৯ দফা দাবিতে সর্বাত্মক অবরোধ ঘোষণা, কঠোর অবস্থানে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী

৯ দফা দাবিতে বৃহস্পতিবার (৫ নভেম্বর) সকাল থেকে গাজীপুর, সাভার ও নারায়ণগঞ্জে সর্বাত্মক অবরোধ ও আন্দোলনের ঘোষণা দিয়েছে বিক্ষুব্ধ শ্রমিক-জনতা। ঘোষিত এ কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে যেকোনো ধরনের অপ্রীতিকর ঘটনা এড়াতে কঠোর অবস্থানে রয়েছেন আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা।
বৃহস্পতিবার (৫ নভেম্বর) সকালে গাজীপুরের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ স্থানে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যদের সতর্ক অবস্থান দেখা গেছে।
গার্মেন্টস শ্রমিকদের ৯ দফা দাবি:
১. নিহত শ্রমিক তৌফিক হত্যার সঙ্গে জড়িতদের অবিলম্বে গ্রেফতার করে সুষ্ঠু ও দ্রুত বিচার করতে হবে; কোনো ধরনের বিচারিক নাটক মঞ্চস্থ করা যাবে না।
২. আন্দোলন দমনে বলপ্রয়োগকারী আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যদের শনাক্ত করে তালিকা জনসমক্ষে প্রকাশ ও তাঁদের বিচারের আওতায় আনতে হবে।
৩. আন্দোলনরত শ্রমিকদের ওপর হামলাকারী অস্ত্র ও লাঠিসোঁটাসহ রাজপথে নামা রাজনৈতিক দলের সদস্যদের শনাক্ত করে বিচার করতে হবে।
৪. শ্রমিকদের ন্যূনতম মজুরি সর্বমোট ৩০ হাজার টাকা নির্ধারণ করতে হবে এবং ১ ডিসেম্বর ২০২৬ থেকে তা কার্যকর করতে হবে।
৫. মাতৃত্বকালীন ছুটি ১২০ দিনের পরিবর্তে ৬ মাস করতে হবে; ছুটি শুরুর আগেই পূর্বের ন্যায় পুরো আর্থিক সুবিধা পরিশোধ করতে হবে।
৬. শ্রমিকদের অন্যায্যভাবে ‘ব্ল্যাকলিস্ট’ (কালোতালিকাভুক্ত) করা বন্ধ করতে হবে।
৭. শ্রম আইনের ২৩৪ ধারা অনুযায়ী লভ্যাংশের ৫ শতাংশ শ্রমিকদের দেওয়ার নিয়ম থাকলেও তা দেওয়া হচ্ছে না; রপ্তানিমুখী কারখানাগুলোকে সরকারের দেওয়া এ সংক্রান্ত অব্যাহতি বাতিল করে লভ্যাংশের ৫ শতাংশ শ্রমিকদের মাঝে বণ্টন করতে হবে এবং বিগত অর্থবছরের লভ্যাংশ ডিসেম্বরের বেতনের সঙ্গে পরিশোধ করতে হবে।
৮. শ্রম আইনের ১৩ (১) ধারা বাতিল করতে হবে; এই ধারার সুযোগ নিয়ে মালিকপক্ষ স্বেচ্ছাচারী হয়ে কারখানা বন্ধ করে দেয় এবং শ্রমিকরা বেতন-ভাতা থেকে বঞ্চিত হন।
৯. নোটিশ পে (১২০ দিনের মূল বেতন) দিয়ে অনায়াসে শ্রমিক ছাঁটাই বন্ধ করতে হবে এবং কলকারখানা ও প্রতিষ্ঠান পরিদর্শন অধিদপ্তরের মাধ্যমেই এ সংক্রান্ত সব সিদ্ধান্ত নিতে হবে।
source: Asia Post







