News

বক্তব্য প্রত্যাহার করে জনগণের কাছে আইজিপিকে ক্ষমা চাইতে হবে: জেডিপি

‘সরকার অনুমতি দিলে প্রয়োজনে পুলিশ ক্রসফায়ার করতেও পিছপা হবে না’- পুলিশের মহাপরিদর্শক (আইজিপি) মো. আলী হোসেন ফকিরের এমন বক্তব্যের প্রতিবাদ জানিয়ে জাস্টিস অ্যান্ড ডেমোক্রেসি পার্টির (জেডিপি) আহ্বায়ক নাঈম আহমাদ বলেন, আগামী ২৪ ঘণ্টার মধ্যে তাকে বক্তব্য প্রত্যাহার করে জনগণের কাছে ক্ষমা চাইতে হবে।

সোমবার (২৬ অক্টোবর) বিকেলে জাতীয় জাদুঘরের সামনে এক প্রতিবাদ সভায় এ কথা বলেন তিনি।

নাঈম আহমাদ বলেন, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর ইঙ্গিত ছাড়া কোনো পুলিশ কর্মকর্তার পক্ষে এমন মানবাধিকারবিরোধী ও গর্হিত মন্তব্য করা সম্ভব নয়। পুলিশকে ফের মানবাধিকার লঙ্ঘনের আস্কারা দিচ্ছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। আমরা আইজিপির এই বক্তব্যের তীব্র প্রতিবাদ জানাই। আগামী ২৪ ঘণ্টার মধ্যে তাকে বক্তব্য প্রত্যাহার করে জনগণের কাছে ক্ষমা চাইতে হবে।

তিনি আরও বলেন, মাসখানেক আগে ‘অপারেশন ক্লিনহার্টের’ আদলে বিচারবহির্ভূত অভিযান পরিচালনার গুঞ্জন উঠেছিল। সাম্প্রতিক বক্তব্যে আশঙ্কা তৈরি হয়েছে, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতিকে কাজে লাগিয়ে ক্রসফায়ারের পক্ষে জনমত তৈরির কোনো প্রেক্ষাপট প্রস্তুত করা হচ্ছে কি না। আইজিপির বক্তব্যে সরকারের অনুমোদনের প্রসঙ্গ তোলায় প্রশ্ন উঠেছে, পুলিশ কি এ ধরনের পদক্ষেপের জন্য সরকারের অনুমতি চাচ্ছে?

অপরাধ দমন ও জননিরাপত্তা নিশ্চিত করা রাষ্ট্রের দায়িত্ব জানিয়ে জেডিপি আহ্বায়ক বলেন, কিন্তু সেই দায়িত্ব পালনের নামে বিচারিক প্রক্রিয়ার বাইরে কাউকে হত্যা করার হুমকি দেওয়া কিংবা এমন কর্মকাণ্ডের সম্ভাবনা তৈরি করা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। অপরাধের অভিযোগ থাকলে নিরপেক্ষ তদন্ত, যথাযথ আইনি প্রক্রিয়া ও আদালতের মাধ্যমে বিচার নিশ্চিত করতে হবে। সরকারের অনুমোদন বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ডকে বৈধতা দিতে পারে না।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর সমালোচনা করে নাঈম আহমাদ বলেন, জুলাইয়ের আকাঙ্ক্ষা, জুলাই সনদের অঙ্গীকার ও গণভোটের গণরায়ের আলোকে স্বাধীন পুলিশ কমিশন গঠিত হলে আইজিপি এমন মন্তব্য করার সাহস পেতেন না। সরকার সংস্কারপ্রক্রিয়াকে বৃদ্ধাঙুলি দেখিয়ে দমন-পীড়নের পথ প্রশস্ত করছে। অথচ নিষিদ্ধ ঘোষিত আওয়ামী লীগের সন্ত্রাসীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার ক্ষেত্রে সরকারের এমন তৎপরতা দেখা যাচ্ছে না।

গণভোট বাস্তবায়ন নাগরিক ফোরামের আহ্বায়ক ফাহিম মাশরুর বলেন, পুলিশ আমাদের ট্যাক্সের টাকায় চলে। অথচ সেই পুলিশই আমাদের ক্রসফায়ার দেওয়ার অনুমতি চাইছে। এটি সুস্পষ্টভাবে আইন ও সংবিধানের লঙ্ঘন। বিএনপি গতবার ক্ষমতায় আসার পর র‍্যাব সৃষ্টি করে ক্রসফায়ারের সংস্কৃতি চালু করেছিল।

জেডিপির যুগ্ম সদস্যসচিব আব্দুল হামিদের সঞ্চালনায় প্রতিবাদ সভায় আরও বক্তব্য দেন জেডিপির সদস্য সচিব অ্যাডভোকেট আব্দুল আলিম, জেডিপির প্রধান সংগঠক আহছান উল্লাহ, মঞ্চ ২৪-এর আহ্বায়ক ফাহিম ফারুকী, বাংলাদেশ ন্যাপের মহাসচিব এম গোলাম মোস্তফা ভুইয়া, জাতীয় ছাত্রমঞ্চের মুখপাত্র সালমান শরীফ প্রমুখ।

source: Asia Post

Back to top button