News

কানাডার ভিসা জ্বালিয়াতি, ৫ বাংলাদেশির বিরুদ্ধে মামলা

ভুয়া কাগজপত্র ও মিথ্যা তথ্য ব্যবহার করে ২০৯ বাংলাদেশির জন্য কানাডার ভিসা নেওয়ার চেষ্টার অভিযোগে পাঁচ বাংলাদেশির বিরুদ্ধে মামলা করেছে কানাডা বর্ডার সার্ভিসেস এজেন্সি (সিবিএসএ)। এ ঘটনায় অভিযুক্ত চারজন বৃহস্পতিবার কুইবেকের ভ্যালিফিল্ড আদালতে হাজির হয়েছেন। পঞ্চম আসামি বর্তমানে বাংলাদেশে রয়েছেন বলে ধারণা করছেন তদন্তকারীরা।

আদালতে হাজির হওয়া চার আসামি হলেন রাসেল মির্জা, মোহাম্মদ আমিনুল ইসলাম, মুদাব্বির আলম ভূঁইয়া ও কাজী নাফিজ আলম। অপর আসামি রকিবুল হাসানের বিরুদ্ধে কানাডার আদালত গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেছেন।

বৃহস্পতিবার এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এসব তথ্য জানিয়েছে সিবিএসএ। সংস্থাটি জানায়, ২০২৪ সালের ৩ জুলাই কুইবেকের মার্সি এলাকার একটি আবাসিক ভবনে অভিযান চালায় তারা। এতে স্থানীয় পুলিশ ও ফায়ার সার্ভিসও অংশ নেয়। তল্লাশিতে কানাডার অভিবাসন ও শরণার্থী সুরক্ষা আইন লঙ্ঘনের প্রাথমিক প্রমাণ পাওয়ার পর ওই বছরের আগস্টে আনুষ্ঠানিক তদন্ত শুরু করে সংস্থাটি।

তদন্তে দেখা যায়, কানাডীয় নাগরিকদের স্বজন বা হোস্ট হিসেবে দেখিয়ে ২০৯ বাংলাদেশির জন্য মোট ২৪৩টি অস্থায়ী আবাসিক ভিসার (টিআরভি) আবেদন করা হয়েছিল। এসব আবেদনে জাল নথি ও অসত্য তথ্য ব্যবহার করে ভিসা পাওয়ার ব্যবস্থা করার অভিযোগ উঠেছে চক্রটির বিরুদ্ধে।

এরপর ২০২৫ সালের ৩ জুন কুইবেক ও অন্টারিওর চারটি স্থানে তল্লাশি পরোয়ানা কার্যকর করেন তদন্তকারীরা। এ সময় বিভিন্ন ডিজিটাল ডিভাইস ও নথিপত্র জব্দ করা হয়। মামলাটি বিস্তৃত ও জটিল হওয়ায় শক্ত প্রমাণ পাওয়া গেছে— এমন ৭৯টি আবেদনকে কেন্দ্র করে তদন্ত এগিয়ে নেয় সিবিএসএ।

অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে কানাডার অভিবাসন আইনের তিনটি ধারায় অভিযোগ আনা হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে অবৈধভাবে প্রবেশে সহায়তার ষড়যন্ত্র, ভিসার আবেদনে তথ্য গোপন বা মিথ্যা তথ্য দিতে সহায়তা এবং অভিবাসন আইন লঙ্ঘনে প্ররোচনা দেওয়ার অভিযোগ।

সিবিএসএ জানিয়েছে, মামলাটির বিচারিক কার্যক্রম বর্তমানে আদালতে চলছে।

এ ঘটনায় উদ্বেগ প্রকাশ করে কানাডার জননিরাপত্তামন্ত্রী গ্যারি আনন্দসাঙ্গারি বলেন, কানাডার অভিবাসন ব্যবস্থা সততা ও আইনের ভিত্তিতে পরিচালিত হয়। জালিয়াতিতে জড়িত ব্যক্তিদের কঠোর শাস্তির মুখোমুখি হতে হবে বলেও সতর্ক করেন তিনি।

source: Rajneete

Back to top button