হুতিদের হামলা: সৌদি আরবের পাশে ৬ উপসাগরীয় দেশ

ইয়েমেনের হুতি বিদ্রোহীদের সৌদি আরবে ধারাবাহিক হামলার নিন্দা জানিয়ে রিয়াদের প্রতি সম্মিলিত সমর্থন ঘোষণা করেছে ছয় উপসাগরীয় দেশের জোট জিসিসি। জোটের পক্ষ থেকে দেওয়া এক বিবৃতিতে হুতিদের সন্ত্রাসী সংগঠন হিসেবে ঘোষণা এবং তাদের কাছে ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন পৌঁছানো বন্ধ করার আহ্বান জানানো হয়েছে।
আল-জাজিরার খবরে বলা হয়েছে, বাহরাইনের রাজধানী মানামায় রোববার (১৮ অক্টোবর) উপসাগরীয় সহযোগিতা পরিষদের (জিসিসি) পররাষ্ট্রমন্ত্রীদের বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। ওই বৈঠক শেষেই দেওয়া বিবৃতিতে বলা হয়, জোটের কোনো একটি সদস্য দেশের ওপর হামলা হলে তা ছয় দেশের নিরাপত্তার ওপর আঘাত হিসেবে বিবেচিত হবে। তবে এ আঘাতের জবাবে সামরিক পদক্ষেপ নেওয়ার বিষয়ে সুনির্দিষ্টভাবে কিছু বলা হয়নি।
জিসিসির ছয় সদস্য হলো— সৌদি আরব, বাহরাইন, কুয়েত, ওমান, কাতার ও সংযুক্ত আরব আমিরাত। জোটের ১৬৮তম মন্ত্রী পর্যায়ের বৈঠকের চূড়ান্ত বিবৃতিতে সৌদি আরবের সার্বভৌমত্ব, নিরাপত্তা ও স্বার্থ রক্ষায় দেশটির নেওয়া পদক্ষেপের প্রতি পূর্ণ সংহতি জানানো হয়েছে।
বিবৃতিতে বলা হয়, সদস্য দেশগুলোর নিরাপত্তা অবিচ্ছেদ্য এবং যৌথ প্রতিরক্ষা চুক্তি অনুযায়ী কোনো সদস্যের ওপর আগ্রাসন সবার ওপর সরাসরি আগ্রাসন হিসেবে গণ্য হবে।
বিবৃতিতে হুতিদের বিরুদ্ধে জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদের প্রাসঙ্গিক প্রস্তাবগুলো কার্যকর করার দাবি জানানো হয়েছে। বিশেষ করে ২০১৫ সালের ২২১৬ নম্বর প্রস্তাব অনুযায়ী হুতিদের ওপর আরোপিত অস্ত্র নিষেধাজ্ঞা কঠোরভাবে কার্যকর করতে জাতিসংঘ ও আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের প্রতি আহ্বান জানিয়েছে জিসিসি। হুতিদের কাছে ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন পৌঁছাতে সহায়তা করে— এমন সব ধরনের সমর্থন বন্ধ করারও দাবি জানিয়েছে তারা।
বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচলের নিরাপত্তা নিয়েও উদ্বেগ জানিয়েছে জিসিসি। লোহিত সাগর ও বাব এল-মান্দেব প্রণালিতে জাহাজে হামলা ও চলাচলে হুমকির নিন্দা জানিয়ে জিসিসি বলেছে, এসব জলপথের নিরাপত্তা ও অবাধ নৌ চলাচল আন্তর্জাতিক স্বার্থের সঙ্গে যুক্ত।
১৫ অক্টোবর জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদের দেওয়া বিবৃতিকেও স্বাগত জানিয়েছে জোটটি। ওই বিবৃতিতে সৌদি আরবে হুতিদের হামলার নিন্দা এবং আন্তর্জাতিক আইন মেনে আত্মরক্ষার অধিকারের স্বীকৃতি দেওয়া হয়েছিল।
বৈঠকে ইয়েমেনের সার্বভৌমত্ব ও ভৌগোলিক অখণ্ডতা বজায় রাখার পাশাপাশি দেশটির সংকটের রাজনৈতিক সমাধানের ওপরও জোর দেওয়া হয়েছে। জিসিসি বলেছে, সংলাপ ও কূটনীতির মাধ্যমে সংকটের সমাধান খুঁজতে হবে। অর্থাৎ সৌদি আরবের প্রতি সম্মিলিত সমর্থন ঘোষণার পাশাপাশি ইয়েমেনে রাজনৈতিক সমাধানের পথও খোলা রাখার কথা বলেছে জোটটি।
তবে বিবৃতিতে ছয় দেশের সংহতি ও যৌথ আত্মরক্ষার অধিকারের কথা বলা হলেও হুতিদের বিরুদ্ধে নতুন কোনো সম্মিলিত সামরিক অভিযান শুরুর ঘোষণা দেওয়া হয়নি। আপাতত তাদের অবস্থান রাজনৈতিক সমর্থন, প্রতিরক্ষা সহযোগিতা এবং হুতিদের অস্ত্র সরবরাহ বন্ধে আন্তর্জাতিক চাপ বাড়ানোর মধ্যে সীমিত।
সৌদি আরবে সাম্প্রতিক সময়ে হুতিদের হামলা উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। রিয়াদের আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর ও রাষ্ট্রীয় তেল কোম্পানি আরামকোর স্থাপনাকে লক্ষ্য করে ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলার খবর পাওয়া গেছে। এসব হামলায় হতাহত ও বিমান চলাচলে বিঘ্নের পাশাপাশি সৌদির গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি অবকাঠামোর নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।
এ অবস্থায় হুতিদের বিরুদ্ধে লড়তে পুরনো সম্পর্ককে নতুন করে সামনে এনেছে সৌদি আরব ও সংযুক্ত আরব আমিরাত। চলতি বছরের শুরুর দিকে মতবিরোধের জের ধরে দুই দেশ হুতিবিরোধী অবস্থান থেকে আলাদা হয়ে যায়। রোববার দুই দেশ জানিয়েছে, আমিরাত ইয়েমেনের হুতিবিরোধী দক্ষিণাঞ্চলীয় বাহিনীগুলোকে ফের অর্থসহায়তা দিতে শুরু করবে। বিনিময়ে এসব বাহিনীকে আকাশপথে সামরিক সুরক্ষা দেবে সৌদি আরব।
এ ছাড়া হুতিদের হামলা থেকে সৌদি আরবকে রক্ষায় প্রয়োজনীয় সামরিক সহায়তা দেওয়ার প্রস্তুতি ঘোষণা করেছে মিসরও। দেশটির প্রেসিডেন্ট আবদেল ফাত্তাহ আল-সিসির সভাপতিত্বে মিসরের জাতীয় প্রতিরক্ষা পরিষদ এ সিদ্ধান্ত নিয়েছে। প্রয়োজনে সৌদি আরবের প্রতিরক্ষায় মিসরের সেনা মোতায়েনের অনুমোদন দিতে দেশটির পার্লামেন্টে জরুরি অধিবেশনও ডাকা হয়েছে।
source: Rajneete







