়নের সম্ভাবনা। এই সম্ভাবনাকে কাজে লাগিয়ে স্বাবলম্বী ও স্বনির্ভর বাংলাদেশ গড়ে তুলতে সমবায়কে কার্যকর হাতিয়ার হিসেবে গড়ে তুলতে হবে।’

তিনি বলেন, কিছু আইন সমবায়কে স্বাভাবিকভাবে এগিয়ে যেতে বাধা দিচ্ছে বলে অভিযোগ উঠেছে। বিষয়টি সংশ্লিষ্ট প্রতিমন্ত্রী, মন্ত্রণালয় এবং সংসদ সদস্যদের গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করতে হবে। প্রয়োজন অনুযায়ী আইনগুলোকে উপযোগী করে সমবায় আন্দোলনের বিকাশের পথ তৈরি করতে হবে।

রাষ্ট্রপতি বলেন, বাংলাদেশে দীর্ঘদিন ধরে এনজিও কার্যক্রম সফলভাবে এগিয়ে যাওয়ায় সমবায় খাতকে প্রতিযোগিতার মুখে পড়তে হয়েছে। তাই সমবায় সমিতিগুলোকে এমনভাবে গড়ে তুলতে হবে, যাতে তারা এনজিওগুলোর সঙ্গে প্রতিযোগিতা করে নিজেদের অবস্থান ধরে রাখতে পারে এবং কার্যক্রম সম্প্রসারণ করতে সক্ষম হয়।

তিনি বলেন, একসময় প্রতিষ্ঠানটি সংশ্লিষ্ট এলাকায় গবাদিপশু ও দুগ্ধ উৎপাদন বৃদ্ধিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছিল। বর্তমানে প্রতিষ্ঠানটি লাভ করছে বলে তিনি জানতে পেরেছেন। তবে এই লাভের পরিমাণ আরও বাড়ানোর সুযোগ রয়েছে। মিল্ক ভিটার উৎপাদিত পাস্তুরিত দুধ, মাখন, চিজ ও আইসক্রিমের মতো পণ্য আরও বেশি মানুষের কাছে পৌঁছে দিতে প্রচার-প্রচারণা বাড়ানোর ওপর জোর দেন তিনি।

সমবায় পণ্যের বাজারজাতকরণকে বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে উল্লেখ করে রাষ্ট্রপতি বলেন, উৎপাদন করলেই হবে না, সেই পণ্য যথাযথভাবে বাজারে পৌঁছে দেয়ার ব্যবস্থাও নিশ্চিত করতে হবে। এ ক্ষেত্রে সমবায় অধিদপ্তর ও মন্ত্রণালয়কে উদ্যোগ নিতে হবে। সমবায়ভিত্তিক কোম্পানি বা কমিটি গঠন করে উৎপাদকদের পণ্য বাজারজাতকরণে সহযোগিতা করা যেতে পারে। এ ধরনের কার্যকর বিপণনব্যবস্থার ঘাটতি দেশে রয়েছে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

এ ছাড়া ডিজিটাল বিপণন ও ই-কমার্সের মাধ্যমে মধ্যস্বত্বভোগীদের দৌরাত্ম্য কমানোর ওপর গুরুত্ব দেন রাষ্ট্রপতি। একই সঙ্গে তরুণ প্রজন্মকে স্টার্টআপ এবং সুনীল অর্থনীতির মতো আধুনিক ও সম্ভাবনাময় খাতে সম্পৃক্ত করার আহ্বান জানান তিনি।

source: Asia Post

Back to top button