News

পূজায় ২৪ ঘণ্টা প্রস্তুত থাকবে ফায়ার সার্ভিসের ৫৩৮ স্টেশন : মহাপরিচালক

শারদীয় দুর্গাপূজা উপলক্ষে দেশের সব পূজামণ্ডপের অগ্নিনিরাপত্তা নিশ্চিত করতে পূর্ণাঙ্গ প্রস্তুতি নিয়েছে ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স। পূজা চলাকালে দেশের ৫৩৮টি চালু ফায়ার স্টেশন স্ট্যান্ডবাই ডিউটিতে থাকবে। পাশাপাশি কেন্দ্রীয় ও বিভাগীয় নিয়ন্ত্রণ কক্ষ ২৪ ঘণ্টা চালু রেখে যেকোনো জরুরি পরিস্থিতিতে দ্রুত সাড়া দেওয়ার ব্যবস্থা রাখা হয়েছে।

শনিবার (১৭ অক্টোবর) দুপুর ১২টায় রাজধানীর কাজী আলাউদ্দীন রোডে ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স সদর দপ্তরের সম্মেলন কক্ষে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানান প্রতিষ্ঠানটির মহাপরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল সুলতানুল আফরীন জুনাইদ।

তিনি বলেন, প্রতিবছরের মতো এবারও সনাতন ধর্মাবলম্বীদের সবচেয়ে বড় ধর্মীয় উৎসব শারদীয় দুর্গাপূজাকে কেন্দ্র করে অগ্নিনিরাপত্তায় বিস্তারিত কর্মসূচি গ্রহণ করা হয়েছে। পূজা চলাকালে দেশের সব ফায়ার স্টেশন নিজ নিজ এলাকার পূজামণ্ডপগুলোর অগ্নিনিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ করবে এবং স্থানীয় প্রশাসন ও পূজা কমিটির সঙ্গে সার্বক্ষণিক যোগাযোগ রাখবে।

ফায়ার সার্ভিসের কর্মকর্তারা পূজামণ্ডপ পরিদর্শনের সময় সম্ভাব্য অগ্নিঝুঁকি চিহ্নিত করবেন। ঝুঁকি থাকলে তা নিরসনে প্রয়োজনীয় পরামর্শ দেওয়ার পাশাপাশি জরুরি প্রয়োজনে দ্রুত সহায়তা পাওয়ার জন্য নিকটস্থ ফায়ার স্টেশনের ফোন নম্বর ও ফায়ার সার্ভিসের ১০২ হটলাইন নম্বর প্রচার করা হবে।

মহাপরিচালক জানান, বিভিন্ন এলাকায় নিয়োজিত অস্থায়ী ফায়ার স্টেশনগুলোও পূজার সময় সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থায় থাকবে। ফায়ার স্টেশনের পাশাপাশি ফায়ার সার্ভিসের সব বিভাগ, জেলা ও জোনের কর্মকর্তারা স্ট্যান্ডবাই ডিউটিতে থাকবেন। তারা পূজামণ্ডপ পরিদর্শনের পাশাপাশি যেকোনো জরুরি পরিস্থিতি মোকাবিলায় প্রস্তুত থাকবেন।

তিনি আরও জানান, কেন্দ্রীয় নিয়ন্ত্রণ কক্ষসহ সব বিভাগীয় নিয়ন্ত্রণ কক্ষ ২৪ ঘণ্টা সতর্ক অবস্থায় দায়িত্ব পালন করবে। কোনো স্থান থেকে জরুরি সহায়তার খবর এলে ঘটনাস্থলের নিকটবর্তী এক বা একাধিক ফায়ার স্টেশনকে তাৎক্ষণিকভাবে রেসপন্স করার নির্দেশ দেওয়া হবে।

পূজামণ্ডপগুলোর অগ্নিনিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ফায়ার সার্ভিসের বিভাগীয় ও জেলা কার্যালয় এবং ফায়ার স্টেশনগুলো স্থানীয় প্রশাসনের সঙ্গে সার্বক্ষণিক সমন্বয় বজায় রাখবে। স্থানীয় প্রশাসনের নির্দেশনা অনুযায়ী প্রয়োজনীয় সিদ্ধান্ত গ্রহণ ও তা বাস্তবায়ন করা হবে।

এ ছাড়া প্রতিমা বিসর্জনের সময় বিশেষ নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেওয়া হবে। বিসর্জনস্থলে ফায়ার সার্ভিসের জনবল ও স্বেচ্ছাসেবকদের পাশাপাশি রোড রেসকিউ ইকুইপমেন্ট ও অ্যাম্বুলেন্স মোতায়েন থাকবে। প্রয়োজন অনুযায়ী রাতে লাইটিং ইউনিটও প্রস্তুত রাখা হবে।

ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের সদর দপ্তর, বিভাগীয় ও জেলা সদরে নিয়ন্ত্রণকক্ষ স্থাপন করে আওতাধীন ফায়ার স্টেশনগুলোর সঙ্গে সার্বক্ষণিক যোগাযোগ রাখা হবে বলেও সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়।

সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত গণমাধ্যমকর্মীদের বিভিন্ন প্রশ্নের জবাব দিয়ে মহাপরিচালক বলেন, সচেতনতাই সুরক্ষা।

অগ্নিনিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ফায়ার সার্ভিসের দায়িত্ব পালনের পাশাপাশি জনসচেতনতা বৃদ্ধিতেও গণমাধ্যমের সহযোগিতা প্রয়োজন বলে তিনি উল্লেখ করেন।

source: Asia Post

Back to top button