যুক্তরাষ্ট্র হামলা চালালে যুদ্ধ ছড়াবে বিস্তৃত অঞ্চলে: ইরান

যুক্তরাষ্ট্র আবারও ইরানে সামরিক হামলা চালালে সংঘাত আরও বিস্তৃত ভৌগোলিক এলাকায় ছড়িয়ে পড়বে বলে হুঁশিয়ারি দিয়েছে দেশটির সেনাবাহিনী। ইরানের সেনাবাহিনীর মুখপাত্র ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মোহাম্মদ আকরামিনিয়া বলেছেন, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইসরায়েলের প্ররোচনায় নতুন করে সামরিক অভিযান শুরু করলে যুদ্ধের পরিণতি আর তাঁর নিয়ন্ত্রণে থাকবে না।
শনিবার (৩১ অক্টোবর) সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক বিবৃতিতে আকরামিনিয়া বলেন, যুক্তরাষ্ট্র এ অঞ্চলে আবারও সামরিক দুঃসাহসিক পদক্ষেপ নিলে যুদ্ধের আগুন আরও বিস্তৃত এলাকায় ছড়িয়ে পড়বে।
আনাদোলু এজেন্সির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, যুক্তরাষ্ট্রের বিরুদ্ধে কূটনৈতিক উদ্যোগের সঙ্গে বিশ্বাসঘাতকতার অভিযোগও তুলেছেন ইরানের এই সেনা কর্মকর্তা। তাঁর ভাষ্য, ট্রাম্পের আগের আচরণ থেকে তেহরান বুঝেছে, ওয়াশিংটনের কূটনৈতিক প্রতিশ্রুতির ওপর নির্ভর করা কঠিন। এ কারণে ইরানের সেনাবাহিনী যুদ্ধের প্রস্তুতি জোরদার করছে এবং মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন সামরিক তৎপরতার ওপর ঘনিষ্ঠ নজর রাখছে।
নতুন করে হামলা হলে যুদ্ধের পরিধি, লক্ষ্যবস্তু ও সংঘাতের ধরন আগের চেয়ে ভিন্ন হবে বলেও সতর্ক করেছেন আকরামিনিয়া। তবে সম্ভাব্য লক্ষ্যবস্তু হিসেবে কোনো দেশ বা স্থাপনার নাম উল্লেখ করেননি তিনি।
ইরানের এই হুঁশিয়ারি এমন এক সময়ে এল, যখন যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সঙ্গে সংঘাতের পর মধ্যপ্রাচ্যের নিরাপত্তা পরিস্থিতি এখনো অস্থিতিশীল। গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল ইরানে হামলা শুরু করলে পাল্টা সামরিক পদক্ষেপ নেয় তেহরান। পরে সংঘাত ছড়িয়ে পড়ে মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন এলাকায়।
এরপর জুনে ওয়াশিংটন ও তেহরানের মধ্যে একটি সমঝোতা স্মারক সই হলেও উত্তেজনা পুরোপুরি কমেনি। বিশেষ করে হরমুজ প্রণালির নিরাপত্তা, নৌ চলাচল এবং এ অঞ্চলে সামরিক উপস্থিতি নিয়ে দুই পক্ষের বিরোধ এখনো রয়েছে।
বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি পরিবহনপথ হরমুজ প্রণালি নিয়ে বিরোধকে সংঘাতের অন্যতম প্রধান কারণ হিসেবে দেখা হচ্ছে। প্রণালিটির ওপর নিজেদের নিয়ন্ত্রণ ও নিরাপত্তার স্বার্থে কঠোর অবস্থানে রয়েছে ইরান। অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্র আন্তর্জাতিক নৌ চলাচলের স্বাধীনতা নিশ্চিত করার কথা বলছে।
এই বিরোধকে কেন্দ্র করে সামরিক উত্তেজনা বাড়লে মধ্যপ্রাচ্যের বাইরেও বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহ ও বাণিজ্যে বড় প্রভাব পড়তে পারে। এর আগে ইরানের ইসলামি বিপ্লবী গার্ড বাহিনীও (আইআরজিসি) নতুন করে হামলা হলে যুদ্ধের ভৌগোলিক পরিধি বাড়ানোর হুঁশিয়ারি দিয়েছিল। বাহিনীটির মুখপাত্র হোসেইন মোহেবি বলেছিলেন, নতুন হামলার জবাবে আগে ব্যবহার না করা অস্ত্র ও নতুন কৌশল প্রয়োগ করা হতে পারে।
তবে শনিবারের সতর্কবার্তাটি আইআরজিসির পক্ষ থেকে নয়, ইরানের নিয়মিত সেনাবাহিনীর মুখপাত্রের দেওয়া। দুই বাহিনী দেশটির পৃথক সামরিক কাঠামোর অংশ হওয়ায় এ পার্থক্য গুরুত্বপূর্ণ।
আকরামিনিয়ার বক্তব্যে সামরিক প্রস্তুতি ও সম্ভাব্য পাল্টা আক্রমণের ইঙ্গিত থাকলেও নতুন কোনো অভিযান শুরুর ঘোষণা দেওয়া হয়নি। অন্যদিকে এ বক্তব্যের বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে তাৎক্ষণিক কোনো প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি। ফলে কূটনৈতিক সমঝোতার সম্ভাবনা থাকলেও দুই পক্ষের পাল্টাপাল্টি হুঁশিয়ারিতে মধ্যপ্রাচ্যে নতুন করে সংঘাত ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা রয়ে গেছে।
সূত্র: আল-জাজিরা, আনাদোলু এজেন্সি
source: Rajneete






