News

ফ্রান্সে ফের বিক্ষোভের শঙ্কা, নিরাপত্তা জোরদার করেছে সরকার

ফ্রান্সে টানা তৃতীয় সপ্তাহের মতো বিক্ষোভের আশঙ্কায় দেশজুড়ে নিরাপত্তা জোরদার করেছে সরকার। সম্ভাব্য সমাবেশ ও হ্যালোইন উৎসব ঘিরে ৭০ হাজার পুলিশ ও জেন্ডারমেরি সদস্য মোতায়েন করা হয়েছে। দুই সপ্তাহ আগে বিক্ষোভ চলাকালে দোকানপাটে লুটপাট, অগ্নিসংযোগ ও পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছিল। এবার সেসব ঘটনার পুনরাবৃত্তি ঠেকাতেই ব্যাপক প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে।

ফরাসি স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী লরাঁ নুনেজ জানিয়েছেন, সহিংসতা বা বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির চেষ্টা করলে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে। সরকারের আশঙ্কা, হ্যালোইনের মুখোশ পরে কেউ কেউ পরিচয় গোপন রেখে সহিংস কর্মকাণ্ডে জড়াতে পারে।

রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, শনিবার ফ্রান্সজুড়ে প্রায় ১৫০টি সমাবেশের পরিকল্পনা রয়েছে। তবে প্যারিসের কেন্দ্রীয় এলাকায় একটি মিছিলের নির্ধারিত পথ নিয়ে আপত্তি জানায় কর্তৃপক্ষ। পরে আদালতের সিদ্ধান্তে রাজধানীর পূর্বাংশে পোর্ত দ্য বাগনোলে থেকে পোর্ত দ্য শারঁতন পর্যন্ত মিছিলের অনুমতি দেওয়া হয়।

স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, ঝুঁকিপূর্ণ এলাকাগুলোতে বাড়তি পুলিশ মোতায়েনের পাশাপাশি ড্রোন, হেলিকপ্টার, সাঁজোয়া যান ও জলকামান প্রস্তুত রাখা হয়েছে। হ্যালোইন উপলক্ষে রাত পর্যন্ত পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে বিশেষ নজরদারিও চালানো হবে।

শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের অবকাঠামোগত দুরবস্থা, শিক্ষা খাতে বিনিয়োগের ঘাটতি এবং বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তির পদ্ধতি নিয়ে শিক্ষার্থীদের অসন্তোষ থেকে আন্দোলনের সূত্রপাত। সময়ের সঙ্গে এতে যুক্ত হয়েছে জীবনযাত্রার ব্যয় বৃদ্ধি, আবাসনসংকট, জ্বালানির উচ্চমূল্য এবং সরকারি পরিষেবার মান নিয়ে ক্ষোভ।

শিক্ষার্থীদের পাশাপাশি আন্দোলনে অংশ নিচ্ছেন শ্রমিক সংগঠন ও ইয়েলো ভেস্ট আন্দোলনের সমর্থকেরাও। তাদের অভিযোগ, সরকারের বাজেট ও অর্থনৈতিক নীতির চাপ সাধারণ মানুষের ওপর গিয়ে পড়ছে।

সরকারি হিসাব অনুযায়ী, গত ১৭ অক্টোবরের বিক্ষোভে দেশজুড়ে প্রায় ৫ লাখ ৫০ হাজার মানুষ অংশ নেন। ওই দিন বিভিন্ন স্থানে লুটপাট ও অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটে। পরের সপ্তাহে, ২৪ অক্টোবর প্রায় ৪ লাখ ১০ হাজার মানুষ রাস্তায় নামেন। সেদিনও ১ হাজার ৪০০-এর বেশি মানুষকে আটক করা হয়।

স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, আন্দোলন শুরুর পর থেকে ২৯ অক্টোবর পর্যন্ত ১ হাজার ১৯৩ জন পুলিশ ও জেন্ডারমেরি সদস্য আহত হয়েছেন। তাঁদের মধ্যে কয়েকজন গুরুতর আহত হয়ে হাসপাতালে চিকিৎসা নিয়েছেন।

এদিকে শিক্ষার্থীদের দাবির বিষয়ে আলোচনার আশ্বাস দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী সেবাস্তিয়াঁ লেকর্নু। বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি প্রক্রিয়া সংস্কার, বিদ্যালয়ের অবকাঠামো উন্নয়ন এবং শিক্ষার্থীদের ভবিষ্যৎ কর্মসংস্থান নিয়ে কিছু উদ্যোগের কথাও জানিয়েছে সরকার। তবে আন্দোলনকারীদের বক্তব্য, শুধু আশ্বাসে কাজ হবে না; তাঁরা বাস্তব পরিবর্তন চান।

অন্যদিকে প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাখোঁ নির্বাচনের আগে দেশজুড়ে এ ধরনের অস্থিরতাকে অস্বাভাবিক বলে মন্তব্য করেছেন। আগামী এপ্রিলে ফ্রান্সে প্রেসিডেন্ট নির্বাচন অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা। ফলে সামাজিক অসন্তোষের পাশাপাশি রাজনৈতিক মেরুকরণও পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলছে।

সূত্র: রয়টার্স, এএফপি

source: Rajneete

Back to top button